সুপারম্যান থিং

একজন মদ্যপ গরিব মালি । বাগান টাগান করেন । যৎসামান্য উপার্জন করেন । উপার্জন যা করেন , তাঁর থেকে খরচ বেশি , দিনশেষে মদ গিলতে হবে তো । স্ত্রী তাঁর তিন সন্তানের দেখভাল করেন, পড়াশোনার খরচ জোটাতে অন্যদের ঘরবাড়ি পরিস্কারের কাজ করেন । এমন এক টানাপড়েনের সংসারে, আবার গর্ভবতী হয়ে পড়লেন স্ত্রী ।

তিনজন কে নিয়েই সামলে উঠতে পারেন না ,চতুর্থ জন ? একটা গালভরা নাম আছে জিনিসটার – এবোরেশন – সেটাই করবেন বলে মনস্থির করলেন ।

কিন্তু সৃষ্টিকর্তার হিসেব তো আলাদা ! হলো না এবোরেশন । পৃথিবীতে জন্ম নিল আরেকটি শিশু । মদ্যপ গরীব লোকটির চতুর্থ সন্তান ।

তিন দশক পরের ঘটনা । স্যান্তিয়াগো বার্নাবিউতে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা । স্টেডিয়ামে তিলধারনের জায়গা নেই । চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়াটার ফাইনাল । আগের লেগ ছিল জার্মানির মাটিতে । জার্মানির অপয়া মাটি । মান সম্মান ধুলোয় লুটিয়ে ,প্রতিপক্ষের দুই গোলের বিনিময়ে গোলশূন্য । কোন এওয়ে গোলও নেই । জিততে হলে করতে হবে কমপক্ষে ৩ টি গোল ।

রিয়াল মাদ্রিদের যে খেলোয়াড়টির কথা বলছি – অনেকের ভাষ্যমতে যিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম খারাপ একটি মৌসুম কাটাচ্ছিলেন- শিকারি নাম্বার নাইনের দক্ষতায় টিমমেটের লো ক্রসে পা ছুইয়ে দিলেন , ১-০ ।

মহান স্ট্রাইকাররা কখনো হেড দেয়ার জন্য বল কাছে আসার অপেক্ষা করেনা , তারা নিজেরাই বলের কাছে যান । সতীর্থ খেলোয়াড়ের লফটেড কর্নার থেকে অনেকখানি দৌড়ে , স্পেস বের করে বাস্কেটবল প্লেয়ারদের মত জাম্প , মাথার কোণাকুণি একটা মাপা টোকা । ২-০ । জি হ্যাঁ , আগের জনই । উন্মত্ত গর্জনে ছুটে গেলেন সাইডলাইনের দিকে । চোখমুখে ঠিকরে বেরুচ্ছে আবেগ । বার্নাবিউ তখন উন্মাতাল ।

যা হোক , যার কথা বলছিলাম, অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল – ফ্রিকিক নিতে ভুলে গিয়েছেন । ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে বক্সের সামনে ডান দিকে পেলেন একটি ফ্রিকিক । ৩০-৩৫ গজের মধ্যে । স্থির চোখে তাকিয়ে রইলেন কিপারের দিকে । রেফারি বাঁশি বাজানোর পর , খুব আস্তে একটি নিঃশ্বাস ছাড়লেন । ধীরপায়ে রান আপ নিয়ে শট টি নিলেন। ৩-০ । রিয়াল মাদ্রিদ টু সেমিফাইনাল ।

”ইউনাইটেডের ইতিহাসের সেরা দুজন খেলোয়াড় জর্জ বেস্ট এবং ডেনিশ ল । ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, তাদের দুজনের থেকে ভাল খেলোয়াড়।” – ইয়োহান ক্রুইফ, এপ্রিল, ২০০৮।
কিছু বুঝলেন ?

ইয়োহান ক্রুইফ শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড় নন । একজন ফুটবল বিশ্লেষক, একজন গেইম রিডার , একজন নতুন যুগের স্রষ্টা । নেদারল্যান্ডের টোটাল ফুটবলের মুল কারিগর টি ছিলেন তিনি ই – তার নিন্দুকেরাও স্বীকার করতে বাধ্য । খেলোয়াড়ি জীবনেও – তার মত করে ট্যাকটিকস টা দুনিয়ার অন্য কোনও খেলোয়াড় বুঝেনাই – বেকেনবাওয়ার ছাড়া ।
সেই বেকেনবাওয়ারকে তিনি ট্যাকটিকাল দক্ষতায় ছাড়িয়ে গিয়েছেন নব্বইয়ের দশকে এসে । বার্সার ল্যাতিন ঘরানার পাসিং ফুটবলের জমিতে, টোটাল ফুটবলের বীজ বপন করে – তিকিতাকা নামক ফসলের জন্ম দিয়ে ।

সেই ইয়োহান ক্রুইফ যখন বলে বসেন, রোনালদো ডেনিশ ল আর বেস্ট থেকে বেটার – তখন সেটাকে ফু দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই । আসুন দেখি,আমরা কতটা কি করতে পারি নিজেদের যুক্তি-বিশ্লেষন দিয়ে ।

রোনালদোর ন্যাচারাল পজিশন কি ?

লেফট উইং ।

কিন্তু বছর দশেক আগে অবস্থাটা এমন ছিলনা । খেলাটা শুরু করেছিলেন রাইট উইংগার হিসেবে । কিন্তু ডান পায়ের খেলোয়াড় হিসেবে কাট ইনসাইডে পারদর্শী হওয়ায়,স্পোর্টিং লিসবনে তাকে মাঝে মাঝেই শিফট করা হতো লেফট উইং এ । ০৩ এর ম্যান ইউ এর বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর, সেই ম্যাচ – যেখানে ম্যান ইউ রাইট ব্যাক জন ও শিয়া অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন হঠাত হাফটাইমে – ফার্গির শিষ্যরা এক প্রকার সুপারিশ করেই ক্রিস কে দলে ভেড়ায় ।

বাকিটা ইতিহাস ।

কিন্তু সব ইতিহাসের একটা মেইকিং থাকে । ক্রিসেরও ছিল ।

রনিকে প্রথম প্রথম রাইটে খেলালেন ফার্গি । দেখলেন ,১৭ বছরের তরুনটি, প্রতিপক্ষের লেফট ব্যাককে গতিতে পরাস্ত করে ডান প্রান্তে চলে যাচ্ছে – যে জায়গাটা একজন ডান পায়ের খেলোয়াড়ের জন্য ক্রসের আদর্শ জায়গা । কিন্তু নাম্বার ৭ এর ক্রসে মন নেই । সে উল্টো ওই এংগেল থেকেই পায়ের কারিকুরি করে বক্সে ঢুকে বুলেট গতিতে শট নিচ্ছে, নাহয় ড্রিবলিং করে ঢোকার চেষ্টা করছে, না হয় বল হারাচ্ছে ।
বিচক্ষন জহুরী ফার্গির রত্ন চিনতে ভুল হয়নি ।

৩-৪ ম্যাচ বাদেই নাম্বার ৭ কে খেলালেন, লেফট উইং এ ,গিগসের ন্যাচারাল পজিশনে ।
ওটা ছিল শুধু একটা ধাপ আরকি । এরপর ক্রিস্টিয়ানো যা শুরু করলেন সেটা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ অনেকদিন হলো দেখেনি ।

আউট এন্ড আউট উইংগার – ধারনাটার সকল প্রথা ভেঙ্গে দিয়ে ইউনাইটেডের বামপ্রান্তে দেখাতে লাগলেন ডেভিড কপারফিল্ডের জাদু । ইউনাইটেডের প্রতিটি ম্যাচ, একেকটি নিশ্চিত ম্যাজিক শো প্যাকেজ । কি নেই সেখানে ! একজন প্লেয়ারকে হয়তো গতিতেই পরাস্ত করছেন, তো সামনের জনকে কাটাচ্ছেন ৩৬০ দিয়ে,আর তার পরেরজনকে দুর্বার গতির স্টেপ ওভারে বোকা বানিয়ে ট্র্যাক চেইঞ্জ করে সেন্টারে ঢুকছেন , কখনো কর্নার ফ্ল্যাগের গজখানেকের মধ্যে ইলাস্টিকোর যথার্থ প্রয়োগে বক্সে ঢুকছেন। মাঝেমধ্যে হয়তো প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে স্টেপওভার কি , কাকে বলে, কতপ্রকার ও কি কি উদাহরন সহ শেখাচ্ছেন। এত স্কিলফুল ড্রিবলার, এর আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ দেখেছে কি না – সেটা নিয়েই হৈচৈ পড়ে গেল । প্রায়প্রতি ম্যাচেই চলতে লাগলো এরকম । এক মৌসুম পরেই আসল ইউরো ০৪ ।

রোনাল্দো ততদিনে, পর্তুগালের ”নতুন ফিগো ” খেতাব জুটিয়ে নিয়েছেন ।
পর্তুগাল তাদের সোনালি প্রজন্ম নিয়ে অংশ নিল সেই ইউরোতে । ফিগো,রুইকস্তা,নুনো গোমেজ,ম্যানিশে,রিকার্ডো,কুটো,ডেকো,তিয়াগো,পেতিত আর নতুন ফিগো ”ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ” ।

প্রথম ম্যাচেই গোল । সারাম্যাচ গ্রিসের রক্ষন কাপিয়ে দিয়ে একটি গোল করেও দলকে জেতাতে পারলেননা । তবে ভেঙ্গে পড়েননি । পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই খেললেন দুর্দান্ত । দুর্দান্ত গতি আর অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং এর মিশেলে, পর্তুগালের বাম প্রান্ত উজ্জ্বল করে রাখলেন পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই । সেমিতে হল্যান্ডের বিপক্ষে করলে গুরুত্বপুর্ন আরেক গোল, দল উঠলো ফাইনালে ।
ফাইনালে পর্তুগাল হারার পরে, ১৯ বছরের রোনালদোর বাচ্চার মত কান্না কাদিয়েছে বহু দর্শককে । তবে পার্ফর্মেন্সের পুরস্কার ঠিকই পেলেন- টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়ে ।

১৯ বছরের একজন তরুনের কাছ থেকে আর কিচাইতে পারেন আপনি ?

যা হোক, বাধ্যহয়ে ফার্গুসন, গিগসের মতন সিনিয়র প্লেয়ারের পজিশন বদলে রাইটে নিলেন – দলের প্রডিজিকে নিয়মিত খেলানোর জন্য ।

এক মৌসুম পর প্যাট্রিস এভরা আসলেন দলে -এই সলিড ব্যাক আপ টুকুই দরকার ছিল রোনালদোর । এভরা-ক্রিস্টিয়ানো জুটি এখনও প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইং জুটি ।

এরই মাঝে ০৬ এর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে , দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ গোল করে পর্তুগালের কোয়ালিফাইয়ে অবদান রাখলেন ।
বিশ্বকাপে, ফিগোর সাথে তার জুটি ছিল ওই বিশ্বকাপের সেরা উইং জুটি । ” রুনির লাল কার্ড” ঘটনার কারনে, ইংলিশ ফ্যানদের নেগেটিভ অসংখ্য মেইল – তাকে অল্পের জন্য টুর্নামেন্টের সেরা তরুন খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিততে দেয়নি ।

০৬-০৭ মৌসুমে রোনালদো করলেন ২২ গোল, প্রিমিয়ার লিগের তরুন সেরা খেলোয়াড়ের জন্য বরাদ্দ সবপুরস্কারই জিতলেন ।

পরের মৌসুমে জর্জ বেস্টের রেকর্ড ভেঙ্গে করলেন ৪২ গোল,জিতলেন জীবনের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ।

মৌসুম শেষে এল পরম আরাধ্য পুরস্কার -ফিফা প্লেয়ার অব দা ইয়ার এবং ব্যালন ডি অর ।

এই দুবছরে,ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বিশ্বকে নতুন করে ফুটবল শেখালেন । দেখালেন, একজন প্রথাগত স্ট্রাইকার না হয়েও, কিভাবে গোলবন্যা বইয়ে দেয়া যায় । কিভাবে একজন উইন্ঙ্গার হয়েও দলের মুল গোলস্কোরার হয়ে ওঠা যায় । বিশ্ব চিনলো এক নতুন মহাতারকা কে ।

গোল্স্কোরার হিসেবে রোনালদো যে পথচলাটা শুরু করেছিলেন, সেটা এখনও শেষ হয়নি । কিন্তু পরিবর্তন হয়েছে তার দল (রিয়ালমাদ্রিদ) , আরও শানিত হয়েছে আক্রমনের ধার ।

ইনজুরিজর্জরিত একটা দল নিয়ে, বিশ্বকাপ ১০ এর গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচেই হলেন ম্যাচ অব দা ম্যাচ।
পরের তিন মৌসুমে,লা লিগা এবং মাদ্রিদের রেকর্ডের খাতাছিন্নভিন্ন করে ফেললেন ।তেলমো জারার রেকর্ড ভানগ্লেন , পিচিচি জিতলেন ,প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগার সকল দলের বিপক্ষে গোল করলেন -তিনি স্ট্রাইকার নন,একজন উইংগার ।
দলের সেন্টার ফরোয়ার্ড না হয়েও দলের মুল গোলস্কোরার – মোটামুটি ভাবে একটা ধারার সুচনা করেছেন সর্বপ্রথম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ।

একটা পরিসংখ্যান দেই,

রিয়ালের হয়ে ৩৬৮ ম্যাচে ৩৮১ গোল রোনালদোর ।
এবং, তিনি আক্রমনভাগের বাম প্রান্তে খেলেন ( এখন প্রেক্ষাপট আলাদা , ক্রিস্টিয়ানো প্লেইস মাচ মোর সেন্ট্রাল রোল দ্যান আ উইংগার ) – রাউল,রোনালদো,ডি স্টেফানো,স্যানচেজ,জারা- এদের মত প্রথাগত স্ট্রাইকার নন । কিন্তু রিয়ালের হয়ে তার স্কোরিং রেট এদের সবার থেকে অনেক ভাল ।

আপনি যে বলবেন সে লালিগা সহজ পেয়ে মুড়ি মুরকির মত গোল করে – বিশয়টা তা না ।
ইউরোপের সবচাইতে হার্ডেস্ট এন্ড কম্পিটিটিভ লিগ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও ৩৪ গোল আছে এক মৌসুমে তার । লাস্ট ৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে করেছেন ৬৫ গোল , অর্থাৎ প্রতি মৌসুমে ১৩ টি করে !!

এই পোস্ট এর কিছু পার্ট ২০১৩ তে যখন লিখেছিলাম তখন বলেছিলাম রোনালদো ছাড়িয়ে যাবেন রাউল,স্তেফানো কে । সত্যিই তিনি তাই করেছেন । রিয়ালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা । চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা । পর্তুগালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ।

২০০৪ ইউরো , ২০০৬ বিশ্বকাপ , ২০০৮ ইউরো , ২০১০ বিশ্বকাপ , ২০১২ ইউরো , ২০১৪ বিশ্বকাপ , ২০১৬ ইউরো – টানা ৭ টি টুর্নামেন্টে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় ।
কিন্তু রোনালদো আমাদের মনে কিন্তু তার এইসব পরিসংখ্যান দিয়ে থাকবে না !

ক্রিস্টিয়ানো আমাদের মনে থাকবে সম্পুর্ন আলাদা একটা অনুভূতি নিয়ে । কি নাম দিব তার ? ফিনিক্সিজম ? বারবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে যেয়েও আবার বিধ্বংসী রুপে ফিরে আসা ?
” Your love makes me Stronger . Your hate makes me unstoppable. ”

আমি জানিনা । প্রথমবার ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার পর , গুনে গুনে টানা চারটি মৌসুম মেসি ব্যালন ডি অর জিতলেন । স্বয়ং তার ফ্যানরাই ক্রিস্টিয়ানোর ব্যালনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন । কিন্তু তিনি যে ক্রিস্টিয়ানো ! কিসের কি ! ফিরে এলেন দোর্দন্ড প্রতাপে ! টানা দুই বছর জিতলেন ব্যালন ডি অর । বেস্ট কামব্যাক আই হ্যাভ এভার সিন ।

প্রথম বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সব রেকর্ড ছিড়েখুরে ফেললেন । বায়ার্নকে তাদের মাঠেই ৪-০ । দলকে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন আপটু ফাইনাল । রিয়াল জিতল পরম আরাধ্য “লা দেসিমা” ।

দ্বিতীয় বছর , লালিগা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে গোলের বন্যা বইয়ে দিলেন – দল যদিও জিতেনি কিছুই। আগের মৌসুমের রেশ ধরে জিতলেন ব্যালন ডি অর । মেসির সাথে ব্যবধান ৪-২ ।

পরের বছর , মাদ্রিদকে জেতালেন এগারতম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ । যখন যেভাবে দরকার , সেখানেই “সেভিয়ার” হিসেবে হাজির । হোক সেটা ন্যু ক্যাম্পে বার্সার বিপক্ষে , হোক উলফস্পবার্গের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে । রোনালদো মানে , ১০ জনের দল নিয়েও বাঘের মত লড়াই করে আর “করিয়ে” ন্যু ক্যাম্পে বার্সাকে হারিয়ে আসা । আর ০-২ এ পিছিয়ে থেকে , হ্যাট্ট্রিক করে দলকে সেমিতে তোলা ! কোয়াটার থেকে অলমোস্ট সিঙ্গেল হ্যান্ডেডলি রিয়ালকে নিলেন ফাইনালে । বাকিটুকু মাদ্রিদের সোনালি সাফল্যে প্লাটিনামের প্রলেপ , লা উনদেসিমা জয় ।

এরপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ । ইউরো ২০১৬ । পর্তুগালের যখন যেখানে দরকার , ঠিক সেখানে সেখানে কন্ট্রিবিউট করলেন । পর্তুগালের ৬ টি গোলই হয় রোনালদোর করা , নাহয় “করানো” (এসিস্ট) । ইউরো ফাইনাল । দিমিত্রি পায়েতের সাংঘাতিক ট্যাকলে পেলেন অসহনীয় আঘাত । ব্যাথায় কুকড়ে উঠলেন । পড়ে গেলেন মাটিতে। এমনকি ঘোরতর শত্রুরও মনটা খারাপ হলো । না , ছেড়ে দেন নি । আবার চোয়াল শক্ত করে উঠে দাড়ালেন । জিততে হবে । জেতাতে হবে দেশকে ।

কদম বিশেক দৌড়েই আবার বসে পড়লেন । ব্যথায় কুঁচকে উঠল মুখ । হাতের ইশারায় মেডিকেল টিম ডাকলেন । স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার আগে দুঃখ ভারাক্রান্ত নয়নে নানি কে পরিয়ে দিলেন অধিনায়ক আর্মব্যান্ড ।

না । ফুটবল বিধাতা নিরাশ করেননি তাকে । পর্তুগালের একমাত্র মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্তের শিরোপা উঠলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হাতে । ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ডস স্যান্তোস এভেইরো – ম্যাদেইরার “জন্ম না হতে পারত” শিশুটি ।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে , বাকি সব “গ্রেট” প্লেয়ার থেকে আলাদা করে রাখে একটা জিনিশ । তার ধারাবাহিকতা । ২০০৬ , ২০০৭ ,…২০১১……২০১৬… স্টিল গোইং । টানা দশ বছর একটা প্লেয়ার সেইম রিদমে টপ ফর্মে খেলে যাচ্ছেন । কখন উইঙ্গার হয়ে উসাইন বোল্ট হয়ে স্প্রিন্ট দেন , কখনো বক্সে বাকি সবাইকে বামন বানিয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ক্লোনিং করেন , কখনো ব্রাজিলিয়ান রোনালদোর ট্রেডমার্ক স্টেপওভার ফিরিয়ে আনেন, ফিনিশিং এ কিংবা ওয়ান অন ওয়ান এ , কখনো রবার্তো কার্লোস হয়ে ফ্রিকিকে ভয় ধরান , কখনো কখনো মনোযোগী মনের উইংব্যাকের কাজও করতে দেখা যায় দলের প্রয়োজনে , নেস্তার পার্ফেক্ট স্লাইড ফিরিয়ে আনেন মনোযোগী ছাত্রের মত । সুপারম্যান থিং । ভুল বলেছি । জাস্ট রোনালদো থিংস ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

10 − 9 =