চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে মুখোমুখি মাদ্রিদ-জুভেন্টাস : কি হয়েছিল তাদের আগের ফাইনালে?

ওয়েলসের কার্ডিফে এবারের ভ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে জিনেদিন ইয়াজিদ জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির জুভেন্টাস। গত প্রায় বিশবছর ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগ না জেতা জুভেন্টাস এবার মরিয়া হয়ে চাচ্ছে ট্রফিটা জিততে, অন্তত তাদের কিংবদন্তী গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের জন্য, যিনি কিনা ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য দলগত শিরোপা সবগুলো জিতলেও এই এক চ্যাম্পিয়নস লিগই জেতেননি এখনো পর্যন্ত। আর ওদিকে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কৃতিত্ব গড়তে চায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। জিদান কি পারবেন দেড় বছরের ছোট কোচিং ক্যারিয়ারে দুইবারের মত চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে? গঞ্জালো হিগুয়াইন কি জাতীয় দলের হয়ে ফাইনালের ব্যর্থতা ভোলাতে পারবেন ক্লাব কাপের ফাইনালে এসে? ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি নিজেকে আরেকটু উঁচুতে উঠিয়ে নিয়ে যাবেন নাকি দানি আলভেস ক্যারিয়ার সায়াহ্নে এসে সাবেক শত্রু মাদ্রিদকে আরেকবার শিরোপা বঞ্চিত করবেন – সব প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে আজ রাত ১২.৪৫ থেকে।

তবে রিয়াল মাদ্রিদ আর জুভেন্টাস কিন্তু এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেনা। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই দুই ক্লাব প্রায় উনিশ বছর আগে ১৯৯৮ সালের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল, যে ফাইনালে যুগোস্লাভিয়ার স্ট্রাইকার প্রেদ্রাগ মিয়াতোভিচের একমাত্র গোলে জুভেন্টাসকে হারিয়ে বত্রিশ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে মাদ্রিদিস্তারা।

নব্বইয়ের দশকে মাঝামাঝিতে চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাস ছিল এক অদম্য শক্তি। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা তিনবার ফাইনালে উঠেছিল তাঁরা এই প্রতিযোগিতার। ১৯৯৬ সালে ফাইনাল জেতা জুভেন্টাসের আর পরের দুইবার ফাইনালে আর জেতা হয়নি।

জার্মান কোচ ইয়াপ হেংকেস সেদিন রিয়াল মাদ্রিদকে সাজিয়েছিলেন ৪-৪-২ ডায়মন্ড ফর্মেশানে। জার্মান গোলরক্ষক বোদো ইংগারের সামনে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে দুই স্প্যানিয়ার্ড ফাররান্নদো হিয়েরো আর অধিনায়ক ম্যানুয়েল স্যানচিসের জুটি আর দুইদিকে দুই ফুলব্যাক – ইতালিয়ান রাইটব্যাক ক্রিস্টিয়ান পানুচ্চি আর ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী লেফটব্যাক রবার্তো কার্লোস, এই ছিল রিয়ালের ডিফেন্স। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের একটু সামনে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে ছিলেন সবসময় পাদপ্রদীপের আড়ালে থাকা আর্জেন্টাইন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফার্নান্দো রেডোন্ডো, তাঁর সামনে দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ছিলেন – বামদিকে ডাচ পাওয়ারহাউজ মিডফিল্ডার ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ আর ডানদিকে ফরাসী তারকা ক্রিস্টিয়ান কারিমবেউ। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে সেদিন খেলেছিলেন রিয়াল কিংবদন্তী রাউল গঞ্জালেস, আর দুই স্ট্রাইকার হিসেবে ছিলেন স্প্যানিশ তারকা ফার্নান্দো মরিয়েন্তেস আর যুগোস্লাভিয়ার স্ট্রাইকার প্রেদ্রাগ মিয়াতোভিচ।

ওদিকে মার্সেলো লিপ্পির অধীনে জুভেন্টাস যথারীতি সেজেছিল ৩-৫-২ ফর্মেশানে। তিন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার মরেনো টরিসেলি, মার্ক ইউলিয়ানো আর পাওলো মন্টেরোর সামনে দুই উইংব্যাক ছিলেন ডানদিকে অ্যাঞ্জেলো ডি লিভিও আর বামদিকে জিয়ানলুকা পেসোত্তো। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে দুই কিংবদন্তী – ফরাসী তারকা দিদিয়ের দেশম ও ডাচ তারকা এডগার ডাভিডস। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে ছিলেন এখনকার রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান আর দুই স্ট্রাইকারের ভূমিকায় ছিলেন দুই ইতালিয়ান অ্যালেসসান্দ্রো দেল পিয়েরো আর ফিলিপ্পো ইনজাঘি। গোলরক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো পেরুজ্জি।

প্রথম আক্রমণ হানে জুভেন্টাসই। দেল পিয়েরোর পাস থেকে মোটামুটি মাঝমাঠ থেকেই জোরে শট করেন দেশম, সরাসরি যা চলে যায় বোদো ইংগারের হাতে। এর কিছুক্ষণ পরেই আরেক প্রান্তে অতি সহজ একটা সুযোগ মিস করেন রিয়াল তারকা রাউল, বাম দিক থেকে ভয়ংকরভাবে তেড়ে আসা মিয়াতোভিচের পাস থেকে সহজ এক ট্যাপ ইনে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে এডগার ডাভিডসের ক্রস থেকে ইনজাঘির বামপায়ের একটি দুর্দান্ত ভলি আটকে দেন ইংগার। কিছুক্ষণ পরেই রিয়ালকে এগিয়ে দেন মিয়াতোভিচ। পরে জিদান, ডাভিডস, দেল পিয়েরোরা হাজার চেষ্টা করেও গোলটা আর শোধ করতে পারেননি।

আজকেও কি জুভেন্টাসের ভাগ্যে সেদিনের মত হারই লেখা আছে? নাকি প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে হারবে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা? দেখা যাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seventeen + 11 =