সেপ মেইয়ার – আঞ্জিং এর এক বিড়ালের কথা

ওলে গানার সোলস্কায়ার : কার্যকরী এক সুপার সাব-কথন
জার্মানির গোলকিপিং ঐতিহ্যর কথা তুললে আপনার কোন ছবিটি চোখের সামনে ভাসে? আমাদের প্রজন্মের এই উত্তরের অধিকাংশই হবে, ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালে অলিভার কান এর হতাশ হয়ে বসে থাকার দৃশ্য। অতিমানবীয় লেভেল এর কিপিং করে বিশ্বকাপকে প্রায় নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি। এই কান কেও তিনটি বিশ্বকাপ এর বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল। যাদের জন্য বসে থাকতে হয়েছিল, তাদেরকেও কোন অংশে কম যোগ্য বলা যায় না : বোদো ইলনার ( বিশ্বকাপ+ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী), আন্দ্রস কোপকে (ইউরো জয়ী), জেন্স লেম্যান (‘ইনভিনসিবল’ আর্সেনালের গোলরক্ষক, চ্যাম্পিয়নস লিগের রানার্স আপ)। কানের পরে এসেছেন ম্যানুয়েল নয়্যার, মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন। হারিয়ে গিয়েছেন রেনে এডলার, জীবনযুদ্ধ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রবার্ট এংকে, ইলনার এরও আগে ছিলেন প্যাট্রিক ব্যাটিস্টন এর দাঁত ভেংগে কুখ্যাত হয়ে আবার সেই ম্যাচ এই দুইটা পেনাল্টি সেভ করা হ্যারল্ড শুমাখার। তারও আগে যিনি ছিলেন, তিনিই এই লেখার কুশীলব। তিনিই অলিভার কানের গুরু, প্রিয় শিষ্য কে জেন্স লেম্যানের চেয়ে জার্মানির এক নম্বর হবার যোগ্য বেশি বলে মনে করায় যাকে জাতীয় দলের কিপিং কোচ হতে ইস্তফা দেওয়া হয়েছিল। তিনি জার্মানির গোলকিপিং ঐতিহ্যর প্রথম সার্থক পুরোধা, বিদ্যুৎ রিফ্লেক্স এর অধিকারী, “আঞ্জিং এর বিড়াল” – জোসেফ ডিয়েটার সেপ মেইয়ার
 
১৯৪৪ সালের আজকের দিনে ব্যাভেরিয়ার মেত্তেন শহরে জন্ম সেপ মেইয়ার এর। স্থানীয় ক্লাব টিএসভি হার এর হয়ে তার ফুটবলে হাতেখড়ি, পরবর্তীতে যোগ দেন বায়ার্নের যুবদলে। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে, ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৯ – এই সময়ে টানা ৪৪২ টি বুন্দেসলিগা ম্যাচ খেলা হয় তার, যা আজও জার্মানির জাতীয় রেকর্ড…

ওলে গানার সোলস্কায়ার : কার্যকরী এক সুপার সাব-কথন

এই ১৯৬৬ এর বিশ্বকাপেই তার দলে অভিষেক হয়, হ্যান্স টিলকস্কি’র ডেপুটি হিসেবে। ১৯৭০ থেকে শুরু হয় জাতীয় ও ক্লাব দলে তাঁর স্বপ্ন যাত্রা। ১৯৭০ বিশ্বকাপে সেপ মেইয়ার প্রথম এক নম্বর গোল রক্ষক হন জার্মানির। সেবার তৃতীয় হয় তার দল।
 
১৯৭২ এ জার্মানির হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন সেপ মেইয়ার। ‘৭৪ সালে তার হাতে উঠে বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান কাপ দুইটিই। জয়রথ এখানেই থেমে থাকেনি, পরপর আরো দুইবার ইউরোপিয়ান কাপ জিতেন তিনি বায়ার্নের হয়ে। ‘৭৬ সালে ইউরোতে টাইব্রেকারে হেরে রানার্স আপ হয় সেপ মেইয়ার এর জার্মানি, বিখ্যাত “পানেনকা” কিকের গোড়াপত্তন হয় ওই টাইব্রেকারেই। এই বছরেই বিশ্বসেরা ক্লাবের শিরোপা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপও জিতেন তিনি। মুলার, বেকেনবাওয়ার, ব্রেইটনার, ভগটস, ওভারহ্যাথ দের পেছনে ফেলে একজন গোল কীপার হিসেবেই তিনবার জার্মানির সেরা ফুটবলার এর খেতাবও তিনি জিতে ফেলেছেন এর মধ্যেই…
 ওলে গানার সোলস্কায়ার : কার্যকরী এক সুপার সাব-কথন
১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ ছিল জার্মানির হয়ে সেপ মেইয়ার এর শেষ টুর্নামেন্ট। দৃঢ়তার সাথে গোলবার আগলে রাখলেও দলের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় রুখতে পারেননি তিনি। ১৯৭৯ সালে, এক সড়ক দুর্ঘটনার ফলে তার ক্যারিয়ারের ইতি টানতে হয়। এর মধ্যে জাতীয় ও ক্লাব দলের পক্ষে তার যথাক্রমে ৯৫ ও ৫৩০ টি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে, ট্রফি ও ব্যক্তিগত খেতাব জিতা হয়েছে ২০টির কাছাকাছি।
 
সেপ মেইয়ার এরপর এই দুই দলের হয়ে গোল কিপিং কোচের কাজ করেন এবং ২০০৮ সালে অবসর নেন। মেইয়ার এর কিপিং ছাড়াও তিনটি ব্যাপার তাকে আলাদা করে রেখেছিল – তার লম্বা শর্টস, আধুনিক গোল কিপারদের মধ্যে প্রচলিত কিন্তু তখন প্রায় দুর্লভ “মিকি মাউজ” গ্লাভস পরিধান করা, আর তার রসবোধ। অলিম্পিয়াস্টেডিওন এ এক ম্যাচে প্রতিপক্ষ তার রক্ষণ সীমানায় বল আনতে অনেক ক্ষণ ধরে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি এক পর্যায়ে মাঠে ঢুকে যাওয়া একটা হাঁস ধরতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন।
 
আজ তার জন্মদিনে একজন জার্মান সমর্থকের পক্ষ থেকে এই ক্ষুদ্র নৈবেদ্যটি দিলাম তাকে। শুভ জন্মদিন, সেপ মেইয়ার!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 3 =