স্টিভ ওয়ালশ – এক নেপথ্যের নায়ক

::::: আদনান আল রাহীন :::::

লেস্টার রুপকথার সাফল্যের জন্য সবাই যেভাবেই হোক রানিয়েরিকেই সকল ক্রেডিট দিয়ে থাকে। কিন্তু আসলেই কি? ঠিক আগের মৌসুমেই কোনোমতে রেলিগেশন থেকে নিজেদের বাঁচানো লেস্টার কিভাবেই বা এমন রুপকথার জন্ম দেওয়ালো? শুধু কি রানিয়েরিই? নাকি আরো কেউ আছে?

gettyimages-480661480

স্টিভ ওয়ালশ। অসাধারণ এই স্কাউটের মাধ্যমেই লেস্টারের উত্থান। রিয়াদ মাহরেজ, জেইমি ভার্ডি ও এনগোলো কান্তের মত মাস্টারক্লাস তিনটি সাইনিংই আসলে ঘুরিয়ে দিয়েছে লেস্টারকে। লেস্টারের দায়িত্ব নেওয়ার পর একজন মিডফিল্ডারের খোঁজে ছিলেন সেই সময়ের নতুন ম্যানেজার ক্লদিও রানিয়েরি, এই ওয়ালশই তখন রানিয়েরির কানের কাছে গিয়ে বারবার বলতে লাগলেন ”কান্তে, কান্তে”। মাত্র ৬ মিলিয়ন ইউরোতে কান্তেকে নিয়ে আসলেন লেস্টারে আর এক মৌসুম পরেই ৩০ মিলিয়নে বিক্রিও করলেন চেলসির কাছে। ভার্ডি আর মাহরেজ নিয়ে বেশি কিছু বলার মনে হয় প্রয়োজন নেই। ফেসবুকেই ওদের নিয়ে অনেক মাতামাতি, তাঁদের নিয়ে অনেক তথ্য উপাত্ত সবার কাছেই পৌঁছে গেছে। জাস্ট ছোট করে একটা ইনফো দিব – স্টিভ ওয়ালশ নামের এই লোকটাই ছিলেন হোসে মরিনহোর সময়ে চেলসিতে। সেই সময়ই সাইন করিয়েছিলেন দুই চেলসি লেজেন্ডকে – জিয়ানফ্রাঙ্কো জোলা আর দি গ্রেটেস্ট স্ট্রাইকার ফর চেলসি দিদিয়ের দ্রগবা।

এবার এভারটনে ওয়ালশ
এবার এভারটনে ওয়ালশ

এই মৌসুমেই লেস্টার ছেড়ে আসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছেন এভারটনে। এখানে বিভিন্ন জোনে স্কাউটিং ডিটেইলস নিয়েই মুলত কাজ করবেন তিনি। তবে যাওয়ার আগে কান্তের রিপ্লেস্মেন্ট দিতে না পারলেও দিয়ে গেছেন একটি খুব ভালো সাইনিং – নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার আহমেদ মুসা। দেখা যাক লেস্টারের কাছে রেখে যাওয়া শেষ উপহার কতটা সফল হয়! তবে প্রিমিয়ার লিগে আরেকটি অঘটনের জন্ম যদি দিয়েও থাকে এভারটন তবে পুরো বিশ্ব অবাক হলেও অনেকেই অবাক হবে না। কারণ যে স্টিভ ওয়ালশ নামের এই লোকটিই, তাই তো রোনাল্ড কোম্যান যারপরনাই খুশি। ব্যাংক আকাউন্ট না ভেঙে শুধু ট্যালেন্ট আর পরিশ্রম দিয়েই ক্লাবে নিয়ে আনতে পারেন অসাধারণ প্লেয়ারদের। নতুন ইনভেস্টমেন্টে টাকা আর কোন সমস্যা নয় নীল মার্সিসাইডের। রোনাল্ড কোম্যানের মত কোচ আর এভারটনের আসার পর পরই নিয়ে এসেছেন উইঙ্গার ইয়ানিক বোলাসিকে। অসাধারণ আরেকটি রুপকথার উপাখ্যান হলেও তাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ স্কাউটিং মানেই যে লোকটি সেটা বুঝা যায় একটা কথায়, “এটি নোলেজ। আপনি পৃথিবীর সব খেলোয়াড়কেই চিনতে পারবেন না, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট লিগ যদি টার্গেট করেন যেমনটা আমরা করি, তাহলে আপনি চেষ্টা করলে লিগের তুলনামূলক ভালো প্লেয়ারদের বের করতে পারবেন, আর এরপর তাদের সম্পর্কে আরো আরো চেষ্টা চালিয়ে যান”।

দেখা যাক সাফল্যের কত উপরে উঠে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম এই ডিরেক্টর।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 − 11 =