হেক্সা জিতবে তিতের ব্রাজিল?

হেক্সা জিতবে তিতের ব্রাজিল?
আজকে টিম ব্রাজিলকে নিয়ে কথা হবে।
কোয়ালিফাইং রাউন্ডের প্রাথমিক পর্যায়ের বাজে পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের বোধোদয় হয় যে, দুংগা র একগুঁয়েমি থেকে দলকে উদ্ধার করা জরুরী, নাহয় হেক্সা জয় হবেনা। কৌটিনহো, ফিরমিনো, কাসেমিরো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস এর মত প্রমাণিত পারফর্মারকে ম্যাচের পর ম্যাচ বিবেচনা না করে এলিয়াস, দিয়েগো তারদেল্লি, এভারটন রিবেইরো র মত বিলো এভারেজ প্লেয়ার দিয়ে স্কোয়াড ভরে রাখার মত ঘাউড়ামি মনে হয় আর কোন কোচ করে নাই।
যাই হোক, আদেনর লিওনার্দো বাচ্চি ওরফে তিতে কে কোচ করা খুবই ভালো ডিসিশন প্রমাণিত হয়েছে। তিতে এসেই ইউরোপিয়ান লিগে রেগুলার পারফর্ম করা প্লেয়ার দের দিয়া ইলেভেন সাজান। মাস্টার স্ট্রোক টা ছিল নেইমার কে ফ্রি রোলে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া। পাশাপাশি ফ্রেড, তারদেল্লি র অন্ধকার যুগ পার হয়ে পারফেক্ট নাম্বার নাইন হিসেবে গ্যাব্রিয়েল জেসুস এর আত্মপ্রকাশ ও টিম কে অনেকটা স্ট্যাবিলিটি দেয়।
তিতে বিশেষ এক্সপেরিমেন্টে না গিয়ে প্রথম কয়েকটা ম্যাচের পরেই ফিক্সড ইলেভেন দাঁড় করিয়ে ফেলেন আর সব প্লেয়ারকে নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। যে কারণে টিম এর স্ট্যাবিলিটি আর কেমিস্ট্রি দুইটাই অনেক তাড়াতাড়ি ডেভেলপ করেছে।
৪-৩-৩ ফর্মেশন এ গোলকিপার হিসেবে থাকবে এলিসন বেকার, ২ ফুলব্যাক দানি আলভেস, মার্সেলো, ২ সেন্টারব্যাক মিরান্দা – মারকুইনহোস, মিডে কাসেমিরো, পাওলিনহো, রেনাতো আগুস্তো, ফরওয়ার্ড লাইনে নেইমার, কৌটিনহো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
আরো চারজনের গ্যারান্টিড স্পট তিতে শিওর করেছেন। এডারসন, থিয়াগো সিলভা, ফারনান্দিনহো, রবার্তো ফিরমিনো।
গোলকিপার প্রসংগে আসি।
জ্ঞান হওয়ার খুব সম্ভব এবারই দেখছি ব্রাজিল বিশ্বমানের ২ টা গোলকিপার একইসাথে পেয়েছে। এএস রোমার এলিসন বেকার, ম্যানচেস্টার সিটির এডারসন মোরায়েস।
রিফ্লেক্স, বল হ্যান্ডলিং, ওয়ান টু ওয়ানে এলিসন এগিয়ে থাকবে। কিন্তু বল ডিস্ট্রিবিউশন এ আবার এডারসন ভালো।
কিন্তু অভিজ্ঞতা আর ফর্ম মিলিয়ে এলিসনই বেটার চয়েস। থার্ড গোলকিপার হিসেবে ভ্যালেন্সিয়ার নেতো র যাওয়ার চান্সই বেশি।
ডিফেন্সের কথা বলি একটু।
ফুলব্যাকে দানি আলভেস, মার্সেলো একই সাথে ব্রাজিলের স্ট্রং আর উইক পয়েন্ট। এই দুজনেরই ইউরোপে কিছু জিততে বাকি নাই। দুইজনেই যথেষ্ট এটাকিং, কিন্তু সে তুলনায় ডিফেন্সিভ ওয়ার্ক টপ লেভেলের না। প্রায় সময়েই দেখা যায় ওভারল্যাপ করে উঠে গিয়ে টাইমলি ফলব্যাক করতে পারে না। ক্লাবে দানি কে থিয়াগো সিলভা/ মারকুইনহোস আর মারসেলোকে ভারানে/ রামোস ব্যাক আপ দেয়। ন্যাশনাল টিমে এই সাপোর্ট তারা কতটা পায় সেটার উপরেই তাদের সাফল্য ডিপেন্ড করছে।
এই দুইজনের ব্যাক আপ হিসেবে বেশ ভালো প্লেয়ারই আছে। এট লিস্ট ফিলিপে লুইস/ এলেক্স সান্দ্রো দুইজনেই মার্সেলোকে স্ট্রংলি চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখে। মুশকিল হল, ইঞ্জুরি তে খুব সম্ভব লুইসের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। সান্দ্রো ম্যাচ ফিট হতে হতে মে মাসে। তাই, হেক্সা জয়ের মিশনে মার্সেলোতেই ভরসা রাখা ছাড়া উপায় নাই।
সেন্টারে মারকুইনহোস, মিরান্ডা যথেষ্ট কার্যকর। ফিজিক্যালি স্ট্রং, বাতাসে ভালো, ট্যাকলিং- ইন্টারসেপশনও ওয়ার্ল্ড ক্লাস। লাস্ট ম্যাচে জার্মানি র সাথে থিয়াগো সিলভা ফুলটাইম খেলছে, এবং তার পারফরমেন্স যথেষ্ট নেতাসুলভ ছিল।
ব্যাক আপ হিসেবে সাও পাওলোর রদ্রিগো কাইও, গ্রেমিওর পেদ্রো জেরোমেল, শাখতারের ইসমাইলি, মোনাকো র জেমারসন ক্লাব ফুটবলে মোটামুটি ইফেক্টিভ হলেও ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে পরীক্ষিত না। হঠাৎ করে মিরান্দা, মারকুইনহোস, থিয়াগো সিলভার ইঞ্জুরি/সাস্পেনশন হলে বা ফর্ম হারালে সেটা ব্রাজিলকে বেশ ভোগাতে পারে।
ডেভিড লুইজ কোচের প্ল্যানে নাই, এবং এরকম ইনকনসিসটেন্ট প্লেয়ার এর উপর ভরসা না করার জন্য তিতে সাধুবাদ পেতে পারেন।
মিডফিল্ড এ একটা টুর্নামেন্ট এ চ্যাম্পিয়ন হতে, হেক্সা জিততে যা যা দরকার সবই ব্রাজিলের আছে।
কাসেমিরো কে ফিফা গেমের বদৌলতে ২০১৩ থেকেই চিনি। ২ সিজন খেলার পরেই ওর পটেনশিয়াল ৭৫ থেকে ৮৭-৮৮ হয়ে যেত। রিয়াল লাইফে তার থেকেও বেশি উন্নতি করছে সে। রিয়ালের টানা ২ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতার পেছনে রোনালদোর পরে সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট দিবো এই কাসেমিরো কেই। এগ্রেশন, ইন্টারসেপশন, রাফ ট্যাকলিং – সব মিলায়ে পরিপূর্ণ ডেস্ট্রয়ার প্যাকেজ। বাজে কার্ড খাওয়াটা দলকে ভোগাতে পারতো। কিন্তু সেরকম কিছু হলে ফারনান্দিনহো মনে হয় খুশিই হবে। সিটির হয়ে সেরা ফর্ম এ থাকার পরও বেচারা কাসেমিরো র জন্য ইলেভেন এ ঢুকতে পারছে না।
আগুস্তো, পাওলিনহো দুইজনেই আদর্শ বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার, দুজনেই অফুরন্ত দম নিয়া সারা মাঠ দৌড়াতে পারে, অপনেন্ট কে বিরক্ত করতে পারে, হুটহাট লং রেঞ্জ শটে প্রতিপক্ষ কে হতবুদ্ধি করে দিতে পারে। বার্সার খেলা মোটামুটি দেখি। তাই ১৫০ মিলিয়নের কৌটিনহো, দেম্বেলে থাকার পরও আমি বলব পারফরমেন্স বিচারে ৪০ মিলিয়নে কেনা পাওলিনহোই এ মৌসুমে বার্সার সেরা সদাই।
ব্যাক আপ হিসেবে শাখতারের ফ্রেড, পালমেইরাসের লুকাস লিমা, বার্সেলোনা র সদ্য কেনা আর্থার মেলো, ফেনেরবাহচের এন্ডারসন তালিসকা এরাই বোধহয় যাবে।
উইং ব্রাজিলের সবচেয়ে শক্তির জায়গা এবং উইংগারদের পারফরমেন্স ই ঠিক করে দিবে হেক্সা এর মিশনে ব্রাজিল কত স্মুথলি এগোবে। রেগুলার চয়েস কৌতিনহো, নেইমার। নেইমার নামে উইংগার হলেও ফ্রি রোলে খেলবে। কারেন্ট ফর্ম হিসাব করলে উইলিয়ান কৌটিনহো র চেয়ে এগিয়েই থাকবে কিছুটা।
ডগলাস কস্তা রাইট লেফট দুইদিকেই স্বচ্ছন্দ। গতি, আর গোঁয়ারের মত ফিজিক দিয়ে যেকোন অপনেন্ট কে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
পিওর নাম্বার নাইন হিসেবে গ্যাব্রিয়েল জেসুস ওয়ার্ল্ড ক্লাস।
ফিরমিনোর ফিনিশিং টা ভালো হলেও, নেইমারের সাথে ভালো বোঝাপড়া, সারা মাঠ পরিশ্রম করে খেলার এবিলিটির জন্য জেসুসই ফাস্ট ইলেভেন এ জায়গা ডিজার্ভ করে।
যদি ডিফেন্সিভ কাজ টা ঠিকঠাক মত হয়, আলভেস- মার্সেলো শিশুতোষ ভুল না করে, যদি নেইমার ইঞ্জুরি কাটিয়ে সেরা ফর্ম এ ফেরে, জেসুস- কৌটিনহোরা যার যার ক্যালিবার অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারে…. কে জানে এইবারই হেক্সা হয়ে যায় কিনা….
মূল : তানভীর হক তূর্য

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 4 =