হতাশা

একটা ব্যাটিং লাইন আপ সাজাই…

মাইকেল ডি ভেনুটু
জেমি কক্স
জেমি সিডন্স
মার্টিন লাভ
ব্র্যাড হজ
স্টুয়ার্ট ল
ড্যারেন লিম্যান
রায়ান ক্যাম্পবেল (উইকেট কিপার)

সবাই অস্ট্রেলিয়ান। প্রথম সাতজনের প্রত্যেকেই, অন্য কোনো দেশে জন্ম হলে হয়ত আজ পরিচিতি থাকত টেস্ট গ্রেট হিসেবে। নামের পাশে থাকতে পারত ৯-১০ হাজার টেস্ট রান। আর অষ্টম জন, কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে হতে পারতেন গিলক্রিস্টের মতো প্রভাব বিস্তারি।

অথচ বাস্তবতা বলছে, ৬টি টেস্ট খেলতে পেরেছিলেন হজ, লাভ ৫টি, ল ১টি। ডি ভেনুটু, কক্স, সিডন্স ও ক্যাম্পবেল একটিও না। কেবল লিম্যান শেষ দিকে ২৭টি টেস্ট খেলতে পেরেছিলেন। কিন্তু তার খেলার সামর্থ ছিল অন্তত ১২৭টি।

তারা কেউই পারেননি, কারণ তাদের সময়ের প্রবল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপে জায়গা ছিল না। সেই সময়ের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীপূর্ণ আর দারুণ কোয়ালিটি শেফিল্ড শিল্ডে, কাউন্টি সার্কিটে তারা রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া বিদেশী দলগুলির সঙ্গে সাইড ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট তাদের কাছে হয়ে থেকেছে আক্ষেপের প্রতিশব্দ। কারণ, জাতীয় দলে জায়গা ফাঁকা ছিল না!

জেমি কক্স যেমন, ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া পাকিস্তান দলের বিপক্ষে তাসমানিয়ার হয়ে ওয়াসিম আকরাম-মোহাম্মদ জাহিদ-মুশতাক আহমেদ-সাকলায়েন মুশতাক সমৃদ্ধ বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে হোবার্টে করেছিলেন অসাধারণ এক ডাবল সেঞ্চুরি। আজ সেই হোবার্টে বিব্রত হলো অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং। আরও একবার হতাশায় ডুবল, ডোবাল অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ব্যাটিং লাইন আপ।

এবার হোবার্টে প্রথম ইনিংসে ৮৫ অলআউট, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২ রানে ৮ উইকেট, কদিন আগে গলে ১০৬, গত বছর ট্রেন্ট ব্রিজে ৬০, এজবাস্টনে ১৩৬, লর্ডসে ১২৮, হায়দরাবাদে ১৩১, কেপ টাউনে ৪৭, মেলবোর্নে ৯৮, হেডিংলিতে ৮৮, সিডনিতে ১২৭…. এসব দেখে, এই ইনিংসগুলি দেখে, এই সব ব্যাটসম্যানদের দেখে, কক্স-লাভ-সিডন্সদের কেমন লাগে? নিশ্চয়ই আক্ষেপে পোড়েন, বুকের ভেতর মোচড় দেয় বারবার, জন্ম যদি আর কবছর পরে হতো! খুব কাছ থেকে দেখছেন যিনি, শিখিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না, সেই লিম্যানের কেমন লাগে? নেমে যেতে ইচ্ছে করে ব্যাট হাতে? মনে হয় না এই বয়সেও এদের চেয়ে খুব খারাপ করবেন!

আমরা প্রায়ই আলোচনা করি, মার্ক টেলর, স্টিভ ওয়াহ আর পান্টারের অস্ট্রেলিয়া দলে এখনকার দলের কজনের জায়গা হতো? আসলে ওইসব দলে জায়গা নিয়ে আলোচনাই বৃথা। বরং তখনকার যুগে জায়গা পাননি যারা, ওপরে যাদের নাম লিখলাম, তাদের নিয়ে গড়া দলেও জায়গা হতো না এখনকার কোনো ব্যাটসম্যানের। সেটা ওয়ার্নার ও স্মিথকে মাথায় রেখেই বললাম। জায়গা হতো না।

আজকে প্রেস কনফারেন্সে স্টিভেন স্মিথের অসহায় স্বীকারোক্তিই এখনকার অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইন আপের বাস্তবতা, “উইকেট সিম করুক বা স্পিন করুক বা সুইং, কোনোটিরই উত্তর জানা নেই আমাদের!”

আহা সিডন্স, আহা ল… এতদিনে নিশ্চয়ই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের খুব করে মনে পড়ছে আপনাদের!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 + sixteen =