হল কি ফ্যাব্রিগাসের?

গত মৌসুমে বার্সেলোনা আর বেনফিকা (আরও ছয়মাস আগে শীতকালীন দলবদলে) থেকে যখন যথাক্রমে সেস ফ্যাব্রিগাস আর নেমানিয়া মাতিচ কে চেলসি কিনে নিয়ে আসলো, অনেকের মতেই সেটা চেলসির জন্য এক্স-ফ্যাক্টর ছিল, এই দুই পরস্পরবিপরীতধর্মী মিডফিল্ডারযুগলই চেলসির দরকার ছিল, কারণ সেই ক্লদ ম্যাকেলেলের মত প্রভাববিস্তারকারী ডেস্ট্রয়ার মিডফিল্ডার এখন কয়েকজন থেকে থাকলে তার মধ্যে মাতিচ একজন, আর ডেস্ট্রয়ারের পাশে একজন অ্যাঙ্করম্যান হিসেবে ফ্যাব্রিগাস, ব্যস। আর সাথে সামনে ইন-ফর্ম হ্যাজার্ড বা কস্টা ত ছিলেনই, চেলসির লিগ জিততে সমস্যা হয়নি মোটেও।

hi-res-6a60bf4be55699d7df19e4a8cc8bd1b8_crop_north

কিন্তু এ বছর বিষয়টা গতবারের মত অতটা সহজ-স্বাভাবিক নয় চেলসির জন্য। লিগে খাবি খাচ্ছে ১৪ নম্বরে, মরিনহো-ম্যাজিক ঠিক কাজ করছে না এবার। আর তা না করার পেছনে কস্টা-হ্যাজার্ড-মাতিচ-ফ্যাব্রিগাস সবাই-ই দায়ী।

গত মৌসুমের প্রথমার্ধটা ফ্যাব্রিগাসের জন্য ছিল অসাধারণ
গত মৌসুমের প্রথমার্ধটা ফ্যাব্রিগাসের জন্য ছিল অসাধারণ

ফ্যাব্রিগাসেরটাই তুলনামূলকভাবে চোখে পড়ছে বেশী। বিশ্বকাপজয়ী একজন মিডফিল্ডার, মাতিয়ে এসেছেন চেলসির প্রতিবেশী আর্সেনালের মাঝমাঠ এককালে, চেলসির সমর্থক মাত্রই চাইবেন আর্সেনালের সেই ফর্মই যেন সবসময় ফ্যাব্রিগাসের থাকে। কিন্তু তা হচ্ছে না। খুব ভালো করে বললে গত মৌসুমের প্রথমার্ধের পর থেকেই যেন ফ্যাব্রিগাস নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। পরিসংখ্যান আপনাকে বলবে ঠিকই যে চেলসির লিগজয়ী গত মৌসুমে ফ্যাব্রিগাস ১৮ বার গোলে সহায়তা করেছেন, কিন্তু তার ১০টিই ছিল প্রথম ১২ ম্যাচে। তার অর্থ হল মৌসুমের বাকী ২৬ ম্যাচে ফ্যাব্রিগাসের অ্যাসিস্ট বা গোলে সহায়তা ছিল মাত্র ৮ বার। মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাজার্ড জ্বলে উঠেছিলেন দেখে ফ্যাব্রিগাসের ফর্মহীনতা অতটা চোখে পড়েনি, তবে হিসেব করলে ফ্যাব্রিগাসে ফর্ম নেই কিন্তু মোটামুটি এক বছর হয়ে গেল। অন্যান্য ছোট দলের কোন মিডফিল্ডারের কাছে এই পরিসংখ্যান স্বস্তির হলেও ফ্যাব্রিগাসের মানের এক মিডফিল্ডারের জন্য এই পরিসংখ্যান মোটেও ভালো কিছু নয়।

আর্সেনালের হয়ে সেই ফর্ম চেলসির হয়ে আনতে পারছেন কই?
আর্সেনালের হয়ে সেই ফর্ম চেলসির হয়ে আনতে পারছেন কই?

ফলে এই প্রভাব পড়ছে কস্টা বা হ্যাজার্ডের ফর্মেও। বিশেষ করে ডিয়েগো কস্টার। মিডফিল্ডারদের কাছ থেকে বল নিয়েই স্ট্রাইকাররা জ্বলে উঠবেন, এটাই স্বাভাবিক। মিডফিল্ড থেকেই যদি বল না আসে, কস্টা গোল দেবেন কি করে? যার ফলে গত মৌসুমে লিগে ২০ গোল করা কস্টার এই পর্যন্ত এই মৌসুমে লিগে গোল মাত্র তিনটি। কারণ ঐ যে, ফ্যাব্রিগাসের অ্যাসিস্টই ত মাত্র দুটি এই মৌসুমে!

এই সপ্তাহের চেলসি বনাম টটেনহ্যাম ম্যাচটার কথাই চিন্তা করুন। ফ্যাব্রিগাসের নেওয়া একটা হাস্যকর ফ্রিকিকই মূলত বলে দেয় কতটা খারাপ ফর্মে আছেন তিনি।

https://www.youtube.com/watch?v=lWrLTFyCAX0

এই মৌসুমে চেলসির হয়ে ১৮ ম্যাচে ২ অ্যাসিস্ট হলেও, একই সময়ে মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেই জাতীয় দল স্পেইনের হয়ে ২ অ্যাসিস্ট করে ফেলেছেন ফ্যাব্রিগাস। এমন কি করছেন স্পেইন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক যা মরিনহো পারছেন না?

একটা কারণ হতে পারে, সেটা হল চেলসির চেয়ে স্পেইনে ফ্যাব্রিগাস অনেক স্বাধীনভাবে খেলতে খেলতে পারেন। একজন অ্যাঙ্করম্যান হিসেবে যতটুকু দায়িত্ব তা ত ফ্যাব্রিগাস পালন করেনই, কিন্তু চেলসিতে নিজের দলের রক্ষণের দিকেও সমান মনোযোগ ধরে রাখতে হয় ফ্যাব্রিগাসকে। সমস্যাটা এখানেই। ফ্যাব্রিগাস রক্ষণে অত পটু না। যে সমস্যাটা ধরতে পেরেছে বিপক্ষ দলগুলো, ফলে অতিরিক্ত প্রেস করে ফ্যাব্রিগাসকে নিজস্ব খেলাটাই খেলতে দিচ্ছে না তারা চেলসির হয়ে। তাই চেলসির ৪-২-৩-১ ফর্মেশানে ডাবল পিভট ভূমিকায় এই মাতিচ-ফ্যাব্রিগাস  জুটিই চেলসিকে লিগ জেতালেও এবার একই ফর্মুলা খাটছে না।

ওদিকে স্পেইনে ফ্যাব্রিগাসকে রক্ষণের ব্যাপারে এতশত চিন্তা করতে হচ্ছে না। এই শুক্রবারে হওয়া ইংল্যান্ড-স্পেইন ম্যাচটাই দেখুন। স্পেইন খেলেছে ৪-১-৩-২ ফর্মেশানে, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার থিয়াগো আলকানতারা আর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সাথে সামনে খেলেছেন সেস ফ্যাব্রিগাস। ফলে নিশ্চিন্ত মনে আক্রমণের দিকে মন দিতে পেরেছেন তিনি, যেটা তিনি চেলসিতে সেভাবে করতে পারেন না, আক্রমণের সাথে রক্ষণটাও সামলাতে হয়।
ফ্যাব্রিগাসের ফর্ম থাকলে চেলসির ফর্ম থাকে, ফ্যাব্রিগাসের ফর্ম না থাকলে চেলসির ফর্ম থাকে না – এই দুষ্টচক্র কি ভাংতে পারবেন মরিনহো?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × five =