ব্যাট বলের আদর্শ লড়াইয়ের অপেক্ষা

স্টার স্পোর্টস এর একটি বিজ্ঞাপন কি আপনাদের চোখে পড়েছে? ‘মওকা’ শিরোনামের বিজ্ঞাপনটি এবার দক্ষিণ আফ্রিকানদের নিয়ে করা হচ্ছে, পাকিস্তান বাঁধা অনায়াসে ডিঙিয়ে আসার পর। এই লড়াই অত সহজ হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং এই মুহূর্তে এমসিজির কন্ডিশনে বিশ্বের অন্যতম সেরা, আছেন স্টেইন, মরকেল, ফিল্যান্ডার- এদের নাম শুনলে এই সময়ের অনেক দুর্বিনীত ব্যাটসম্যানেরও হাঁটু কাঁপতে থাকে। এখানেই শেষ না, এদের যদি কোনভাবে পার করে দিতে পারেন, তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ঘূর্ণির মায়াজাল। এটা বিছাবেন ইমরান তাহির, তিনি যে সেটা ভালোই পারেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়ে প্রমাণ দিয়েছেন সেটার।

লড়াইটা হবে তেরঙ্গার বাহকদের ব্যাটিং আর রংধনুর দেশের বোলিং এর- এ কথা অনেকের কাছেই শুনে থাকবেন। পাকিস্তানের গেরো যেমন ভারত, তেমনি ভারতের বিশ্বকাপ গেরো এই দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের মাটিতেও তারা অজেয় ভারতের কাছে। ২০১১ বিশ্বকাপের ঐ ম্যাচে ২৯৬ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ভারত খুলতে পারবে গেরো?

সেটা যদি খুলতে হয় তবে ভারতের কাছে তার চাবি হবে ব্যাটিং। বিরাটের কাছে আবারো থাকবে বিরাট কিছুর প্রত্যাশা। শচীন কিন্তু বলে দিয়েছেন কাজটা মোটেও সহজ হবে না। আসলেই, স্টেইন, মরকেল, ফিল্যান্ডার, তাহিরের বিপক্ষে ৩০০ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া স্বপ্নেই সম্ভব এমসিজির এই উইকেটে, যেখানে গতিতারকারা ঝড় তুলে বিপক্ষকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে মুখিয়ে থাকেন। শর্মা, বিরাট, রায়না, মাহির সমন্বয়ে গড়া ভারতীয় ব্যাটিঙের অনেক বড় পরীক্ষা তাই আজ।

ভারতের আসল শক্তি ব্যাটিং
ভারতের আসল শক্তি ব্যাটিং

আমার মতে, ভারতকে আসল কাজটা করতে হবে বল হাতে। আপনারা যখন এই লেখা পড়ছেন, ভারতের ব্যাটসম্যানরা তখন সংগ্রাম করছেন গতির বিরুদ্ধ স্রোতে। সামি, আশ্বিন, ভুবনেশ্বরের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকান দের ব্যাটিঙকে ধসিয়ে দেবার কাজটাও সহজ হবেনা একদমই। কারন? আছেন হাসিম আমলা, তিনি রানে থাকলে হাসি গায়েব হতে বেশি সময় লাগবেনা ধোনির। এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ভুলে গেছেন? যদি গিয়েও থাকেন, কদিন আগেই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের নামে লেখানো মানুষটা আপনাকে সেটা মনে করিয়ে দিতেও সময় নেবেন না! পৃথিবীর একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে শতকের হ্যাট্রিক করা ডি কক আছেন কিন্তু এই দলেই! না, এখানেই শেষ না, মিলার আর দুমিনি দুজন মিলে জিম্বাবুয়ের স্বপ্নের সলিল সমাধি রচনা করেছিলেন, আছেন তারাও। সবকিছু মিলে ‘সাগরের মতোই গভীর’রংধনুর দেশের ব্যাটিং লাইনআপ।

আমলা-ভিলিয়ার্সদের খারাপ সময় প্রতিদিন আসে না
আমলা-ভিলিয়ার্সদের খারাপ সময় প্রতিদিন আসে না

ভারতীয় সমর্থকদের আরও একটু মন খারাপ করিয়ে দেই। বিশ্ব ক্রিকেটে ফিল্ডিঙকে অনন্য উচ্চতায় তুলে দেওয়া রোডসের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের কিন্তু পাকিস্তানিদের মতো মাখন মাখা হাত নয়। পয়েন্টে দাঁড়ানো এবির হাতে বল গেলে সিঙ্গেল নিতে হবেনা আর, ফিরতে হবে সাজঘরে। এই লেখা লিখতে লিখতেই একজন রান আউট  হয়েছেন সরাসরি থ্রোতে।

এমসিজিতে ভারতের সমর্থনের কমতি হবেনা। তবে তাদেরকে উৎসবে মাতানোর কাজটা পৃথিবীর সবথেকে দুরহ কাজের একটা হবে। যদিনা দক্ষিণ আফ্রিকানরা তাদের চোকার চরিত্রের পরিচয় দেয় রান তাড়া করতে গিয়ে। দুঃখের কথা এই যে, সেটাও নকআউট পর্বের আগে দেখা যায় না!

কি আর করা, উপভোগ করুন।
‘ মনেরে আজ কহ যে,
ভালো মন্দ যাঁহাই আসুক,
সত্যরে লও সহজে’

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 + 4 =