জার্মান বধের নায়ক : কে এই হিরভিং লোজানো?

জার্মান বধের নায়ক : কে এই হিরভিং লোজানো?

হিরভিং লোজানো দাঁত বের করে ভ্যাকভ্যাক করে যখন হাসেন, তাঁকে দেখলে বলে শিশুদের স্ল্যাশার ফিল্ম সিরিজের বিখ্যাত ভিলেন পুতুল ‘চাকি’ এর মত মনে হয়। তাই সতীর্থরা তাঁর ডাকনাম চাকি ই দিয়ে দিয়েছেন। চাকি লোজানো।

আজকে মাঠের এগারোজন জার্মান খেলোয়াড়েরাও বুঝতে পারলেন কেন হিরভিং ‘চাকি’ লোজানো এত ভীতিকর। মানুষ হিসেবে না হোক, খেলোয়াড় হিসেবে তো বটেই। আর কেউ না হোক তবে স্যামি খেদিরা, ম্যাটস হামেলস, জোশুয়া কিমিখ ও মার্ভিন প্ল্যাটেনহার্ট এই ব্যাপারে সহমত অবশ্যই হবেন। এই হিরভিং লোজানোর গোলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়ে এই পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে যে মেক্সিকানরা!

বাম উইঙ্গে খেলা এই হিরভিং লোজানো আজকে যখনই বল পেয়েছেন, দুর্ধর্ষ কাউন্টার অ্যাটাকে ছিন্নভিন্ন করেছেন জার্মান রক্ষণকে। মেক্সিকান ক্লাব পাচুকা থেকে গত মৌসুমেই এই লোজানোকে দলে আনার ব্যাপারে হালকাপাতলা কথাবার্তা চালিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলের মত ক্লাবগুলো, কিন্তু অপেক্ষাকৃত নতুন ও অপরিচিত খেলোয়াড় বলে হয়ত সেই জুয়াটা খেলতে চাননি হোসে মরিনহো বা ইউর্গেন ক্লপের কেউই। পরে ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেনে গত মৌসুমে চলে যান তিনি। সেই অপরিচিত লোজানো নিজেকে কিভাবেই না পরিচিত করলেন আজ বিশ্বমঞ্চে! মরিনহো বা ক্লপ এখন অস্বস্তিতে নখ কামড়াতেই পারেন! ভালো কথা, গত মৌসুমে পিএসভির হয়ে ২৯ ম্যাচে ১৭ গোল দিয়ে তিনি এর মধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি বিশ্বমঞ্চে তারকা হতেই এসেছেন!

জার্মান বধের নায়ক : কে এই হিরভিং লোজানো?

বার্সেলোনার উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ বা বায়ার্ন মিউনিখের ডাচ উইঙ্গার আরিয়ান রোবেনের মত আদর্শ ইনসাইড ফরোয়ার্ড বা ইনভার্টেড উইঙ্গার (যে উইঙ্গার প্রথাগত উইঙ্গারদের মত শুধু মাঠের একপাশে উপর নিচে না দৌড়িয়ে কাট-ইন করে ভেতরে ঢুকে গোলও করেন অনবরত) হবার সকল গুণাবলি থাকার কারণে মেক্সিকান সুয়ারেজও বলা হয় এই লোজানোকে। সাধারণত বাম পায়ের খেলোয়াড় হলেও ডান পায়েও বেশ জোর আছে তাঁর। যে কারণে দুই উইংয়েই সমানতালে খেলতে পারেন। আর সাথে গোলের দিকে নিখুঁত শট মারার ক্ষমতাটা তো আছেই, আজকে যা জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার একদম সামনাসামনি দেখলেন।

তবে লুইস সুয়ারেজের সাথে যে শুধু তাঁর খেলার স্টাইলেরই মিল আছে, তা নয় কিন্তু। সুয়ারেজের মত হুটহাট মেজাজ হারিয়ে মাঠ বা মাঠের বাইরে অন্যান্য অঘটনগুলোও বেশ একই “স্টাইলে” করেন। যে কারণে পিএসভি কোচ ফিলিপে কোকু বেশ কয়েকবার তাঁকে সতর্কও করে দিয়েছিলেন। কথা সাফ, মেজাজ ঠিক না রাখতে পারলে কখনই প্রতিভার প্রতি সুবিচার করা যাবেনা।

প্রতিভার প্রতি সুবিচার করার জন্য আজকের থেকে বড় মঞ্চ আর কোথায় পেতেন লোজানো?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

13 + 6 =