১৩ এপ্রিল কাব্য আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থান

১৩'ই এপ্রিল কাব্য আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থান

১৩ এপ্রিল, ১৯৯৭..

খালেদ মাসুদ পাইলটের ছক্কা, এরপরে ব্যাটে চুম্বন, এক রানের জন্য শান্ত’র ভোঁ দৌড়। আহা! যখন ভুঁড়িওয়ালা খাঁন সাহেব লালসবুজের পতাকা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতেছেন তখন ক্রিকেটার, কর্মকর্তা আর প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ চিৎকারে কুয়ালালামপুরের কিলাত ক্লাব মাঠ যেন একখণ্ড বাংলাদেশে পরিণত হয়। প্রথমবার আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন বলে কথা, প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ বলে কথা! রেডিওতে কান পেতে রাখা সমর্থকেরা কী পরিমাণ উৎকন্ঠায় ছিল সেই অনুভূতি আমি কখনো বুঝব না!

তবে ১৩ এপ্রিলের ফাইনালে উঠতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আমাদের! সুগোই বুলোতে অবস্থিত মালয়েশিয়ার রাবার রিসার্চ ইনস্টিটিউট মাঠে বৃষ্টির মারপ্যাঁচের সাথে আকরাম খানের অসাধারণ ইনিংসে ডাচদের হারিয়ে সেমিফাইনানে উঠে বাংলাদেশ। এরপরে স্কটিশদের সেমিতে কুপোকাত করে কেনিয়ার বিপক্ষে লাস্ট ওভারের রোমাঞ্চকর জয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়।

সেদিন শুরুতে রফিকের ঝড়ো ইনিংস, শেষে খালেদ মাসুদ পাইলটের ছয় আরো অনেককিছু না হলে আমরা হয়তো বিশ্বকাপ খেলতে আরো দেরী করতাম! টেস্ট স্ট্যাটাস পেতে লেগে যেত আরো কয়েক বছর। সেই আইসিসি ট্রফি জয়ের মাঝেই তো আমাদের ক্রিকেটের বর্তমান দাঁড়িয়ে।

১৩ এপ্রিল ২০১৮…

আইসিসি ট্রফি জয়ের ২১ বছর উপলক্ষে প্রথমেই একটা লাল সালাম জানাই সেদিন আমাদের জয়ে কেঁদে দেওয়া হাজার মাইল দূরের ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান কুথবার্ট গর্ডন গ্রিনিজ সাহেবকে! এই ভদ্রলোক আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক করছে। আইসিসি ট্রফি জয়ের পরে উনাকে বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিক করা হয়। আর তৎকালীন সকল ক্রিকেটার, কর্মকর্তা আর রেডিওতে কান পেতে থাকা সবার প্রতি সম্মান রইল! আমাদের ক্রিকেট আরো দ্রুত এগিয়ে যাক সে কামনা থাকল।

লেখা : রিফাত এমিল

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × one =