৩৭… তবুও তো একটু আফসোস !

১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কা যখন সবাইকে চমকে দিয়ে উপমহাদেশে বিশ্বকাপের ট্রফিটা জিতে নেয় , তখন আজকের মাস্টারমাইন্ড সাঙ্গাকার বয়স ১৯ বছর । বছর তিনেক পরের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা চমকে দেয় আবারও । এবার ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে । তবে এবার অনেক ভালো কিছু করে নয় , ১ম রাউন্ডে বাদ পড়েই । সেবার শ্রীলংকার শুরুটা হয় বিশ্বকাপের স্বাগতিক ইংলিশদের কাছে হার দিয়ে । ১৬ বছর পরে এবারের বিশ্বকাপের শুরুর গল্পটা মিলিয়ে নিতে পারেন সেবারের সাথেও !

আবার উদ্বোধনী ম্যাচ … স্বাগতিক দলটির সাথে শ্রীলঙ্কা । আবারও হার ! হারের আকার আর লজ্জাটা এবার বরং সেবারের তুলনায় অনেক বড় । তবে কি আবারও ? না ! গল্প আর ইতিহাসকে যুগে যুগে ভিন্ন করে লেখার দ্বায়িত্বটা নিতে হয় কিংবদন্তীদের । শ্রীলংকার হয়ে যেমন নিলেন সাঙ্গাকারা । কুমার চোকশানাডা সাঙ্গাকারা ! ভয় পাবেন না , এটা সাঙ্গার পুরো নাম । অন্য অনেক শ্রীলংকানের মতোই তার নামেরও একটা অংশ শুনতে একটু বিদঘুটে না হয়ে কোথায় যায় ? তবুও তো ভাস আর মাহেলার চাইতে ভালো !

একটা কথা মনে রাখা ভালো । দুনিয়ায় বেশিরভাগ প্লেয়ারের অফফর্মে থাকলে পরের ম্যাচের আগের রাতে প্রতিপক্ষ হিসাবে আপনি শান্তিতে থাকতে পারেন । কিন্তু খোদা আবার এমনও কিছু কিছু জাতের প্লেয়ার এই খেলার জন্যে পাঠিয়েছেন , যাদের অফফর্ম একটু গেলে প্রতিপক্ষ হিসেবে আপনাকে হিসেবটা করতে হয় আরো মাথা বেঁধে । অফফর্মের রাগটা উতলে পড়বে যেকোনো দিন । সেটা এলো ! নিউজিল্যান্ড আর আফগানিস্তানের সাথে ৭ আর ৩৯ রানের নামের সাথে বেমানান দুটো ইনিংসের পরে পুষিয়ে দেওয়া ঝড়টা এলো আমাদের সাথেই ।

 

শুরুটা সাঙ্গাসুলভ হয় নি
শুরুটা সাঙ্গাসুলভ হয় নি

সাঙ্গাকারা ঐ লেভেলের একজন ,যাকে আপনি আপনার দলের সাথে খেলার দিনে অশ্রাব্য সব গালি দেন ! তবে গালির সাথে কোথায় যেনো একটা মুগ্ধতা মিশে থাকে । রুবেলকে, মাশরাফিকে আর তাসকিনকে যখন মারছিলো , মুখের বাঁধ খুলে গিয়েছিল সেদিন । কিন্তু একেকটা কভার ড্রাইভ, পুল, স্কয়ার কাটে বিরক্তি আর যন্ত্রনার সাথে মুগ্ধতাও কোন অংশে কম ছিলো না রে পাগলা ! বাংলাদেশের সাথে ১০৫* এর পরে যেনো একই ক্যালিবারের আগ্রাসন আর ক্লাস নিয়েই ব্যাট করতে নামলেন ইংল্যান্ডের সাথে চেইজ করার দিন । ব্রড-এন্ডারসন আর ওকসদের সাথে এদিন সাঙ্গাকারা ছিলেন আরো নির্দয় । এদিন আর বিরক্তিটা না ! চোখকে শান্তি দিলো ক্লাসিক সাঙ্গা ! মনকে শান্তি দিলো আগ্রাসী সাঙ্গা । উইকেট থেকে দৌঁড়ে দৌঁড়ে বেরিয়ে এসে সাঙ্গার পুলগুলো যখন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট আউটফিল্ডে দৌঁড়ায় , মনের অজান্তে বেরিয়ে আসে “ওয়াও !!” আরেকটা সাঙ্গা মাস্টারক্লাস ! ধোপে টিকলো না ইংলিশদের টার্গেট । শটগুলো যেভাবে বলকে আঁছড়ে দিচ্ছিলো সীমানায়, একইভাবে ১৯৯৯ এর লজ্জার পুনরাবৃত্তিকে আঁছড়ে ফেললো তাসমান সাগরে । অনেক অনেক গভীরে !

 

তবে ক্লাসের স্ফূরণে আলো আসতে দেরি লাগে নি
তবে ক্লাসের স্ফূরণে আলো আসতে দেরি লাগে নি

তারপরে আরো দুটো ইনিংস ! আরো দুটো সাঙ্গাকারা মাস্টারক্লাস ! একটা অজিদের সাথে আর আরেকটা আজ এই লেখাটা লেখার ঘন্টা কয়েক আগে স্কটিশদের সাথে । বিশ্বকাপের প্রথম থেকেই বল দারুন ব্যাটে আসছে , বয়সটা সাঙ্গার ৩৭ ! কে বলবে ৩৭ ? কি দারুন রিফ্লেক্স ! “৩৪ পেরোলে ব্যাটসম্যানদের জোরে বলের সাথে পা পড়ে না”- এটাকে প্রতিদিন মুচকি হেসে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যাচ্ছেন সাঙ্গাকারা ! বয়সের কারণে পা ফেলতে সমস্যা তো হচ্ছেই না , বরং এক ম্যাচের চাইতে পরের ম্যাচে আরো সাবলীল লাগছে ! হিংসেয় পড়ে যায় তাজা রক্তও ! লাগছে  বয়সটা আরেক দফা কমে গেছে ।

বিশ্বকাপের আগেই বলে দিয়েছেন এটি হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ ! প্রতিদিন নামছেন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের আফসোস বাড়াচ্ছেন পদে পদে । ৩৭ বছর বয়স  তো একটা নাম্বার মাত্র ! ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকার বয়স কি ২৭ পেরিয়েছে ? অন্যপাশ থেকে তাকে ব্যাট করতে দেখে যে এখনো বড্ড ঈর্ষাই হবার কথা থিরিমান্নে আর কুশল পেরেরার মতো তরুণদের …

সেই কবে থেকে দেখে আসছি ? বিরক্তি আসে না মোটেই । আরো কয়েকটা দিন তো খেলাই যেত !

১৯৯৯ এর গল্পটাকে তো থামালেন … ক্যারিয়ারের শেষটা সোনায় মোড়া ট্রফিতে হলে হতো সোনায় সোহাগা ।

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 5 =