স্টোকসের আউট ঘিরে বিতর্ক

শরীর সোজা কিছু আসলে ন্যাচালার ইনস্টিংক্টে হাত উঠে যেতে পারে। কিন্তু শরীর থেকে এক হাত দূরে থাকলেও উঠবে! বলটি ফেরানোর সময় স্টোকসের হাত ছিল অনেকটা প্রসারিত, অলমোস্ট ফূল স্ট্রেচড। সংশয় ওখানেই খতম হওয়া উচিত। আউট!

তারপরও বিতর্ক যখন হচ্ছেই, আরেকটু কাঁটাছেড়া করা যাক। ক্রিজের ২ স্টেপস বাইরে ছিল স্টোকস। স্টার্কের থ্রো ছিল স্টাম্প সোজা। স্টোকস পড়িমড়ি করে ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করছিল, সেই চেষ্টায় প্রপাত ধরণিতল। ইন্টারেস্টিং পার্ট সেখানেই। স্টোকস ছিল লেগ স্টাম্পের এক হাত বা আরও বাইরে। পড়েছেও অতদূরেই। আর বল ছিল স্টাম্প সোজা। তার হাত অতদূরের বল ঠেকাবে কেন?

তার পরও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, ন্যাচারাল ইনস্টিংক্টেই স্টোকসের হাত উঠে অত দূর স্ট্রেচ করেছে। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার কি সেটা স্টোকসের মাথার ভেতর ঢুকে দেখে আসবে? নাকি মনের ভেতর ঢুকে দেখে আসবে যে ইচ্ছে করেই করেছে কিনা! আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে রিপ্লে দেখে। যা চোখে দেখা যাচ্ছে, সেটা দেখে। আপনিও রিপ্লে দেখুন। ঠিক যে সময় বল স্টোকসের গ্লাভসে লাগছে, ঠিক সেই মুহূর্তটায় পজ করুন। দেখুন, স্টোকসের শরীর থেকে হাত কত দূরে! আম্পায়ারকে এটা দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, স্টোকসের মন বুঝে নয়! আম্পায়ারিং ডিসিশানের যে কোনো বিতর্কে আমরা্ নিজেদের ইচ্ছামত কথা বলি, নিজের মতামত জানাই। কিন্তু আম্পায়ারদের নিজের মনকে শোনার উপায় নেই। চোখের সামনে যা আছে, যতটুকু এভিযেন্স, সেটারই ওপরই ডিসিশান দিতে হয়। আমার তো বরং রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে, বল খাবলা দিয়ে প্রায় ধরেই ফেলেছিল স্টোকস!

অনেকে আবারও আরেক কাঠি সরেস। ক্রিকেটিং স্পিরিটের প্রসঙ্গ আনছেন। ক্রিকেটিং স্পিরিট ব্যপারটাতেই কতটা স্পিরিট আছে, বা আদৌ কতটা থাকা উচিত, সেটা নিয়ে আমার সংশয় আছে। যাই হোক, সেটা অন্য বিতর্ক। স্টোকসের আউটে তথাকখিত স্পিরিট নষ্ট হওয়ার কিছু তো দেখছি না! এই ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই স্টিভেন ফিনের লাফিয়ে ওঠা এক বলে আঙুল ভেঙেছে ডেভিড ওয়ার্নারের। এখন তাই বলে আর বাউন্সার দেওয়া যবে না? তেমনি ভাবেই, ব্যাটসম্যান ক্রিজের বাইরে থাকলে ফি্ল্ডার থ্রো রান আউট করতে চাইবে না? এভাবে রান আউটের ঘটনাও তো কত আছে!

বলতে পারেন, তথাকথিত ক্রিকেটীয় চেতনায় উদ্বুব্ধ হয়ে আবেদন না করলেও পারত অস্ট্রেলিয়া। বা আবেদন তুলে নিতে পারত। কিন্তু কেন তা করবে? ওই বল যদি স্টোকস হাত দিয়ে না ফেরাত, তাহল সে হয়ত রান আউট হতো । তখন কি আমরা থ্রো করার জন্য স্টার্কের ক্রিকেটিং স্পিরিট নিয়ে প্রশ্ন তুলতাম? মোটেও না। বরং ওইরকম দুর্দান্ত রিফ্লেক্স এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব দেখানোয় স্টার্কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতাম। স্রেফ রান আউট না হয়ে অবস্ট্রাকটিং দা ফিল্ড হয়েছে বলেই ক্রিকেটীয় চেতনার বারোটা বাজল? আজব!

তার পরও অবস্ট্রাকটিং দা ফিল্ড নিয়ে সন্দেহ থাকলে ইনজামাম-উল-হকের সেই আউট দেখতে পারেন আবারও। ফিল্ডার থ্রো করেছে, ইনজি ন্যাচারাল ইনস্টিংক্টেই ব্যাট দিয়ে শ্যাডো মতো করে ফিরিয়ে দিয়েছে। ব্যাটে না লাগালে বল গায়ে লাগত তার। বলটি ছেড়ে দিলেও সম্ভবত স্টা্ম্পে লাগত না, লেগ স্টাম্পের বাইরে চলে যেত। তারপরও অবস্ট্রাকটিং দা ফিল্ড হয়ছিল ইনজি এবং সেটাই ঠিক ছিল। স্টোকসের আউট তো অবশ্যই ঠিক!

নিউ জিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডিয়া হলে এত হইচই হতো না। ব্রিটিশ মিডিয়া বলে কথা! ওরা এসব ইস্যুই খোঁজে। অস্ট্রেলিয়ান, ভারতীয় মিডিয়াও তা-ই। একই দলে আমরাও, কখনো কখনো বরং এগিয়ে 🙂

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen − 3 =