বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ – স্পেইন

স্পেইন সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু আছে কি? স্পেইন এর স্বর্ণসময়ের উত্থান আমরা দেখেছি, দেখেছি অনন্য ফুটবল স্টাইল ও ট্যাকটিকসে তাদের ফুটবল বিশ্ব শাসন করাও। একমাত্র দল হিসেবে টানা ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো জেতা স্পেইন দলটা বর্তমানে খানিকটা নিষ্প্রভ। গত বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়া স্পেইন আবারও মহাপরাক্রমশালী হয়েই বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে নিজের অস্তিত্বকে জানান দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা ভক্ত-সমর্থক সকলের। বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে স্পেইন কোচ হুলেন লোপেতেগুই এর মধ্যে ২৩ সদস্যের বিশ্বকাপগামী দল ঘোষণা করে দিয়েছেন। দেখে নেওয়া যাক, কার কার ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল!

গোলরক্ষক

  • ডেভিড ডা হেয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
  • পেপে রেইনা (নাপোলি)
  • কেপা আরিজাবালাগা (অ্যাথলেটিক বিলবাও)

ডিফেন্ডার

  • সার্জিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • জেরার্ড পিকে (বার্সেলোনা)
  • জর্ডি অ্যালবা (বার্সেলোনা)
  • দানি কারভাহাল (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • নাচো মনরেয়াল (আর্সেনাল)
  • সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটা (চেলসি)
  • নাচো ফার্নান্দেজ (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • আলভারো ওদরিওজোলা (রিয়াল সোসিয়েদাদ)

মিডফিল্ডার

  • অ্যান্দ্রেস ইনিয়েস্তা (ভিসেল কোবে)
  • ডেভিড সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি)
  • সার্জিও বুসকেটস (বার্সেলোনা)
  • কোকে রিস্যারাকশন (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
  • ইসকো আলারকোন (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • থিয়াগো আলকানতারা (বায়ার্ন মিউনিখ)
  • সল নিগুয়েজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
  • মার্কো অ্যাসেনসিও (রিয়াল মাদ্রিদ)
  • লুকাস ভাজক্যুয়েজ (রিয়াল মাদ্রিদ)

স্ট্রাইকার

  • ডিয়েগো কস্টা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
  • ইয়াগো আসপাস (সেল্টা ভিগো)
  • রড্রিগো মোরেনো (ভ্যালেন্সিয়া)

যারা বাদ পড়লেন

  • আলভারো মোরাতা (স্ট্রাইকার, চেলসি)
  • মার্কোস আলোনসো (লেফটব্যাক, চেলসি)
  • ভিতোলো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
  • সেস ফ্যাব্রিগাস (চেলসি)
  • জাভি মার্টিনেজ (বায়ার্ন মিউনিখ)
  • পেদ্রো রড্রিগেজ (চেলসি)
  • ইনাকি উইলিয়ামস (অ্যাথলেটিক বিলবাও)
  • হেক্টর বেয়েরিন (আর্সেনাল)

আলভারো মোরাতা ও মার্কোস আলোনসো কে বাদ দিয়ে মোটামুটি একটা চমকের সৃষ্টি করেছেন কোচ হুলেন লোপেতেগুই। যদিও চেলসির হয়ে আলভারো মোরাতার ফর্ম একদম পড়তির দিকে। তবুও স্কোয়াডের দিকে তাকালে বোঝা যায়, আসলে যে ২৩ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই নিজ যোগ্যতাবলেই নির্বাচিত হয়েছেন। এবং চমকপ্রদ হলেও সত্যি, গত দুইবারের মত এবারো স্পেইন যাদেরকে বাদ দিয়ে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, তাদেরকে দিয়েই এমন এক একাদশ বানানো সম্ভব, যারা কি না নিজেরাই বিশ্বকাপ জেতার জন্য যেকোন দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন! তারমানে বুঝুন, যারা সুযোগ পেয়েছেন, তারা কতটাই না যোগ্য!

বিশ্বকাপ ২০১৮ : টিম প্রিভিউ - স্পেইন
gollachhut.com

তাই স্পেইন দলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হল তাদের মূল একাদশ নির্বাচন করা। স্পেইন এর এই দলের সবচেয়ে বড় সামর্থ্য হল এরা প্রায় সবাই-ই একাধিক পজিশনে খেলতে সক্ষম। মিডফিল্ডাররা উইঙ্গার হিসেবে খেলতে পারেন, মিডফিল্ডাররা উইঙ্গার। তাঁর উপরে সবচেয়ে বড় কথা কোচ হুলেন লোপেতেগুই এমন এমন ডিফেন্ডারদের দলে নিয়েছেন যাদের মধ্যে অধিকাংশই ডিফেন্স লাইনের একাধিক পজিশনে খেলতে পারদর্শী। পুরো স্কোয়াডের মধ্যে খুব সম্ভবত এক গোলরক্ষকের জায়গাটার ব্যাপারেই সবাই নিশ্চিত, মূল একাদশে কে খেলবেন তা নিয়ে। বিশ্বকাপে স্পেইন দলের মূল গোলরক্ষক হিসেবে থাকবেন তর্কাতীতভাবেই গত কয়েক মৌসুম ধরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেরা খেলোয়াড় ডেভিড ডা হেয়া। তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে দলে গোলরক্ষক হিসেবে আছেন নাপোলির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক পেপে রেইনা। আর আছেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কেপা আরিজাবালাগা। এই কেপা কে দলে নেওয়ার ব্যাপারে এই জানুয়ারীতে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছিল স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ, কিন্তু পরবর্তীতে পায়ের ইনজুরিতে পড়ার জন্য ও পরে বিলবাওয়ের সাথেই নতুন চুক্তি করার জন্য আর রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে চড়ানো হয়নি তাঁর।

স্পেইন যে ফর্মেশনে এত বছর ধরে বিশ্ব জয় করেছে, এবারেও খুব সম্ভবত সেই ফর্মেশনের কোন ব্যত্যয় ঘটতে যাচ্ছেনা ; ৪-৩-৩। যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী কোচ হুলেন লোপেতেগুই কে ৪-২-৩-১ বা ৪-১-৪-১ ফর্মেশনে দলকে খেলাতে দেখা যায়। ডিফেন্সের রাইটব্যাক পজিশনে মূল একাদশে খেলবেন রিয়াল মাদ্রিদের দানি কারভাহাল, আর লেফটব্যাক পজিশনে খেলবেন বার্সেলোনার জর্ডি অ্যালবা। রাইটব্যাক পজিশনে দলে ব্যাকআপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে মূলত রিয়াল সোসিয়েদাদের তরুণ রাইটব্যাক আলভারো ওদরিওজোলাকে। আবার চেলসির সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটাও প্রয়োজন পড়লে খেলতে পারেন এই পজিশনে। ওদিকে এই স্পেইন দলে স্ট্রাইকার হিসেবে নেওয়া হলেও রিয়াল মাদ্রিদ এর লুকাস ভাজক্যুয়েজকেও খেলানো যায় রাইটব্যাক হিসেবে, কেননা রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান প্রায় সময়ই ভাজক্যুয়েজকে রাইটব্যাক, রাইট মিডফিল্ড, রাইট উইঙ্গার ইত্যাদি পজিশনে খেলিয়েছেন এই মৌসুমে। ওদিকে জর্ডি অ্যালবার ব্যাকআপ হিসেবেও থাকবেন এই সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটাই, চেলসির হয়ে ৪ ডিফেন্ডার বিশিষ্ট ফর্মেশনের অনেক ম্যাচেই লেফটব্যাক হিসেবে খেলতে দেখা যায় যাকে। লেফটব্যাক হিসেবে আরও খেলতে পারেন আর্সেনালের নাচো মনরেয়াল। দলের প্রধানতম দুই সেন্টারব্যাক হলেন রিয়াল মাদ্রিদের সার্জিও রামোস ও বার্সেলোনার জেরার্ড পিকে। এই সেন্টারব্যাক পজিশনে দলে ব্যাকআপ হিসেবে আছেন সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটা, রিয়াল মাদ্রিদের নাচো ফার্নান্দেজ, আর্সেনালের নাচো মনরেয়াল! নাচো ফার্নান্দেজ তো আরও এককাঠি সরেস, খেলতে পারেন রাইটব্যাক-সেন্টারব্যাক-লেফটব্যাক সব হিসেবে! স্পেইন এর ডিফেন্স লাইন কতটা সব্যসাচী এ কথা আর বলার অপেক্ষা রয়েছে কি?

৪-৩-৩ ফর্মেশনে মিডফিল্ডার আর অ্যাটাকার মিলিয়ে বাকী জায়গা ফাঁকা থাকে আর ৬ টা। মূল স্ট্রাইকার ছাড়া বাকী ৫ পজিশনেই ঘুরেফিরে খেলবেন বার্সেলোনার সার্জিও বুসকেটস, ভিসেল কোবের অ্যান্দ্রেস ইনিয়েস্তা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কোকে রিসার‍্যাকশান, রিয়াল মাদ্রিদের ইসকো অ্যালারকোন ও ম্যানচেস্টার সিটির ডেভিড সিলভা। এদের মধ্যে শুধু সার্জিও বুসকেটসের দখলেই থাকবে দলের সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনটা। বাকী চার জায়গায় এই চারজন খেলবেন, সেটা যেকোন পজিশনেই, কেননা এই চারজনের স্পেইন দলে কোন নির্দিষ্ট পজিশন নেই, কোকে ছাড়া। ইনিয়েস্তা, ডেভিড সিলভা ও ইসকো তিনজনই ওয়াইড মিডফিল্ড ও উইং এর যেকোন পজিশনেই খেলতে সমর্থ। উইঙ্গার হিসেবে দলে আরও নেওয়া হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের মার্কো অ্যাসেনসিও ও লুকাস ভাজক্যুয়েজকে। ওদিকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের তিন পজিশনে ব্যাকআপ হিসেবে দলে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের থিয়াগো আলকানতারা ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সল নিগুয়েজ।

দলের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে মূল একাদশে থাকার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ডিয়েগো কস্টার, তাঁর পরিবর্ত হিসেবে দলে আছেন ভ্যালেন্সিয়ার রড্রিগো মোরেনো আর সেল্টা ভিগো ইয়াগো আসপাস।

স্কোয়াড প্রিভিউ দেখুন আরও –

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 + 11 =