স্যার গ্যারিকে মাশরাফিদের স্যালুট!

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে চলছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ। ভিক্টোরিয়া মাত্রই হারিয়েছে প্রথম উইকেট। নতুন ব্যাটসম্যান উইকেটের কাছে যেতেই লাইন করে দাঁড়িয়ে গেলেন কলাবাগানের ফিল্ডাররা। সবাই এক যোগে ঠুকে দিলেন স্যালুট! বিব্রত ব্যাটসম্যান আরেকটু জোর কদমে হেঁটে গেলেন ২২ গজের দিকে।

ব্যাটসম্যানের নাম মুমিনুল হক। মাশরাফি বিন মুর্তজার ভাষায়, ‘স্যার গ্যারি সোবার্স!’ বলার অপেক্ষা রাখে না, এই স্যালুট আখ্যানের চিত্রনাট্য রচয়িতা মাশরাফিই। পুরোটা্ই তার মজা, স্বভাব সুলভ দুষ্টুমি। ব্যাপার হলো, মুমিনুলের টেস্ট গড় যখন আরও হৃষ্টপুষ্ট ছিল, তখন থেকেই মজা করে ‘স্যার গ্যারি’ নামে ডাকেন মাশরাফি। সেই মজা এখনও চলছে। এরকম সিরিয়াস ম্যাচের মাঝখানে এমন মজা তার পক্ষেই সম্ভব!

এবার একই ম্যাচে অন্য মাশরাফির গল্প শুনুন। এবারের ঢাকা লিগে শের-ই-বাংলায় দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত দক্ষিণ গ্যালারি। প্রতি ম্যাচেই শদুয়েক বা তিনেক লোক থাকে। সম্ভবত সবচয়ে দূরের গ্যালারি। বেশির ভাগ সময়ই নির্জিব দেখা যায় তাদের। মাঝেমধ্যে একটু শোরগোল। আজ একটা সময় হঠাৎ করে তুমুল গর্জন। দুশ লোকের চিৎকার যেন কয়েক হাজার লোকের আওয়াজ! ঘটনা কি? মাশরাফি ব্যাটিংয়ে নামছেন।

ওই অত দূর থেকে ড্রেসিং রুম থেকে বেরুনো মাত্র লোকে বুঝে ফেলেছে। বদ্ধ এসি বক্সের ভেতরেও সেই গর্জন আমাদের কানে এলো। পরস্পর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলাম আমরা কজন। মিরপুরে ঘুরে ফিরে সব দলেরই খেলা হয়েছে এবার। মৌসুমে এত বড় চিৎকার আমরা কেউই শুনিনি।

এই মাশরাফি নায়ক মাশরাফি। জনতার নায়ক।

ব্যাট হাতে অবশ্য কিছু করতে পারেননি। তবে অসাধারণ বল করেছেন, ১০-২-২৪-২। নিজের প্রথম ওভারে চতুরঙ্গা ডি সিলভার যে ফিরতি ক্যাচ নিয়েছেন, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে এরকম কট অ্যান্ড বোল্ড ক্যাচ আর দেখেছি বলে মনে পড়ে না। ফলো থ্রোর রেশ সামলে বাদিকে ঝাপিয়ে দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ক্যাচ!

৪৯তম ওভারে তার বোলিংই অনেকটা নিশ্চিত করে দিয়ছে ম্যাচের ভাগ্য। ২ ওভারে প্রয়োজন তখন ১৪, তার ওভার থেকে এলো ২! গত কয়েক ম্যাচ বোলিং করছেন পা টেপ না পেঁচিয়েই। কলাবাগানের কোচ, শ্রদ্ধেয় জালাল ভাই প্রতি ম্যাচ শেষেই বলেন, “এটা মানুষ না, জ্বীন!”
……………………………………………

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ মাশরাফিরা জিতেছে। অনেক ঘটনা ছিল ম্যাচে। তবে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে আজ আল আমিনের ব্যাটিং। আমাদের ‘পিচ্চি’ আল আমিন। এমনিতে এই লিগে দারুণ ফর্মে আছে। তবে আজকের ইনিংসটা দুর্দান্ত অন্য কারণে। উইকেট বেশ টাফ ছিল। টু পেসড উইকেট, বল গ্রিপ করছিল, টার্ন ছিল, স্টপ করছিল। অথচ আল আমিনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, ব্যাটিং কত সহজ!

স্পিন সে বরাবরই ভালো খেলে। তবে আজ দেখিয়েছে স্পিনে মাস্টারি। সফট হ্যান্ড, ফ্লেক্সিবল রিস্ট। আর ক্রিজের ব্যবহার করেছে দারুণ ভাবে। স্ট্রাইক রোটেট করেছে ইচ্ছেমত। ৬৭ রানে বাজে একটা রান আউটের শিকার না হলে হয়ত মাচ জিতিয়েই আসত। পেস বোলিং খেলায় আরেকটু উন্নতি করলে দারুণ একজন ব্যাটসম্যান হয়ে উঠবে। আমাদের ভবিষ্যতের একজন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 − 4 =