হাতছানি দিচ্ছে বিপিএল

একান্তই যারা ফুটবল নিয়ে থাকতে ভালোবাসেন, তাদের ফেসবুকে এল ক্ল্যাসিকো নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ছিলো । আর একান্তই যারা ক্রিকেট নিয়ে থাকতে ভালোবাসেন, তারা ঘন্টা গুণতেন বিপিএলের তৃতীয় আসরের প্রথম বলটি দেখার জন্যে । তবে বেরসিক সরকারের জন্যে এই ক্রীড়াজনতাকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে গোপনে ফেসবুক চালিয়ে নিজেকে গর্বিত ভাবার মধ্য দিয়েই । বিপিএল নিয়ে কথা বলি । বিপিএলের তৃতীয় আসর । আর আমার কাছে এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে এক্সাইটিং সিজন , সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল সিজন । প্রথম কারণ অবশ্যই গেল এক বছরে আমাদের ক্রিকেটের উর্ধ্বমুখী অবস্থা । এখন আরো বেশি লোকাল স্টার । আরো ভালো বিপিএল । আর দ্বিতীয়ত অনেকটা গ্যাপ দিয়ে হচ্ছে এবারের বিপিএলটা । দেশের ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকা লোকেদের আর “তর সইছে না ” অবস্থা একদম !

দলগুলোর ছোটখাটো এনালাইসিসে যাবার আগে এবারের বিপিএলের আরেকটা ভালো দিক জানিয়ে রাখি । প্লেয়ার ড্রাফটের দিনই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিলো । এবার অন্তত আগের দুই সিজনের মত কেউ টুর্নামেন্ট শুরু হবার আগেই আগের দুইবারের মত ঢাকাকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিতে পারবে না । ভাগ ভাগ করে লটারি হওয়াতে সাইডগুলো মোটামুটি ব্যালেন্সড । কেউ খুব ভালো একজন লোকাল ব্যাটসম্যান নিয়ে নিলেও দেখা যাচ্ছে পরের ডাকে সে আর ভালো অলরাউন্ডার নিতে পারে নি লটারিতে । এমনিভাবে দলগুলো বেশ একটা ব্যালেন্সে এসে গেছে । ইউনিট বেইজড অল্প অল্প করে কথা বলি প্রত্যেকটা ইউনিট নিয়েই ।

ইমরুল কায়েস-লিটন কুমার দাশ-ড্যারেন স্টিভেনসকে দেখে ড্রাফটের দিন অনেকেই কুমিল্লাকে রায় দিয়ে দিয়েছিলেন টেস্টের দল হিসেবে । এমনিতে লিটনের ইন্টারন্যশনাল ক্রিকেটের শুরুটা মনমত হয় নি ফার্স্ট ক্লাসে ৫০ এর কাছাকাছি এভারেজ থাকলেও । তাই লিটনের মধ্যে তাগিদটা থাকবে নিজের ক্যারিয়ারটা বাঁচানোর জন্যেই । তবে ব্যাটিং এ কুমিল্লার ফিয়ার ফ্যাক্টর মারলন স্যামুয়েলস আর শেহজাদ । স্যামুয়েলস নিজের দিনে চল্লিশ বল খেলতে পারলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন একাই আর শেহজাদ বাংলাদেশে খেলা মানেই বদলে যাওয়া এক ব্যাটসম্যান । সে তুলনায় সিলেটের ব্যাটিং নিয়ে মাথাব্যাথা কম । নির্ভরযোগ্য মুশির পাশে মমিনুল আর জুনায়েদ সিদ্দীকি লোকালদের মধ্যে । আর বিদেশীদের মধ্যে অভিজ্ঞ হজ আর রবি বোপারা অনেক বড় লেভেলের ম্যাচ উইনার । মুশফিক আর হজের ব্যাটিং লাইন তাই ভয় ধরাবে অন্যদের । সাকিবের রংপুরে সৌম্য দলটার গ্ল্যামার বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণে । সাথে আছেন আগের বিপিএলগুলোতে বেশকিছু বিস্ফোরক ইনিংস খেলা মোহাম্মদ মিঠুন। বিদেশী পুলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মিসবাহ ক্রুশাল হতে পারেন উইকেটটা স্লো হলে । থিসারা পেরেরা আর স্যামির সার্ভিস সাকিবকে অনেকটা নির্বরতা দিবে মিডল অর্ডারে । বরিশাল গেইলকে পাবে ডিসেম্বরের শুরু থেকে । তাই জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলরই তাদের আপাতত ট্রাম্পকার্ড । আর লোকাল স্টারদের মধ্যে শুধু সাব্বির থাকায় এই দলটার ব্যাটিংকে বাকিদের চেয়ে একটু হালকাই মনে হচ্ছে । শাহরিয়ার নাফিস নিভে যাওয়া তারা । তামিম-আনামুল-আকমল ব্রাদার্সের চিটাগাং ব্যাটিং লাইন এর ভালো করা অনেক কিন্তু যদির উপরে নির্ভরশীল । তামিম এমনিতে বলের অনেক ভালো হিটার… তবে চাপে পড়লে খোলসে গেঁথে যাবার প্রবণতাটা বেশি তামিমের মধ্যে । আর এমনিতে আনামুলের বিপিএলের রেকর্ড দারুন । তবে নিজের ক্যারিয়ারটা বাঁচানোর জন্যে হলেও ওকে স্কোরিং রেটটা বাড়াতে হবে । সাঙ্গাকারা ঢাকার প্লাস পয়েন্ট । বয়সটা ৩৭ হলেও এখনো দারুন রিফ্লেক্স আর দারুন টাইমিং । গেইলের মত ধ্বংসাত্নক নয় … তবে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতাটা সাঙ্গাকারা এখনো ভালোই রাখেন । নাসির আর মাহমুদুল্লাহ আইকন হলেও নিজেদের দলের জন্যে শুধু ব্যাটিং এ ঠিক কতোটা ভ্যালুয়েবল হবেন সেই প্রশ্নটা দারুনভাবে থেকে যায় তাদের সাম্প্রতিক ইনিংসগুলোর প্যাটার্ন দেখলে । নাসির খুব ভালো স্ট্রাইক রোটেট করেন আর রিয়াদ ইনিংস বিল্ড আপ করতে জানেন । তবে ধুমধাড়াক্কার লোক মনে হয় নি এখনো কাউকেই ।

সবমিলিয়ে একবাক্যে শক্তিশালী বলা যাবে না কারোর ব্যাটিং লাইনাপকেই … আবার এক তুড়িতে ফেলে দেওয়া যাবে না কারোরটাই ।
পাঁতে জমজমাট বিপিএল ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eleven − 3 =