সেই পুরনো স্পেন, দরকার আরেকটু ঘষামাজার!!!

স্পেনের খেলা দেখে যেটা মনে হল এরকম পারফেক্ট খেলা অনেকদিন হয় দেখি নাই। লাস্ট ২০১২ ইউরোতে দেখা গেছিল, ২০১৩ কনফেডারেশন কাপে বাজে খেলা শুরু যেটা ওয়ার্ল্ড কাপ ঘুরে আরো কিছু সময় পর্যন্ত ছিল। সেই স্পেন বছর দুয়েকের মধ্যে যে একেবারে আবার পারফেক্ট হয়ে যাবে এটা ভাবাটা কঠিন ছিল। তবে ইউরোর প্রথম দুই ম্যাচ দেখে যে কেউ বলবে ইউরোতে সবচেয়ে ভাল খেলেছে আরো ভালভাবে বলতে গেলে শিরোপা প্রত্যাশীদের মত খেলেছে এই স্পেনই।

ডিফেন্সে পিকে-রামোস জুটি অনবদ্য। দুইজনেই তাদের ক্লাবের ফর্ম টেনে এনেছে দেশের হয়ে যার ফলশ্রুতিতে প্রতিপক্ষ ফাকফোকর কম পাচ্ছে। লেফট ব্যাকে আলবা দুর্দান্ত, ডিফেন্সে যতটা সক্রিয় তার চেয়ে বেশি ভীতি ছড়ায় আক্রমণে। তার ওভারল্যাপিং গুলো এতই ভয়ানক যে নেক্সট থেকে প্রতিপক্ষ নিশ্চিতভাবেই তাকে নিয়ে আলাদা প্ল্যান করবে। মিডে দ্যা ইলুশনিস্ট ডন ইনিয়েস্তা তো জাদু ছড়িয়ে যাচ্ছে, বুস্কেটসও আছে তার মত। সেস্ক প্রথম ম্যাচে একটু খারাপ করলেও গতকাল নিজের ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছে সেকেন্ড গোলে অবদান রেখে। ফরোয়ার্ডে নোলিতো আর মোরাতা দুইজনেই ফর্ম ফিরে পেয়েছে প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে।

যেটা চিন্তার সেটা হল স্পেনের বামপাশকে যতটা বিপদজনক মনে হয় ডানপাশ থাকে তার চেয়ে বেশি নিরীহ। বামে আলবা-ইনিয়েস্তা-নোলিতো তিনজনেই নিজেদের সেরাটা দিচ্ছে যার ফলে বেশিরভাগ সফল আক্রমণগুলো ওদিক দিয়েই হচ্ছে। স্পেনের করা ৪ গোলের ৩ গোলই এসেছে বামদিক থেকে যেখানে এইসব গোলের পটভূমিতে ছিল নোলিতো, ইনিয়েস্তা ও আলবা। কিন্তু ডানপাশ সেরকম কার্যকরী নয়। হুয়ানফ্রান যদিও বেশ ভাল কিছু রান দেয়, কিন্তু এটাকিং থার্ডে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে, তার কাছ থেকে সেই লেভেলের ডেলিভারি আসে না প্রতিপক্ষের বক্সে। অন্যদিকে রাইট উইংয়ে খেলা ডেভিড সিলভার খেলাও মনমত হচ্ছে না। অনেকটা নির্বিষ স্পেনের অন্যতম সেরা এই ড্রিবলার। সে ও সেস্ক ফ্যাব্রেগাস থেকে আরো বেশি ক্রিয়েটিভিটি আশা করে স্পেন। তাহলে স্পেনের লেফট উইংয়ের পাশাপাশি রাইট উইংও ভীতি জাগানিয়া হবে। আর তা না হলে বিকল্প তো আছেই। হুয়ানফ্রানের বদলে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে আর্সেনালের হয়ে দুর্দান্ত খেলা বেল্লেরিনকে, গতির সাথে ডি বক্সে ভাল বল ডেলিভারি দিতে পারে সে। সেস্কের বিকল্প হিসেবে কোকে বা থিয়াগো কেমন খেলে তা চেখে দেখা যায়। ডেভিড সিলভার বদলে পেদ্রো বা লুকাস ভাজকুয়েজকেও বদলি হিসেবে নামানো যায়। মোটকথা যে বেটার পারফর্ম করবে তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত শুধু একটা নির্দিষ্ট একাদশের উপর ভর না করে।

প্লেয়িং স্টাইলের কথা বললে খেলায় কিছুটা চেঞ্জ এসেছে। আগের মত শুধু পাসিংয়ে নির্ভর না থেকে দূর পাল্লার শট, ক্রসিং, কুইক মুভমেন্ট এইসব জিনিস যোগ হয়েছে। চেকদের বিপক্ষে ইনিয়েস্তার ক্রস ও তুর্কিদের বিপক্ষে নোলিতোর ক্রস বলছে স্পেন এখন পাসের পাশাপাশি ক্রসেও কার্যকরী। এছাড়া পিকে ও রামোসের মত দুইজন অসাধারণ হেডার থাকায় সেটপিসেও ভয়ংকর স্পেন। প্রথম ম্যাচের পর সেকেন্ড ম্যাচেও পিকের সামনে গোলের সুযোগ এসেছিল। যেটা একটু ভাবনার সেটা হল কাউন্টারের সুযোগ থাকলেও স্পেন কাউন্টার এটাকে যেতে চায় না। সবকিছুর পাশাপাশি কাউন্টার এটাকটা থাকলে খেলার ধরন একেবারে পারফেক্ট হত।

তবে এখনো পর্যন্ত যেভাবে খেলছে এই খেলাটা ধরে রাখতে পারলে চিন্তার তেমন কারণ দেখি না। এই খেলাটা খেলে যেতে পারলে তিন নম্বরটা আসছে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × 4 =