স্যাম্পাওলির সম্ভাব্য একাদশের যদি এবং কিন্তু

স্যাম্পাওলির সম্ভাব্য একাদশের যদি এবং কিন্তু
প্রায় গ্রুপ স্টেইজের প্রথম ম্যাচ থেকেই একটা জিনিস এর জন্যই আফসোস করে যাচ্ছিলাম। একটা প্রোপার ৩ ম্যান মিডফিল্ড। স্পেন,ব্রাজিল,ফ্রান্স সহ বড় সব দলগুলিই এখন ৩ জন মিডফিল্ডার খেলায় সেন্টারে। আর আর্জেন্টিনা বেসিক্যালি গত ম্যাচগুলিতে খেলেছে , লপসাইডেড ৪-৪-২ ধরণের একটা শেইপে। সুতরাং প্রথম হারটা শুরু হয়, মিডফিল্ড ব্যাটলে। বয়স্ক মাশচেরানো আর বিগলিয়া দিয়ে প্রতিপক্ষের ৩ জন মিডফিল্ডারের সাথে টেক্কা দেয়ার চিন্তা করাও পাপ। গত ম্যাচে তাও জিনিসটা চেইঞ্জ হয়ে, মাসচের পাশে বানেগা খেলেছে। বানেগার মত একজন চমৎকার বল ডিস্ট্রিবুটর খেলানোর সুফল হাতেনাতে পেয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসির উপর প্রেশার প্রায় অর্ধেক । বলের সাপ্লাইও চমৎকার। ফলাফল বানেগার বাড়ানো লং বলে মেসির গোলটা। তাও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বেসিক্যালি আর্জেন্টিনা খেলেছে ৪-৪-২ লপসাইডেড ফরমেশনে, যেখানে বাম প্রান্তে ডি মারিয়া একজন লেফট উইংগার , আর ডানে পেরেজ রাইট ওয়াইড মিডফিল্ডার। মিডফিল্ড ফুল কন্ট্রোল করতে গেলে আরো সেন্ট্রাল একজন কে লাগবে । হতে পারে সেটা লো সেলসো, হতে পারে সেটা দিবালা ( আরো এটাকিং একটা ফরমেশন হবে) , কিংবা হতে পারে সেটি সেই পেরেজ কেই আরেকটু সেন্ট্রালি খেলিয়ে , বানেগার পাশে বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার টাইপের, অনেকটা ব্রাজিলের পলিনহোর রোল দেয়া।
খুব সম্ভবত ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মত থ্রিম্যান মিডফিল্ড নিয়ে খেলবে। এবং মাসচেরানো আর বানেগার পাশাপাশি, তিন নাম্বার সেন্টার মিডফিল্ডার হিসেবে থাকছেন , এনজো পেরেজ। যে ছবিটি দিলাম, সেটি আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ। অপরিবর্তিত রক্ষণভাগ, একদম প্রোপার শেইপের থ্রি ম্যান মিডফিল্ড ট্রায়ো , আর সামনে একটা থ্রি ম্যান ফ্রন্টলাইন , যেটার স্পিয়ারহেড হচ্ছেন, লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। মেসি সেন্টারে, অর্থাৎ আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই যে তিনি ফলস নাইন হিসেবে থাকছেন। প্রথম বারের মত স্টার্টিং ইলেভেনের ডান প্রান্তে, রাইট উইংগার হিসেবে থাকছেন পাভন। আর বাম প্রান্তে যথারীতি ডি মারিয়া।
আমি এনজো পেরেজ কে পছন্দ করি না। সে অত্যন্ত ধীরগতির, পাসিং ভাল না, তাঁর ফরোয়ার্ডদের সাথে লিংক আপ খুবই দুর্বল, প্রেশারে বল হোল্ড করতে পারে না এবং অযথা ফিজিক্যাল খেলতে যায়। তবে আমার পছন্দে কিছু যায় আসে না। সাম্পাওলি এমন একজন কোচ, যার কামলা কিসিমের এই ধরণের ফিজিক্যাল প্লেয়ারই পছন্দ , এবং যে কিনা একঝাক রোবাস্ট,ফিজিক্যালি টাফ, প্রচুর ওয়ারকরেট ওয়ালা কামলা ধরনের প্লেয়ার নিয়েই চিলিতে সাফল্য পেয়ে এসেছে। সুতরাং আমরা যে বারে বারে পেরেজ,মেজা,আকুইনা এই ধরণের কামলা লোকজনকে মাঠে নামতে দেখি, স্কিলফুল দিবালা/বানেগা/এগুয়েরোর জায়গায়- এই ব্যাপারটা হুদাই না। আমার ধারণা, সাম্পাওলি মেসি কেও নামাইত না চান্স পাইলে, সে এমনই “ওয়ার্করেট/কামলাগিরি” লাভার।
তবে মজার ব্যাপার, ২-১টা ব্যাপার ছাড়া, ফ্রান্সের বিপক্ষের একাদশ আমার পছন্দ হয়েছে। দুইটি কারণে ।
১। প্রোপার থ্রি ম্যান মিডফিল্ড
২। দুইজন প্রপার ট্র্যাডিশনাল উইংগার একসাথে
প্রথমবারের মত সাম্পাওলি মিডফিল্ড থ্রি বেঁছে নিতে বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। পগবা/কান্তে/মাতুইদি যেই মিডফিল্ডে খেলে, তাদের সাথে মিডফিল্ড ব্যাটলে জিততে আপনার তিনজন সেন্টারে লাগবেই। আশার কথা, সামনের ম্যাচে তিনজন সেন্টার মিডফিল্ডার নিয়েই নামছে আর্জেন্টিনা । মাসচেরানো আগের মত নেই, প্রচুর টুকিটাকি ভুল করে এরপরেও মেসির সাথে লিঙ্ক আপ টা তারই সবচাইতে ভাল, আর এখনও অনেক মিডফিল্ডারের থেকে তাঁর শিল্ডিং বেটার – আর সবচেয়ে বড় কথা তাঁর ডেডিকেশন লেভেল। আগের ম্যাচে রক্তাক্ত অবস্থায় নির্বিকার ভাবে যেই খেলাটা খেলে গেল! বানেগা লাস্ট ম্যাচের পর অটো চয়েস হওয়া উচিত। প্রায় নিখুঁত একজন সেন্টার মিডফিল্ডারের সব ট্রেইটস আছে তার। আর এনজো পেরেজ কে যদিও আমি পছনদ করি না তেমন, কিন্তু ফ্রান্সের হাই ফিকিজ্যাল মিডফিল্ডের সাথে পেরেজকে খেলানোটা খানিকটা যৌক্তিকই । সে মাসচেরানোকে ডিফেন্সিভ ডিউটিতে ভাল হেল্প করতে পারবে, সাথে যদি বানেগা কে সাপোরট দেয় সেইটা বোনাস। একদম পার্ফেক্ট একটা মিডফিল্ড কোর।
দুইজন ট্র্যাডিশনাল উইংগার একসাথে খেলানোর ডিসিশানটা সাম্পাওলি বুঝে নিল নাকি আন্দাজে নিয়ে ফেলসেসেটা জানি না, তবে ডিসিশানটা ইঞ্চ পার্ফেক্ট। ফ্রান্সের দুর্বলতা দুই ফুলব্যাক পজিশনে। পাভনকে যদিও আমি সুপার সাব হিসেবে চেয়েছিলাম আগের ম্যাচগুলিতে, তবে সে এমন একজন প্লেয়ার, যে ডান প্রান্তে খেললে প্রচুর চান্স ক্রিয়েট হবে তাঁর ক্রসিং আর মাইনাস গুলি থেকে। সাথে ডি মারিয়া মাথাটা ঠান্ডা রাখলেই আর যাই হোক, চান্স ক্রিয়েশনে সমস্যা হবে না- এইটুকু আশা করাই যায়। এইরকম একটা মিডফিল্ড সেটাপ , এর সামনে লিওনেল মেসি – বিশ্বের সেরা প্লেমেকার, বিশ্বের সেরা দুইজন গোলস্কোরারের একজন, তাঁর ম্যাজিকাল ফলস নাইন পজিশনে। চমৎকার কিছু আশা করাই যায় ।
আফসোসের ব্যাপার একটাই, সাম্পাওলি এমনই একজন কোচ, যে ইতালিয়ান লিগে ৭ দশমিক ৬ রেটিং নিয়ে সিজন শেষ করা, ৬ ফিট ৬ ইঞ্চির একটা ডিফেন্ডারকে গোনাতেই ধরে না। ফেদেরিকো ফ্যাজিও থাকলে, এরিয়ালে এটলিস্ট টেনশন অর্ধেক হয়ে যেত আর্জেন্টিনার। রাইট ব্যাক পজিশনে মার্কাদো একটুও কম্ফোরটেবল না । যদিও আমি কখনোই রোহো কে রাইটে দেখিনাই, কিন্তু ফ্যাজিও কে সেন্টারে নিয়ে ওকে রাইটে ট্রাই করাই যায়, আর ওর পজিশনও বেসিক্যালি ফুলব্যাক।
আরেকটা ব্যাপার বলব যেটা ৯০ ভাগ আর্জেন্টিনা ফ্যানকেই কোনভাবে বোঝানো যাবে না – আমি চেয়েছিলাম ফ্রান্সের সাথে ম্যাচে হিগুয়েন স্টার্ট করুক। সে যত মিসই করুক আর যাই করুক, তাঁর অফ দ্যা বল মুভমেন্ট, এরিয়াল এবিলিটি আর ফিজিক্যাল স্ট্রেংথ টা ভারানে কিংবা উমতিতি টাইপের ডিফেন্ডারদের মধ্যে জরুরী । যাকগে, সাম্পাওলির মত কোচ- যে মাস্ট উইণ ম্যাচে, ১-১ সিচুয়েশনে ডি মারিয়া কে সাব করে মেজা কে নামায়- সে যে সব চাওয়াপাওয়া বুঝে ফেলবে সে আশা করলে আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty − 11 =