হ্যাটস অফ, স্টিফেন কুক!

তাঁর নাম প্রথম জেনেছিলাম ২০০৯ সালে। সুপার স্পোর্ট সিরিজে লায়ন্সের হয়ে প্রায় ১৪ ঘন্টা ব্যাটিং করেছিলেন। ইয়োহান বোথার বলে এলবিডব্লু হয়ে শেষ পর্যন্ত বড় একটা মাইলফলক হাতছাড়া করেছিলেন অল্পের জন্য। তবে যেটুকু করেছিলেন, তাতেও নাম লিখিয়েছিলেন রেকর্ড বইয়ে। ড্যারিল কালিনানের ৩৩৭ রান ছাড়িয়ে খেলেছিলেন প্রথম শেণির ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস, ৩৯০ রান! ৮৩৮ মিনিট ব্যাটিং করেছিলেন, প্রথম শ্রেণির ইতিহাসে তখন যেটি ছিল চতুর্থ দীর্ঘতম ইনিংস (এখন পঞ্চম)।

এক ইনিংসে অনেকগুলো রেকর্ডের ভীড়ে আরেকটা রেকর্ডও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর বাবা, জিমি কুক ১৯৯০ সালে ইংলিশ কাউন্টিতে সমারসেটের হয়ে গ্লামরগনের বিপক্ষে করেছিলেন ৩১৩। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাবা-ছেলের ট্রিপল সেঞ্চুরি সেটিই প্রথম!

যাই হোক, ওই ইনিংস জানান দিয়েছিল, লঙ্গার ভার্সনের জন্য দারুণ একজন ওপেনার উঠে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে সেই ‘উঠে আসা’ বাধা পেল বাস্তবতার দেয়ালে। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে তখন গ্রায়েম স্মিথ তো আছেনই, সঙ্গে ওপেনিংয়ে জুটি বাধলেন অ্যাশওযেল প্রিন্স। পরে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে প্রিন্সের জায়গা নিলেন আলভিরো পিটারসেন। এই জুটি জাকিয়ে বসে গেল। পিটারসেন-স্মিথরা যখন বিদায় জানালেন, ৩৯০ করা সেই ব্যাটসম্যান তখনও ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছেন। তবে বয়স ছাড়িয়ে গেছে ৩০!

দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচকেরা বেছে নিলেন তুলনামূলক তরুণ দুইজন, ডিন এলগার ও স্টিয়ান ফন জিলকে। মনে হচ্ছিলো, আরও অনেক অনেক ঘরোয়া ক্রিকেটের জায়ান্টের ভাগ্যই মেনে নিতে হবে তাঁকে। নিজেও হয়ত ভাবতে পারেননি, প্রিয় ক্রিকেট এমন আনন্দময় বিস্ময় অপেক্ষায় রেখেছে তাঁর জন্য!

ফন জিলের টানা বাজে ফর্মে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে দাবীটা জোড়ালো হচ্ছিল অভিজ্ঞ এই ওপেনারকে দলে নেওয়ার। নির্বাচকেরা ফন জিলকে সুযোগ দিয়েই যাচ্ছিলেন, কিন্তু ফন জিল পারেননি। শেষ পর্যন্ত ডাকতেই হলো ঘরোয়া ক্রিকেটের জায়ান্টকে। প্রায় ১৫ বছরে ১৬৫ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে, ৩৫ টি সেঞ্চুরিতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার রান করার পর ৩৩ বছর বয়সে স্বপ্নপূরণ, বহু আরাধ্য টেস্ট ক্যাপ।

ক্রিকেট বিধাতা কারও কারও চিত্রনাট্য বুঝি একটু নাটকীয় করেই লিখেন। ক্রিকেট দুনিয়া তাতে রোমাঞ্চিত হয়, তিনি নিজেও সেটি বেশ উপভোগ করেন! বছরের পর বছর ধরে সেই যন্ত্রণাময় অপেক্ষার পর কী অনির্বচনীয় আনন্দময় সমাপ্তি! টেস্ট অভিষেক রাঙালেন তিনি সেঞ্চুরিয়নে সেঞ্চুরি করে! সেটিও এই সিরিজে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের যম হয়ে দাঁড়ানো ইংলিশ বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে।

এমন অধ্যাবসায়ী, কখনোই হাল না ছেড়ে স্বপ্ন দেখে যাওয়া ক্রিকেটারদের প্রতি সবসময়ই বাড়তি শ্রদ্ধা জাগে…

হ্যাটস অফ, স্টিফেন কুক!

(যদিও বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ কাভার করার কারণে তাঁর খেলাই দেখতে পারলাম না! ও হ্যাঁ, স্টিফেনের বাবা জিমি কুকের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ৪০ ছুঁইছুঁই বয়সে! তবে সেটি নিজের সামর্থের অভাবে নয়, বর্ণবাদের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা নিষিদ্ধ ছিল বলে)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

thirteen − three =