ঘুণপোকা গুলো বিদায় নিয়েছে হয়ত হাথুরুসিহের সঙ্গেই…

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে প্রথম সফরেই হাথুরুসিংহে আবিষ্কার করেছিলেন, এই ছেলেটা শর্ট বলে দুর্বল… এই ছেলেটাকে হাথরুসিংহে ওয়ানডে দলে রাখতে চাননি, বিশ্বকাপে নিতে চাননি। অধিনায়কের সঙ্গে পেরে ওঠেননি বলে বাধ্য হয়েছিলেন নিতে। পরে অধিনায়ককে না জানিয়েই বাদ দিয়েছিলেন। একাদশেতো বটেই, ওয়ানডে স্কোয়াডেও জায়গা না থাকায় ছেলেটার বড় বিপদ হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের বাস্তবতায় শুধু টেস্ট খেলে নিজেকে কতটা তৈরি রাখা যায়! এই ছেলেটার তখন আরও দু:সময়। টেকনিক্যালি একটু সমস্যা হচ্ছিলো। কোচ হাথুরুসিংহে সেটি নিয়ে কাজ না করে ঘোষণা করলেন ছেলেটি অফ স্পিন খেলতে পারে না… এই ছেলেটাকে টেস্ট স্কোয়াড থেকেই বাদ দেওয়া হলো। সংবাদমাধ্যমের প্রবল সমালোচনার পর বোর্ড প্রধানের হস্তক্ষেপে ফেরানো হলো আরেকজনের বদলী হিসেবে। প্রথম অনুশীলন সেশনে ছেলেটিকে হাথুরুসিংহে এমন ভাষায় স্বাগত জানালেন, যেটি স্তম্ভিত করে দিল দলের সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে। একজন কোচ নিজের ক্রিকেটারকেই এত বাজে ভাবে বলতে পারেন! সংবাদ সম্মেলনে কোচকে জিজ্ঞেস করা হলো, “যে ছেলেটি আগে এত ভালো ছিল, সে আপনার সময়ে এত খারাপ হয়ে গেলে,কোচ হিসেবে আপনার দায় কতটুকু? তার সমস্যা থাকলে তো শুধরে দিতে পারেন?” হাথুরুসিংহে পাথুরে মুখে বলেছিলেন, “আমার দায় নেই…” এসব বড় বড় ঘটনার মাঝে ছিল অসংখ্য ছোট ছোট অবজ্ঞা, বঞ্চনা, অবহেলার ছোবল। প্রতিটিই ছিল একেকটি ঘুন পোকা। ছেলেটির আত্মবিশ্বাস খেয়ে প্রায় শেষ করে দিয়েছিল… প্রথম ১২ টেস্টে ৪ সেঞ্চুরি ছিল ছেলেটির। গড় তখনও ৭৫… হাথুরুসিংহে জমানায় একটি সেঞ্চুরিও হলো না, গড় নামল। গড় কমল… হাথুরুসিংহে জমানা শেষে প্রথম টেস্টেই সেই ছেলেটির জোড়া সেঞ্চুরি। নতুন অধ্যায়, নতুন ইতিহাস… ঘুণপোকা গুলো বিদায় নিয়েছে হয়ত হাথরুসিহের সঙ্গেই!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 + fourteen =