সোহানেই ভরসা

২০০৭ সালের মাঝামাঝি শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তিন টেস্ট ম্যাচের সিরিজের দলে খালেদ মাসুদের সঙ্গে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। ততদিনে দুটি টেস্ট খেলে ফেলেছেন মুশি। তবে শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে। ওই শ্রীলঙ্কা সফরের দলে মুশিকে রাখা হয়েছিল ব্যাক আপ কিপার হিসেবে। কারণ সুতোয় ঝুলছিল পথম পছন্দের কিপার খালেদ মাসদের ক্যারিয়ার!

সেই সফরে প্রথম টেস্টেও রান পেলেন না মাসুদ। সুতোটা কেটেই গেল।দ্বিতীয় টেস্টে জায়গা পেলেন মুশি। পি সারা ওভালে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। মাসুদের ক্যারিয়ারের ওখানেই ইতি, শুরু টেস্ট কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশি অধ্যায়ের।

২০০৭ সালের জুলাই থেকে এই পর্যন্ত কত কিছু বদলে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের! বদলায়নি একটি ব্যাপার। বাংলাদেশের টেস্ট দলে মুশফিকের উপস্থিতি। বাংলাদেশ, টেস্ট ক্রিকেট আর মুশফিক অবিচ্ছেদ্দ এক সম্পর্ক। আততায়ী চোটের ছোবলে সেই সম্পর্কে ক্ষনিকের ছেদ। সাড়ে ৯ বছর আর টানা ৪৯ টেস্ট পর মুশিকে ছাড়া টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ..

টানা ৪৯ টেস্ট অনায়াসেই বাংলাদেশের রেকর্ড। এর ৪৬টিতেই কিপিং করেছেন, আঙুলের চোটে তিনটি টেস্টে খেলেছেন শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে। টানা ২৭টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে টানা ৯২ ওয়ানডে খেলার রেকর্ডও তার। দলের এতটা জুড়েই আছেন মুশি…

ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ মুশিকে অবশ্যই মিস করবে। তবে আমি নিশ্চিত, ক্রিকেটের জন্য তার যে আবেগ-ভালোবাসা, সবচেয়ে বেশি মিস করবেন, কষ্ট পাবেন মুশি নিজেই…

একজনের না থাকা মানে আরেকজনের সুযোগ। শুধু কিপিং বিবেচনা করলে সোহান দেশের সেরা কিপার। ব্যাটিংয়েও খারাপ না। তাকে মোটামুটি লিমিটেড ওভার স্পেশালিস্ট বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে ফার্স্ট ক্লাসেই ওর ব্যাটিং রেকর্ড সবচেয়ে ভালো। ৪৯ ম্যাচে আড়াই হাজার রান, ৫টি সেঞ্চুরি, প্রায় ৪২ গড়। জাতীয় লিগে সবশেষ ম্যাচেই বেশ দুরূহ উইকেটে করেছিলেন দারুণ একটা সেঞ্চুরি। সোহান যদি একটু ঠাণ্ডা মাথায় সেটেলড হয়ে খেলতে পারে, টেস্টেও আমাদের সম্পদ হতে পারে সে…

সোহানের সুযোগ ছাপ রাখার। ইমরুলের চোটে ওপেন করার সুযোগ পাবেন সৌম্য। ওর সুযোগ ছাপ রাখার। তামিমের সুযোগ নেতৃত্বে ছাপ রাখার। নিজেকে আরেকটু জানার, কতটা প্রস্তুত নেতৃত্বের জন্য…

এবং বাংলাদেশরও সুযোগ ছাপ রাখার। সিরিজ জুড়ে যেভাবে চলে এসেছে, সেরকম ছোপ ছোপ ছাপ নয়… স্পষ্ট দাগ রেখে যাওয়ার মত ছাপ…

কজটা কঠিন। দল আরও দুর্বল, প্রতিপক্ষ আরও তেতে, উইকেট আরও কঠিন। তবে এসবও তো সুযোগ! চ্যালেঞ্জ যত কঠিন, সেটি জয়ের দাগও তত গভীর!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × one =