হেক্সা চাই, হেক্সা!

হেক্সা চাই, হেক্সা!

ভোলগার তীরে সামারা এরেনার বিকেলটা প্রতিদিনের মত সুন্দর শান্তই থাকার কথা ছিল । তবে আজকের বিকেলে সৌন্দর্য তো থাকলো কিন্তু শান্তিছবিটা তলিয়ে গেল ভোলগার স্রোতে । অথচ তলিয়ে যাবার শংকা চেপেছিল সৌন্দর্যেরই । রাশিয়া মহাযজ্ঞে যে একের পর এক অঘটন ঘটছে তাতে ব্রাজিলকেও যেন নদীর ওপার থেকে ডাকছিল বাড়ি ফেরা দৈত্যরা । সে ডাকে মোটেও সাড়া দেয়নি ব্রাজিল । বরঞ্চ নদীর তীরে তাবু গেড়ে আরো যেন জাঁকিয়ে বসলো রাশিয়া মহাযজ্ঞে । নেইমার, ফিরমিনোর বিঁষ টোকায় টিকিট কাটলো শেষ আটের ।

লড়াইটা অন্য আমেরিকা মহাদেশের মেক্সিকোর সাথে । যাদের সাথে বিশ্বকাপে ল্যাতিনদের পরিসংখ্যানটা বেশ মধুর । তবে অদ্ভুত কিংবা অদ্ভুতুরে তকমা পাওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপ যে সে সব মধুকে তিক্ততায় রুপ দিতে একের পর এক গুটি চালছিলো । কিন্তু সেই গুটিটা যেন আপোষে পোষ মানলো ফুটবলের স্বর্গভূমির কাছে ।

জার্মানির বিদায়ের প্রথম কারিগর মেক্সিকো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাদের চিরকালের বাধা রাউন্ড অফ সিক্সটিন ডিঙ্গাতে । সে লক্ষ্য শুরুটাও গতিময় । তবে সময় যত গড়িয়েছে সেই গতি তত দিশেহারা ব্রাজিলের সুন্দর ফুটবলের কাছে । তবে তখনো দিশেহারা হতে নারাজ মেক্সিকান দস্তানা ধারক ওচোয়া । ২০১৪ বিশ্বকাপের স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে শুরুই থেকেই তার বেরসিক দেয়াল হয়ে ওঠা । যে দেয়ালে যথাক্রমে বাধাপ্রাপ্ত কৌতিনহো, নেইমার, পৌলিনহো, উইলিয়ান । তবে রসিক ব্রাজিল কি আর মানে তাতে?
আগের ম্যাচগুলোর বিবর্ন উইলিয়ান তাই সিদ্ধান্ত নিলেন রসের হাড়ি তাকেই বইতে হবে । ৫১তম মিনিটে ডানপাশ ছেড়ে বাম পাশে এসেই ওচোয়ার যম প্রহরা ভাঙ্গার ভিত্তি গড়ে দিলো এই চেলসি তারকা । ছুটে আসা নেইমার দিলেন শেষ টোকা, ওচোয়ার ধোকা গেলায় তখন ব্রাজিলিয়ানরা এগিয়ে ভোলগার স্রোতকে চুপ করিয়ে দিয়ে । নেইমারের চুপ থাকো ইশারা যেন তাই বলে! কাউন্টার ঠেকাতে মনযোগী ব্রাজিল মেক্সিকানদের কফিনে তাদের শেষ পেরেক ঠুকলো ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে । কাউন্টারের ভয়, হলো এবার জয়। মাত্র বদলী হয়ে আসা ফিরমিনো কে পাশে করে ছুটলেন নেইমার জুনিয়র । তাদের মাঝে সমানতালে ছুঁটলো গ্যাব্রিয়েল জেসুসও । শেষ মুহুর্তে ওচোয়া বাধা ডিঙ্গিয়ে নেইমারের বাড়ানো বলটাতে সেকেন্ডের জন্য পা লাগাতে ব্যর্থ ব্রাজিলের নাম্বার নাইন । তাতে কি, পাশেই তো ছিলো ফিরমিনো । তার টোকায় তখন শেষ আটের টিকিট নিশ্চিতের উৎসবে ফেঁটে পড়লো গ্যালারির হলুদ ফুল-পাতাগুলো ।

শুধু নেইমার, উইলিয়ানদের আক্রমণ সৌন্দর্যই কি তবে মেক্সিকোর স্বপ্ন থামিয়ে দিলো?
উত্তর না, সোজা না!
মিরান্ডা, সিলভার রক্ষণ মেরুদণ্ড যে কত বেরসিক গম্ভীর তা হাড়ে হাড়েই টের পেয়েছে আলভারেজ, লাইজানোদের মেক্সিকো । আর দুই ডানার দুই রক্ষণ? বামপাশের দীর্ঘকায় ফিলিপে লুইস প্রত্যাশা মেটালেও ছোট্ট ফ্যাগনার বাড়তি দিবে তা কেউ ভেবেছিল? ব্রাজিলের তৃতীয় পছন্দের এই রাইটব্যাক পরিচ্ছন্নতা, মনযোগ আর আত্মনিবেদনে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখলো দানিলো লুইজকে । যে চ্যালেঞ্জ চ্যালেঞ্জ খেলায় লাভটা আদতে ব্রাজিলেরই । ম্যাচের আগেরদিন ক্যাসিমিরো বলছিলেন দলের সবাইকেই আক্রমণে উঠতে হবে, সবাইকেই রক্ষণে নামতে হবে । ব্রাজিলের কৌশলের যথার্থতা যেন শুরু থেকেই জমিয়ে জানান দিলো গ্যাব্রিয়েল জেসুস । ১৪তম মিনিটে ডিফেন্সে তার অমন ব্যাক ট্যাকলে অপরিচিত কেউ তাকে ডিফেন্ডার ভাবতেই পারে । যথার্থতা জমিয়ে রেখেছে উইলিয়ান, কৌতিনহোরাও । ডায়মন্ড শেপে নেমে আসা, চাঁদা আকারে উঠে যাওয়ার প্রদর্শনীতে ব্রাজিলিয়ানরা যেন ভোলগা নদীকে বলে গেল, তোমার বাঁক-স্রোতের চেয়েও সুন্দর আমাদের আক্রমণের স্রোত-রক্ষণের বাঁক । এই বাঁক আর স্রোতেই হয়ত ব্রাজিল তাদের ভেলা ভেড়াতে প্রতিজ্ঞ হেক্সার তীরে । ভোলগার তীর আজকে যে প্রতিজ্ঞা রক্ষার স্বাক্ষী হলো, সেটি কি শেষ অব্দি বহাল রইবে?
উত্তরটা নিশ্চই ম্যাচ বাই ম্যাচই দিতে চাইবে তিতের শিষ্যরা । আর ভক্তরা?
তাদের সোজাসুজি উত্তর- এক্স, ওয়াই, জেড বুঝিনা । হেক্সা চাই হেক্সা!

#রাশিয়া_বিশ্বকাপ_২০১৮

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × 3 =