হ্যাপি থ্রি হান্ড্রেড, হেরাথ!

ছেলেবেলায় আমরা শুনতাম, পড়তাম, “তিনশ উইকেটের অভিজাত ক্লাব।” তখন ব্যাপারটি সেরকমই ছিল। এখন নেই। অভিজাত ক্লাব হয়ত তার আভিজাত্য হারায়নি। ৩০০ টেস্ট উইকেট চাট্টিখানি কথা নয়। তবে আগের মত ঠিক রোমাঞ্চ জাগায় না। মাইলফলকটি এখনও হয়ত মুড়ি-মুড়কি হয়নি। তবে আগের মত বিরলও নয়। এই তো, ২০০০ সালের আগেও এই ক্লাবের সদস্য ছিলেন ১৩ জন। পরের ১৬ বছরে সেটা বেড়ে হলো ৩০!

রঙ্গনা হেরাথকে তবু ঠিক এই স্রোতে মেশানো যায় না। তাঁর নিজের জন্য, ক্রিকেটের জন্য, এই অর্জন সত্যিকার অর্থেই স্পেশাল! ক্যারিয়ারের গতিপথ বিবেচনা করলে তাঁর এই অর্জন অসাধারণ বললেও কম বলা হয়। খানিকটা অবিশ্বাস্যও। একসময় তো ১০০ উইকেটই হেরাথের জন্য ছিল দূরের বাতিঘর!

১৯৯৯ সালে অভিষেক। গলে সেই টেস্টে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র ইনিংসে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। টুকটাক ভালো করেছেন এরপরও। তার পরও টানা সুযোগ মেলেনি। শ্রীলঙ্কা দলে যে তখন একজন মুত্তিয়া মুরালিধরন আছেন! মাঝেমধ্যে যখন সুযোগ পেয়েছেন, তাঁর দায়িত্ব ছিল ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখা। উইকেট নেওয়ার কাজ মুরালির। ক্যারিয়ার জুড়ে তাই মুরালির ছায়াতেই থাকতে হয়েছে হেরাথকে। প্রথম ১১ বছরে খেলতে পেরেছিলেন মোটে ২২ টেস্ট!

অবশেষে হেরাথের সময় এলো, যখন মুরালির সময় ফুরোলো। ২০১০ সালের জুলাইয়ে অবসরে গেলেন মুরালি। সমস্যা হলো, হেরাথের বয়স ততদিনে পেরিয়ে গেছে ৩২। স্পিনার হিসেবে একদম শেষ বয়স অবশ্যই নয়। তবে ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করার মতোও নয়। হেরাথ কিন্তু নতুন জীবনের মতোই শুরু করলেন। অন্য অনেকে হয়ত ততদিনে হাল ছেড়ে দিতেন। স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের উদাহরণ তো আছেই। শেন ওয়ার্ন অবসরের পর অন্তত ২-৩ বছর আরও দাপটে খেলতে পারতেন। কিন্তু ততদিনে খেলার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন। হেরাথ শুরু করলেন নতুন উদ্যমে।

সেটিরই ফল আজকের এই অর্জন। শুরু প্রায় এক যুগের না পাওয়া সুদে-আসলে পুষিয়ে নিয়েছেন পরের অর্ধযুগে। মুরালির জমানায় ২২ টেস্টে উইকেট ছিল মাত্র ৭১টি। ৫ উইকেট ৪ বার। মুরালির অবসরের পর বিশ্ব ক্রিকেটেই সফলতম স্পিনার হেরাথ। চলতি টেস্টসহ এই সময়ে ৪৭ টেস্টে নিয়েছেন ২২৯ উইকেট। এই সময়ে পেস-স্পিন সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট (১৯) ও ১০ উইকেট (৫) পেয়েছেন তিনিই। তিনশ উইকেট নেওয়া সপ্তম স্পিনার, মাত্র দ্বিতীয় বাঁহাতি স্পিনার।

পরিসংখ্যানই সবটুকু বলছে না অবশ্যই। ক্যারিয়ারের বড় একটা অংশ জুড়ে হেরাথের অস্ত্র ছিল সীমিত। স্রেফ নিখুঁত লাইন-লেংথে সারাদিন বল করে যাওয়া, এই ছিল এক সময়ের হেরাথ। মুরালির সহকারি হিসেবে এই ভূমিকা পালন করতে করতে উন্নতি করাও হয়নি খুব একটা। পরে ঠিকই বুঝতে পেরেছেন, পরিশ্রম করেই শান দিয়েছেন অস্ত্রে। ফ্লাইট-লুপ ভালো হয়েছে, টার্ন বেড়েছে। আর্ম বলটাও ভালো হয়েছে। সঙ্গে তূণে যোগ করেছেন দারুণ এক মহাস্ত্র। যেটি পিচ করে ডানহাতি ব্যাটসমানের জন্য খুব দ্রুত ভেতরে ঢোকে খানিকটা। সব মিলিয়ে হয়ে উঠেছেন মুরালি উত্তর যুগের সেরা স্পিনার।

সৎ সাধনা। হাল না ছাড়া। নিজের সামর্থ্যে প্রবল আস্থা। এগিয়ে যাওয়ার তাড়না। স্বপ্নকে তাড়া করা। সমসাময়িক ও ভবিষ্যতের আরও অনেকের জন্য যে উদাহরণ রেখে যাচ্ছেন হেরাথ, এটার জন্যই তাঁকে স্যালুট ঠুকে দেওয়া যায়!

হ্যাপি থ্রি হান্ড্রেড, হেরাথ মাদিয়ানসেলাগে রঙ্গনা কীর্তি বান্দারা হেরাথ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten + 2 =