সীমানার ওপার থেকে: শুনতে কি পাও আইসিসি?

ইয়াহু

দুই সপ্তাহ হল বিশ্বকাপের আনন্দযজ্ঞের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি। ক্লাস বন্ধ, তাই সম্পূর্ণ মনোযোগ ক্রিকেটের উপরই বলা যায়। বলা যায়, ‘ ক্রিকেট সমুদ্রে অবগাহন করিয়া সময় কাটাইতেছি’ তা যা দেখলাম এই দুই সপ্তাহ ধরে, তাকে ঠিক আশাব্যঞ্জক বলা চলে না। কেন? সেই ব্যখ্যা দেবার জন্যই তো কলম ধরলাম। কলাম লেখার সুবিধাটা কি জানেন? নিজের মতামত মন খুলে প্রকাশ করা যায়। তা, এখন আপনাদের যে গদ্য পড়াবো সেটা একান্তই আমার মতামত। যেখানে মতামত আছে, সেখানে ভিন্নমত থাকতেই পারে। সেটা আপনারা জানাতে পারেন নির্দিষ্ট স্থানে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ এবার কিন্তু খেলা হয়েছে এক বিশেষ দিনে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে পুরনো শত্রুতা ঝালাই করে নেবার উপলক্ষ করে দিয়েছিলো বিশ্বকাপের সূচি। মনে হল, ইংলিশ খেলোয়াড়েরা হয়তোবা মাঠে থাকার চাইতে বিশেষ মানুষের সঙ্গই বেশি উপভোগ করতে চাচ্ছেন! ফিঞ্চ আর পিঞ্চ এর মধ্যে মিলের কথা আমি অসিদের নিয়ে ভবিষৎবাণী করার সময় বলেছিলাম, সেটা সত্য প্রমাণ করলেন ফিঞ্চ,১৩৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে। তাকে সহায়তা করেছেন ওকস, ০ রানে তার সহজ ক্যাচটি মুঠো বন্দী করতে পারলেই তো আর এমন হয়না অবস্থা! তো, এক ইনিংস শেষ হবার পরই মনে হল যে এই ম্যাচ দেখা থেকে ঘুমানো অনেক উত্তম।
এরপর আরও অনেক ম্যাচ হয়েছে, কিন্তু তথাকথিত বড় দলগুলোর এমন কয়টি ম্যাচ আছে যেগুলো শেষ পর্যন্ত দর্শক ধরে রাখতে পেরেছে? বরং উলটটাই সত্যি,বড়দের ম্যাচ দেখে ধুত্তরি সময়টাই নষ্ট বলে আমরা আফসোস করেছি, এক ইনিংস শেষ হলে ঘুমিয়েছি আর যে দলগুলোকে ছোট বলে অবহেলা করা হচ্ছিলো, তারা কিন্তু জাদু দেখাচ্ছে। আইরিশরা হেসেখেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের মেরে ভূত বানিয়ে ৩০০ রান তাড়া করে জিতেছে। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম নখ কামড়ানো শেষ দেখেছি শ্রীলঙ্কা আফগানিস্তান ম্যাচে। মাহেলার শতক না হলে অথবা থিসারা ঝড় না তুললে তো আরেক কেনিয়া লজ্জা দেখতে হতো লঙ্কানদের।
আজকের ম্যাচের কথাই ধরি, পাকিস্তান প্রথম দশ ওভারে করতে পারলো মাত্র ১৪, তাও ২ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে। এরপর মিসবাহ হাল ধরলেন। সেই শম্বুক গতির ব্যাটিং। ব্রিসবেনের গ্যাবাতেও বলকে ঘোরানো যায়- এটা প্রমাণ করে শন উইলিয়ামস একই ওভারে ঘূর্ণির শিকার বানালেন দুজনকে। ওয়াহাব রিয়াজের অর্ধশতকে পাকিস্তান ২৩৫ রান করলো। জবাবে জিম্বাবুয়ে ইরফান নামের এক গতিদানবের বাউন্সারের ছোবলেই শেষ হয়ে গেলো। ২৫ রান দিয়ে চার উইকেট নেওয়া ইরফানের ঐ বোলিঙের পরও কিন্তু শেষ দুই ওভারের আগে ফল আন্দাজ করা যায়নি। ৪৭তম ওভারে আফ্রিদি মেডেন নিলে তারপরেই না বোঝা যায় দিনটা পাকিস্তানের। টেলর মাসাকাদজারা চেষ্টা করলেও পারেননি দলকে জয় এনে দিতে।
ম্যাচটা কিন্তু উপভোগ্য ছিল। অপরদিকে ভারত পাকিস্তান, ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজ- এসব ম্যাচ দেখার জন্য মনে হয় প্রথম ইনিংসের পরে নেহায়েত বেকার মানুষ ছাড়া কেউ টেলিভিসনের সামনে বসেননি। একটু ভাবুন তো, আইরিশদের সাথে আরব আমিরাতের ম্যাচটা দেখেছেন কিনা? কিংবা স্কটল্যান্ড আর আফগানিস্তানের খেলাটা? ছোট বলে অবহেলা করে না দেখে থাকলে ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার দুটি অসাধারণ বিজ্ঞাপন মিস করলেন আপনি। এই দুটো ম্যাচের শেষ পর্যন্ত পর্দায় চোখ আটকে রাখার মতো উপাদান ছিল।

ইয়াহু
জিম্বাবুয়ে চমকে দিয়েছিলো পাকিস্তানকেও

অথচ, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! এই দলগুলোকে আইসিসির বদৌলতে আর বিশ্বকাপে নাও দেখতে পারেন! ২০১১ তে একবার শোরগোল তুলে ব্যর্থ হওয়া আইসিসি এবার কোমর বেঁধে নেমেছে ১০ দলের বিশ্বকাপ করার জন্য, যেখানে প্রথম আট দল হবে র্যােঙ্কিং এর সেরা আট আর বাকি দুটি আসবে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সাথে সহযোগী দেশগুলোর বাছাই পর্ব থেকে।
শুনতে খুব ভালো লাগছে, কিন্তু শুভঙ্করের ফাঁকিটা কোথায় জানেন? র্যা ঙ্কিং এ উন্নতির জন্য বেশি খেলার দরকার, সেখানে গত চার বছরে আইরিশরা ওয়ানডে খেলেছে মাত্র ১৫ টি! আমাদের সাকিবের দুই বছর পরে ওয়ানডে শুরু করেও তার চেয়ে বেশি খেলেছেন লঙ্কান সেনাপতি ম্যাথুস! তাহলে, উন্নতি হবে কিভাবে?

ইয়াহু
পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলায় উন্নতিটা আসছে না

এজন্যই শিরনামটা লিখেছি এভাবে। ছোট দলগুলো কিন্তু অন্যের আলোয় ঢাকা নেই, তারাই বরঞ্চ রোমাঞ্চ উপহার দিচ্ছে দর্শকদের, এক অসি কিউই মোকাবেলা ছাড়া আর কোন ম্যাচ যা দিতে ব্যর্থ। তাহলে, এদের আলোকে নিভিয়ে দিয়ে কি এক অর্থে ওয়ানডের কপালেই লাল বাতি জ্বলবে? কারন এখন মানুষ কুড়ি বিশের মহা উৎসবে বেশি আনন্দ পায়, আর সেটাতে ১৬ দলের আসার কথাও চূড়ান্ত। দুই আর দুই এ চার মিলালে ওয়ানডের ঈশান কোণে মেঘের রেখা দেখা যায়!
কর্তারা কি দেখছেন? নাকি দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকবেন?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

19 − thirteen =