আরবেলোয়া – এক নিঃস্বার্থ মাদ্রিদিস্তা

ফুটবল !

দ্য গ্রেটেস্ট গেইম অন দ্য আর্থ ।

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল তার সৌন্দর্যের প্রভাব বজায় রেখেছে শতাব্দীর পরিক্রমায় । ফুটবল তার এই শ্রেষ্ঠত্বের স্বকীয় স্বীকৃতি কিন্তু আপনা আপনি পায়নি ।

নেপথ্যর নায়ক ঐ মাঠে দৌড়ানো বিস্ময় মানবগুলো ।

গ্রেটেষ্ট গেইমের সৌন্দর্য্যে কেউ হয়েছে বিকশিত আবার কেউবা জন্ম দিয়েছে শত প্রকারের ফুটবল সৌন্দর্য্য প্রশাখার ।

ব্যক্তিগত অর্জনে কেউবা কেড়েছে বিশ্ব সমীহ, আবার দলীয় অর্জনে কেউবা স্থাপন করে গেছে স্বীয় অমরত্বের প্রতিমূর্তি ।

ফুটবলকে ভালোবেসে প্রাপ্তির খাতা পরিপূর্ণ সকল নামেই । যুগে যুগে ফুটবলের প্রতি ভালবাসা ও আত্নত্যাগে ফুটবলাররা রুপকথা সৃষ্টি করেছে ।

ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জন ছাঁপিয়ে ফুটবল ও দলের প্রতি ভালবাসা কাউকে দিয়েছে এক ব্যতিক্রমী সুউচ্চ সম্মাননা ।

এদেরই একজন আলভারো আরবেলোয়া ।

পুরো নাম আলভারো আরবেলোয়া কোকা । রিয়াল মাদ্রিদে ১৭ নম্বর জার্সিধারী এই ফুটবলারের জন্ম ১৭ জানুয়ারী ১৯৮৭, স্পেনের স্যালামান্কায় ।

ইউরোপীয়ান ফুটবলের অন্যতম পীঠস্থান স্পেনে জন্ম নেওয়া আরবেলোয়া স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল অঙ্গনে পা রাখেন ।

তার একাডেমিক ফুটবল হাতেখড়ি ১২ বছর বয়সে রিয়েল জারাগোজায় । ১৯৯৫-২০০১ ইয়ূথ ক্যারিয়ারে তার দল অ্যারাগনের এই ক্লাবটি ।

তরুণ আরবেলোয়া
তরুণ আরবেলোয়া

কৈশোর পেরুতে না পেরুতেই আরবেলোয়া এবার যোগ দেয় ফুটবল বিশ্বের সবথেকে ঐতিহ্যবাহী দল রিয়াল মাদ্রিদের ইয়ূথ দলে । ১৮ তে পাওয়া আরবেলোয়া রিয়ালের ইয়ূথ দলে আসেন ২০০১ সনে । ২০০২/০৩ মৌসুমে উন্নীত হোন রিয়ালের C টিমে । এ সময় তিনি দলের হয় খেলেন ১৬টি ম্যাচ । পরের মৌসুমে রিয়ালের বি টিম কাস্তিয়ায় ডাক পড়ে তার । এখানে তার ব্যাপ্তী ২০০৩-২০০৬ ।

এ সময় তার উল্লেখযোগ্য দলীয় অর্জন ছিল ১৪ বছর পর কাস্তিয়ার Segunda Division এ ফেরা ।

প্রায় চার বছরের একাগ্রতা আর পরিশ্রমের চূড়ান্ত ফল এবার হাতে পায় এই ফুলব্যাক । ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর রিয়াল মাদ্রিদের মুল দলে ডাক আসে তার । রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলী খেলোয়ার হিসেবে নামেন তিনি । ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র করে তার দল ।

২০০৪-০৬ পর্যন্ত মুল দলের সাথে থাকলেও মাঠে প্রায় নামায় হয়নি তার । এ দুই বছরে সর্ব সাকুল্যে তাকে মাঠে নামতে হয়েছে মাত্র দুবার । হঠাত্‍ করেই এবার তাকে দল ছাড়তে হয় । ২০০৬ সালের ২৪ জুলাই দেপোর্তিভো দে লা করুনায় পাড়ি জমায় এই ভার্সেটাইল ফুলব্যাক । মাদ্রিদ ত্যাগের প্রারম্ভে তিনি বলেন- ”This is a strange situation for me; I have been playing for Real Madrid for five years, since I was 16, Real always has the best players. Three were eight defenders in the squad, something had to give in.”

দেপোর্তিভোর আরবেলোয়া
দেপোর্তিভোর আরবেলোয়া

দেপোর্তিভোয় তার অধ্যায় অবশ্য দীর্ঘ হতে দেয়নি লিভারপুলের তত্‍কালীন কোচ রাফায়েল বেনিতেজ । ৩১ জানুয়ারী ২০০৭ এ দেপোর্তিভোর ছয় মাস যাত্রার ইতি টেনে আরবেলোয়া এবার পাড়ি জমায় ইউরোপীয়ান ফুটবলের আরেক তীর্থস্থান ইংল্যাণ্ডে ।

070201-012-Liverpool_-Arbeloa

দিন দশেক পর অর্থাত্‍ ১০ জানুয়ারীতে প্রিমিয়ার লীগে অভিষেক ঘটে তার । জার্মেইন পেনান্টের বদলী হিসেবে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামেন তিনি । পরবর্তীকালে এই পেনান্টকে তিনি তার দেখা সবচেয়ে সেরা ড্রেসিরুম সতীর্থের সম্মান দিয়েছিলেন ।

এবার যাত্রা লিভারপুলে
এবার যাত্রা লিভারপুলে

রেডসের হয়ে কোকার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ অভিষেক হয় ২০০৬/০৭ মৌসুমে । ক্যাম্প ন্যু’র সেই ম্যাচটিতে লিভারপুল কোচ তাকে লেফট ব্যাকে নামিয়ে দেন । উদ্দেশ্য, কোকার স্ট্রং রাইট ফুটে লিও মেসিকে আটকানো । ম্যাচটি ২-১ ব্যবাধানে জিতে ঘরে ফিরে তার দল । দ্য রেডসের হয়ে আরবেলোয়া তার প্রথম গোলটি করেন ৭ই এপ্রিল ২০০৭ এ রিডিংয়ের বিপক্ষে । সে বছরই তার দল ইউসিএলের ফাইনালে উঠলেও এসি মিলানের কাছে হেরে যায় ১-২ ব্যবধানে । ম্যাচটিতে কোকা নেমেছিলেন একদম অন্তিম মুহুর্তে স্টিভ ফিন্যানের বদলী হিসেবে । ২০০৭/০৮ মৌসুমে কোকা তার জার্সি নম্বর #২ থেকে #১৭ তে পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় । পরে এক সাক্ষাত্‍কারে জার্সি নম্বর বদলের ব্যাখায় তিনি বলেন- “17 has always been my number. It was the number I wore when I was captain of Castilla and also when I was at depor. When I came to Liverpool Craig Bellamy wore that shirt so I couldn’t have it, so when he left I asked if I could switch numbers and thankfully it was possible. মজার ব্যাপার হলো ইংরেজীতে আরবেলোয়ার গোটা নামটিতে ১৭ টি অক্ষর আছে ।

১৭ নাম্বারের প্রতি তাঁর বরাবরই ছিল আগ্রহ
১৭ নাম্বারের প্রতি তাঁর বরাবরই ছিল আগ্রহ

রিয়াল মাদ্রিদ, দেপোর্তিভো ও লিভারপুলে খেললেও স্বপ্নের জাতীয় দল তখনও অধরা আরবেলোয়ার । অবশেষে ২০০৮ এর পয়লা ফেব্রুয়ারীতে স্পেন জাতীয় দলে ডাক পান তিনি । মালাগায় ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ডাক পেলেও ইনজুরির কারণে সূচনাতেই তার স্বপ্নভঙ্গ । অবশেষে পরের মাস অর্থাত্‍ মার্চের ২৬ তারিখে ইতালির বিপক্ষে জাতীয় অভিষেক হয় তার । সে বছরই উয়েফা ইউরোতে দলে জায়গা পেয়ে যান তিনি । তার অংশগ্রহণকৃত গ্রুপ পর্বের সেই একমাত্র ম্যাচে গ্রীসের বিপক্ষে ২-১ এর এক আশ্চর্য জয় পায় স্পেন । এরই ধারাবাহিকতায় পরের বছর ফিফা কনফেডারেন কাপেও দলে জায়গা পান আরবেলোয়া ।

১৭ মে ২০০৯ এ ওয়েস্ট ব্রুমউইচের বিপক্ষে মাঠে নেমে ক্লাব সতীর্থ লিভারপুলের Jamie Carragher এর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন আরবেলোয়া ।

বিবাদ থামাতে এগিয়ে আসেন সতীর্থ ড্যানিয়েল আগার, জাবি আলোনসো, ইমিলিয়ানো ইনসুহা ও পেপে রেইনা । jammie পরে এ ব্যাপারে বলেন- “we want to keep a clean sheet and we want Pepe to have a chance of the Golden Glove for the fourth season running.”

বিবদমান ক্যারাঘার-আরবেলোয়া
বিবদমান ক্যারাঘার-আরবেলোয়া

আরবেলোয়ার বাঁজে ডিফেন্সে নাকি চটেছিলেন জেমি । কোচ বেনিতেজ অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি । ২০০৭-২০০৯ পর্যন্ত রেডস ক্যারিয়ারে মোট ৯৮টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন কোকা । দ্য রেডস অধ্যায়ে তার পা থেকে আসে ৪টি গোল ।

২০০৯ এর ২৯শে জুলাই এবার ঘরে ফেরেন কোকা । পাঁচ মিলিয়ন ইউরোতে পাঁচ বছরের জন্য মাদ্রিদের সাথে কন্ট্র্যাক্ট করেন তিনি । মাদ্রিদে তার প্রথম মৌসুমটা কাটে লেফট ব্যাক হিসেবেই । লস ব্ল্যান্কোসদের হয়ে তার প্রথম গোলটি আসে ২০১০ এর ১৩ ফেব্রুয়ারী xerez cd এর বিপক্ষে । অ্যাওয়ে ম্যাচটিতে তার দল জয় পায় ৩-০ ব্যবধানে । সাদা মাদ্রিদের হয়ে তার ২য় গোলটি অবশ্য বেশ তাত্‍পর্যপূর্ণ ।

ঘরের ছেলে ফিরলেন ঘরে
ঘরের ছেলে ফিরলেন ঘরে

পরের মাসের ২৮ তারিখে মাদ্রিদ ডার্বিতে ডেভিড ডি গেয়ার বিপক্ষে গোল করেন তিনি । এ ম্যাচেও মাদ্রিদ জয় পায় । ব্যবধান ছিল ৩-২ ।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে প্রথম গোল আসে কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে ।

গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে আয়াক্সের বিপক্ষে মরিনহো বাহিনী জয় পায় ৪-০ এর বড় ব্যবধানে ।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞে স্পেন দলে সম্মানীয় ডাক পেয়ে যায় কোকা । গ্রুপ পর্বে হুণ্ডুরাসের বিপক্ষে তার অংশগ্রহণকৃত ম্যাচটিতেও জয় পায় ইউরো জয়ী স্পেন ।

Alvaro-Arbeloa-006

সে আসরে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ ট্রফি জেতে আরবেলোয়ার স্পেন । ২০১১ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সেন্টার ব্যাক রিকার্ডো কার্ভালহো দীর্ঘ ইনজুরিতে পড়লে রাইটব্যাক সার্জিও রামোসকে সেন্টারে আনেন মরিনহো । ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাইট ব্যাকে তখন উত্তম পছন্দ হিসেবেই স্থানান্তরিত হয় ভার্সেটাইল ফুলব্যাক আরবেলোয়া । এরপর এ পজিশনেই থিঁতু হোন তিনি । ২০১২ সালের পয়লা আগস্টে কোকা মাদ্রিদের সাথে তার চুক্তি নবায়ণ করে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ।

সে বছরই কার্লেস পুয়োলের অনুপস্থিতিতে ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপে স্পেন কোচ দেল বস্ক তার দলে কোকাকে অন্তর্ভুক্ত করেন । দলীয় সাফল্য এবারও দু হাত ভরে । টানা দ্বিতীয়বারের মত ইউরোপ সেরা হয় তার দেশ স্পেন । একজন ফুটবলার হিসেবে ব্যক্তিগত অর্জনে খুব বেশি সাফল্য পায়নি আরবেলোয়া ।

৩০ পেরুনোর পর ধার কমে যাওয়া কোকা সুযোগ পেলেও ক্লাব ও দেশে বারবার তার জায়গা খুঁইয়েছে । জুয়ানফ্রাঁ ও কার্ভাহালদের সাথে প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে যেতে থাকলে বেঞ্চই হয় তার সঙ্গী ।

33311044

দীর্ঘদিনের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে পড়ন্ত ফর্মের কারণে উপেক্ষিত থাকলেও তাতে যেন তার এতটুকু অভিমান ছিলোনা ।

দলে জায়গা হারানোর পর বেঞ্চ যখন তার দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী হয় কোকা অনায়াসেই তখন ক্লাব ছাড়তে পারতেন । ২০১৪/১৫ মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেষ্টার সিটি আগ্রহ দেখালেও মাদ্রিদ ছাড়েনি আরবেলোয়া ।

রক্ষণ প্রহরী আরবেলোয়া পড়ন্ত ছঁন্দে মাঠের বাইরে থাকলেও ‘অফ দ্য ফিল্ড’ তার দলকে রক্ষা করেছেন বিভিন্ন সমালোচনা ও কটুক্তি থেকে । ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এবং টুইটারে রাইভাল ও সমালোচকদের বেশ চতুরতার সাথেই মোকাবেলা করতেন এই স্প্যানিয়ার্ড । রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি অগাধ ভালবাসা ও অনুসরণীয় আনুগত্য তাকে ভক্ত-সমর্থকদের মনে এক বিশেষ স্থান দিয়েছিল । যার উচ্ছ্বল প্রমাণ মেলে যখন তিনি সম্প্রতি মাদ্রিদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ।

দীর্ঘ দিনের সম্পর্কটা কাগজে কলমে ইতি টানার ঘোষণায় মাদ্রিদ শিবিরে এক শোকের ছায়া ফেলে দেয় । শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা নিতেই হয়েছে কোকাকে । দলে তার জায়গায় বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক তারই স্বদেশী কার্ভাহাল । যার বিকল্পেও কিনা তার নাম নেই । জায়গাটিতে আসন গেঁড়েছেন ব্রাজিলিয়ান প্রতিশ্রুতিশীল দানিলো । গুডবাই তাই জানাতেই হল ।

BorNt7HCEAIQ08o

তবে এ বিদায় জানানো যে সুখের ছিলোনা তা খোদ কোকার বক্তব্যই বলে দেয় । দীর্ঘ দিনের ভালবাসার পরিবারটিকে ছাড়ার কষ্ট যেন কোকাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী মাদ্রিদ শিবিরে ।

০৮-০৫-২০১৬ তে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মাদ্রিদ অবসরের মঞ্চ তৈরি হয় আরবেলোয়ার । দীর্ঘ দিনের সতীর্থ ও বন্ধুকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত হয় মাদ্রিদ দল, প্রস্তুত হয় মাদ্রিদ কোচ, প্রস্তুত হয় ঐতিহাসিক স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যু । বিদায়ী ম্যাচে ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বদলী হিসেবে নামেন এই চির সবুজ মাদ্রিদ প্রেমী । ৮৭ মিনিটে তার ও কোভাসিচের যৌথ প্রচেষ্টায় রদ্রিগেজ গোল করলেও রেফারি তা ফাউলের অভিযোগে বাতিল করে দেন ।

শেষতক ম্যাচটা ৩-২ এ জেতে তার প্রিয় মাদ্রিদ । বাহ্যিক শক্ত হৃদয়ের মানুষ আরবেলোয়া । গ্যালারীতে দর্শকারা যখন তার প্রিয় ১৭ নম্বর জার্সিটির দৈত্যকৃতি নিয়ে তাকে বিদায় জানাচ্ছিলো, তখন বেশ হাসি মুখেই তার জবাব দেন তিনি । চোখের কোণে তার এক ফোঁটা জল তখন যেন বলে দিচ্ছিলো হৃদয়ে রীতিমত রক্তক্ষরণের জলোচ্ছ্বাস বইছে । বিদায়কালে কোকা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন গোটা মাদ্রিদ ভক্ত শিবিরকে । কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মাদ্রিদ কর্তা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে । পেরেজকে পাঠানো এক জার্সিতে তিনি লিখেছেন, ” To the president, who brought me here 15 years ago,”

the shirt reads.

“When you left, I went with you, and in 2009 you brought me back home.

“I will always be thankful.”

একজন ফুটবলার হিসেবে আরবেলোয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ে নানা মত থাকবে । তবে একজন বন্ধু ও সতীর্থ হিসেবে সে ছিল উত্তম । হোসে মরিনহো আরবেলোয়া সম্পর্কে বলেন, Arbeloa is a friend, not just a player for me.

Why does a player become a friend?

He is an example of passion for his profession, love for his club and dedication to a working group and its objectives.

He brought humility and honour to the relationship with all those who worked with him day to day.

Over history, our huge club will have many of the best players in the world.

Arbeloa does not have that high profile, but is certainly one of those who has given Real Madrid, its fans, all of his coaches and his teammates all that he had.

I only have words of gratitude for him.

In my 16 years of coaching I have him, surely, on the podium of the most important players with whom I have worked.

He is a good player and an exceptional man.

jose-mourinho-arbeloa-1462623943365

কোকার এক স্বদেশী ও সময়ের মাদ্রিদ সতীর্থ জাবি আলোন্সোর চোখে, ‘আরবেলোয়া একজন উত্তম বন্ধু, একজন সেরা মাদ্রিদিস্তা, সেরা মানুষ” ।

একজন আরবেলোয়ার ব্যক্তিগত অর্জন যতটা বিবর্ন ঠিক ততটাই উজ্জ্বল তার দলীয় অর্জন ।

ফুটবলের সম্ভাব্য প্রায় সব শিরোপাই জিতেছেন এই ভাগ্যবান । প্রশ্ন আসতে পারেন কি কি জিতেছেন তিনি ? পাল্টা প্রশ্ন কি কি জেতেননি তিনি ?

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, একটি ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ, একটি লা লীগা, দুটি কোপা দেল রে ও একটি সুপার কোপা । আর দেশের হয়ে ?

এক কনফেডারেন্স কাপে ব্রাজিলের কাছে স্বপ্নভংগ । তাছাড়া একবার বিশ্ব শ্রেষ্ঠত্বে সাথে টানা দু দুবার ইউরোপীয়ান শ্রেষ্ঠত্ব । এত দলীয় অর্জন যাক কিনা বহু স্বীকৃত কিংবদন্তীর ভাগ্যেও মেলেনি ।

অথচ একজন আরবেলোয়া এ জায়গায় যেন অনন্য অনেকের মাঝে ।

এত অর্জনেও ছয়ফুটি কোকা তার সব সুখ মাদ্রিদেই খুঁজেছেন । তাই তো তিনি বিদায় বেলায় বলে গেলেন- ‘ “I will not retire from football,” he said. “I hope to play more until I’m just an amateur.

“I will come here [to watch Real Madrid] when I can but in Spain I cannot wear any shirt other than this.” এ তো গেলো বন্ধু, শুভাকাংখী ও সতীর্থদের গুণবাচ্য । আরবেলোয়া বিদায় বেলায় যোগ্যতা ও আনুগত্যর স্বীকৃতি পেয়েছে ক্লাব ও টুইটার রাইভাল জেরার্ড পিকের কাছে থেকেও । বার্নাব্যুতে আরবেলোয়ার উষ্ণ বিদায় সংবর্ধনায পিকে বলেছেন, “I wish [Arbeloa] well wherever he goes,”

“If he got this type of goodbye [at the Estadio Santiago Bernabeu], it’s because he’s deserved it.

বিদায়ের সময় মাদ্রিদের জার্সি গায়ে আরবেলোয়া খেলেছেন ২৩৩টি ম্যাচ, গোল করেছেন ০৬টি । আলভারো আরবেলোয়া কোকা ! হয়ত তিনি একজন ফুলব্যাক তথা ফুটবলার হিসেবে সেরা আদর্শ নন, কিন্তু একজন মাদ্রিদিস্তা হিসেবে সর্বকালের অন্যতম অনুসরণীয়, অনুকরণীয় আদর্শ মাদ্রিদিস্তা তিনি ।

ক্যাপ্টেন উইদাউট আর্মব্যান্ড , এন্ড দ্যা গার্ডিয়ান ।

একজন নিবেদিত মাদ্রিদ প্রাণ হিসেবে আরবেলোয়ার পরিচিতি কিন্তু মিডিয়ার বেশ প্রসিদ্ধ । মাদ্রিদ ছাড়ার ঘোষণার পরপরই জনৈক কার্টুনিষ্ট তাকে নিয়ে চমত্‍কার অর্থপূর্ণ একটি কার্টুন আঁকেন । যেখানে দেখা যায় মাঠের ফুটবল প্রতিপক্ষ, সমালোচক, নিঁন্দুক ও মিডিয়ার কবল থেকে এক ঢালের সাহায্যে মাদ্রিদকে একাই রক্ষা করছেন কোকা । ‘অফ দ্য ফিল্ডে’ তার সরব উপস্থিতি তাকে গার্ডিয়ান অফ মাদ্রিদের সম্মাননাও দিয়েছে । এই গার্ডিয়ানকে বলা হয়ে থাকে ক্যাপ্টেন উইদআউট আর্মব্যাণ্ড । বাহুতে অধিনায়কের স্বারক না থাকলেও তিনি ছিলেন এক স্বারকহীন সেনাপতি । তবে বিদায়ী ম্যাচে সেই স্বারকও বাহুতে পেয়েছেন কোকা । ৭৯ মিনিটে মাঠে নামার সাথে সাথে নিয়মিত অধিনায়ক সার্জিও রামোস এগিয়ে এসে আর্মব্যাণ্ডটি পড়িয়ে দেন তার হাতে ।

Alvaro-Arbeloa-552534

যতদিন মাদ্রিদ থাকবে ততদিন আরবেলোয়াও থাকবে দলটির ইতিহাসে । মাদ্রিদ আনুগত্য ও ভালবাসা প্রসংগ যতদিন উঠবে ততদিন ততদিন একজন আইডল থেকে যাবেন এই মহান মাদ্রিদিস্তা ।

বিদায় লগ্নে আরবেলোয়ার ঝাঁপসা দৃষ্টি ছোটাছুটি করলো বার্নাব্যুর এপার থেকে ওপারে । মাঠের ঘাস তুলে তাতে চুমু এঁকে কোকা যেন বলে গেল, ‘বিদায় বন্ধু, তোমাদের ডানায় চড়ে আর মাতানো হবেনা প্রাণের বার্নাব্যু’ ।

প্রত্যুত্তরে ঘাসেরা কি বলেছিল কিছু ?

হয়ত বলেছিল, হয়তবা না । কে জানে ঘাসগুলো হয়ত ভেঁজা ছিল । আত্নকষ্টে কিংবা কোকার এক ফোঁটা নীরব অশ্রু জলই হয়ত ভিঁজিয়ে দিয়েছিল বার্নাব্যুর স্বপ্নীল সবুজ ঘাস রাজদের ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 + three =