সেরার সংজ্ঞায় রাঙায়িত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

আসলেন, হাসলেন এবং জিতলেন ।

তবে এ জয়ের পেছনে রয়েছে পরিশ্রমের দৃঢ় গল্প । রয়েছে তিল তিল করে গড়ে তোলা সাফল্যের স্তম্ভ ।
রয়েছে অবিশ্বাস্য এক ফেরার রুপকথা । যে রুপকথা শুধু মুগ্ধতা ছড়ায়, যোগায় শুধু অনুপ্রেরণা ।

নতুন বছর, নতুন শিরোপা আর
নতুন বর্ষসেরার নব্যতায় রোনালদো ।
অসামান্য অনন্যতায় ক্রিশ্চিয়ানো বিশ্বসেরা রোনালদো !

মিলানে শেষ মুহুর্তের উত্তেজনা জয়,
প্যারিসে অশ্রুজলে সিক্ত বিজয় ।

উয়েফায় ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব,
ব্যালন ডি’অরে ফেরার কাব্য অমরত্ব ।

ইয়োকোহামায় শ্রেষ্ঠত্বে ষোল’র শেষ,
জুরিখে ‘দ্য বেস্টে’ সতেরোর সূচনা বিশেষ ।

জানুয়ারী ২০১৬ !
জুরিখে লিও মেসি ফিরিয়ে নিলেন তার ব্যালন ডি’অর ।
এরপর বছরের প্রাক-মধ্যিভাগে ঘরোয়া বগলদাবা ঘরোয়া লীগের শ্রেষ্ঠত্ব ।
প্রতিযোগীতায় ছিলেন, তবে চূড়ান্ত বিবেচনায় নীরব দর্শক হয়েই থাকতে হয়েছে তাকে ।
অপেক্ষায়, আশংকায় আরেকটি হতাশার বছর ।
তবে ফুটবল বিধাতা বোধহয় ভেবে রেখেছিলেন অন্যকিছু । মুদ্রার এপিঠে আঁকা শুরু হলেও মুদ্রার ওপিঠ বাঁজি মেরে দিলো ইতিহাসের পাতা বাড়িয়ে ।
১২ এপ্রিলে বার্নাব্যুতে বপন হয়েছিল এক রুপকথার বীজ ।
ভল্ফসবার্গকে হ্যাট্রিকে উড়িয়ে ইতিহাসের কাব্য বীজ প্রথম সাফল্যে প্রস্ফুটিতে লা-আনদেসিমায় ।
মর্যাদার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা অর্জন, আসরের সেরা গোল, সেরা খেলোয়ার, সেরা গোল সংগ্রাহক ।
এরপর তো সেই স্বপ্নের রুপায়ণ ।
বাস্তবায়ন এক যুগ আগে সৃষ্টিকর্তার নিকট এক আকুল আবেদন ।
প্যারিসের আলোকসজ্জ্বা শুরুতে তাকে সাজা দিলো বেদনার নীল রঙে । কিন্তু শেষতক সেই প্যারিসই তাকে উপহারে রাঙ্গালো বিজয় ইউরোপ বঙ্গে । এরপর ইউরোপের সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত সাথে ছোটখাট অনেক সম্মাননা ।
তবে ইতিহাস তখনও এভারেস্টের চূড়া থেকে উঁকি দিচ্ছিলো মিশ্র চাহনীতে । ভূকম্পনের ভূমিতে হারানো ভূস্বর্গ পুনরুদ্ধার । জুরিখে হারানো সেই ব্যালন ডি’অর ফিরে পেলেন ফ্রান্সে ।
৪-১ থেকে ব্যবধান টানলেন ৫-৪ এ ।
জয়ের নেশায় তখনো হিংস্র ক্ষুধার্ত ফিরে আসা মহারাজ ।
বছরের শেষ ভাগে এসেও মাতলেন নিজে, মাতালেন বিশ্বকে ।
ফাইনালে হ্যাট্রিকে নিজের নামের পাশে আন্তমহাদেশীয় ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বে হ্যাট্রিক ।
হারানোর বেদনায় শুরুর বছরটি সমাপ্তি টানলো প্রাপ্তির ইতিকাব্যে ।

এরপর. . ?
বছর শেষ, তবে শেষ নয় তার রাক্ষুসী ক্ষুধা । ক্ষুধাতেও কি শিল্প থাকে ?
অর্জনেও কি থাকে অনন্যতার ভূমিকা-উপসসংহার ?
উত্তরটা আরো রহস্যের গুহায় সেধিয়ে দিলেন ইতিহাস গড়ার মহাশিল্পীটি ।
নতুন বছরে নতুন বিহারে জিতলেন নতুন এক শিরোপা । জিতলেন ফিফা বর্ষসেরার মুকুট ।
উচিয়ে চুঁমু আঁকলেন ‘দ্য বেস্ট’ অলংকৃত শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা দণ্ডে ।

আসলেন, হাসলেন এবং জিতলেন ।
১২ মাসের ব্যবধানে জুরিখ কি নাটকই না মঞ্চস্থ করলো ।
সেই জানুয়ারী, সেই শহর ।
তবে আবহাওয়া ভীন্ন, ভীন্ন বিজয়ীর অবয়ব ।
এ অবয়ব দৃঢ়তার, এ অবয়ব সৃষ্টিশীলতার । সৃষ্টিশীলতার সমরে চির বরেন্য তিনি, চির অনন্য তিনি তার অর্জনে ।
একই বছরে এত অর্জন যে আর কারো নেই এই ফুটবল ধরনীতে ।
ধরনীকে সত্যিই সরা বানিয়ে ফেলা মহাতারকাটির নাম উচ্চারণ যেন এখন ক্ষতিহীন ব্যয়বহুল ।
তবে সত্‍সাহস তো দেখাতেই হবে সমাপ্তিতে ।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো !
উদিত সূর্যের সত্যতায় শ্রেষ্ঠ,
শ্রেষ্ঠ অস্তের ধারাবাহিকতায় ।
মিলান থেকে জুরিখ ! এ এক সভ্যতা গড়ার ইতিহাস ।
যে সভ্যতা ভবিষ্যতে হাজারো গল্প লেখার উত্তম উপকরণ ।
অথচ কি আশ্চর্য দেখুন, সভ্যতার কারীগর এই মহানায়ক মার্তৃগর্ভেই পৃথিবীতে অবাঞ্ছিত ছিলেন ।
শৈশবে ছিলেন দারিদ্র্যের গঞ্জনায় ।
আশ্চর্য পাশা বোর্ডের গুটি উল্টে মাদেইরা থেকে উড়াল ম্যানচেস্টারে । আর সেখানে প্রস্ফুটিত হয়ে মাদ্রিদে ।
লিসবন-ম্যানচেষ্টার-মাদ্রিদ !
শিশিরে সেখানে ঘাসগুলো উপসংহারে কি যেন বলে গেলো প্রভাতের কর্নে ।
হ্যা, বলে গেলো রোনালদোই সেরা ।
সেরার সঙ্গায় রাঙায়িত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দস সান্তোস এ্যাভেইরো ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fourteen − eleven =