সাঙ্গার সাথে থিরিমান্নেঃ ব্রিটিশ আভিজাত্যের মুখে ঝাঁটা !

ইয়াহু

ওয়েলিংটনে শ্রীলঙ্কা আর ইংল্যান্ডের খেলা দেখে বা খেলার রেজাল্ট শুনে আপনি শান্তি পেতে পারেন , আবার অশান্তি পেতে পারেন । আমার জায়গা থেকে আমি বলবো , “শান্তি পাওয়ার কারণটা বেশি ”…

প্রথমত, কোয়ার্টারে যাওয়ার জন্যে বাংলাদেশের সমীকরণটা সহজ থাকলো । আর কোন ম্যাচ বৃষ্টিবাদলায় ভোগে না গেলে ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ড- যেকোনো একটা বড় ম্যাচ জিততে হবে । সাথে স্কটল্যান্ড ম্যাচ জিততে হবে সেই কথা তো না বললেও চলে । স্কটল্যান্ডের সাথে হেরে গেলে আপনি বাঙলাদেশি হিসাবে আপনার দল সেরা আটে যাবে এটা আশা করা আপনার জন্যে পাপ । কঠিন কাজ ! কিন্তু সরল সমীকরণ !
আরেকটা হলো সাঙ্গা আর থিরিমান্নে আজকে ব্রড আর এন্ডারসনদের যেভাবে পিটলো , তাতে আপনি এখনো ভাবতেই পারেন , শ্রীলংকা শুধু বাংলাদেশের সাথেই ভালো না ! তারা আসলেই ভালো !

শ্রীলংকার পিটুনির কথা যখন বললামই , তাহলে ওখান থেকেই শুরু করি । আজকে সাঙ্গাকারা শেষ পাওয়ারপ্লে আর তার আগে পরে যেভাবে মারলো , তাতে আমার একটা কথাই মনে হয়েছে । বাংলাদেশের সাথে ৫০ ওভারে ওর পোষায় নি । সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ম্যাচে বারবার সৌভাগ্যের কারণে বেঁচে যাওয়া লাহিরু থিরিমান্নে । বাংলাদেশের সাথে আউট হয়েছিলেন একমাত্র থিরিমান্নে আর এদিন ইংলিশদের সাথে হলেন দিলশান । উইকেট সেই একটাই পড়ল ।

ইয়াহু
সাঙ্গাকারার আরেকটি চোখজুড়ানো শট

তাছাড়া বাদবাকি শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের সাথে যেখানে একদম ফুলস্টপ দিয়েছিল ব্যাটিং এ , আজ সেখান থেকেই পরের লাইন লেখা শুরু করলো । ফাড়াক আরেকটা ছিলো এইদিন ইংল্যান্ডের ৩১০ রান তাড়া করছিলো শ্রীলঙ্কা । কিন্তু সাঙ্গাকারা আর থিরিমান্নের ব্যাটিং তো আছেই , ইংলিশরা এত এত হাফভলি আর ক্যাচমিসের মহড়া দিলো যে , মনে হলো তাদের অপনেন্টকে তারা ৩১০ না , টার্গেট দিয়েছে ৪০০ এর আশেপাশে কোন কিছু । ফলাফল যা হবার তাই ! সাঙ্গাকারা আর থিরিমান্নে সেট হবার পরে কখনোই লাগে নাই যে , ইংলিশরা কোন এক্সাইটমেন্ট এই ম্যাচে আনতে পারে ।

ইয়াহু
হাসিটা ওদের মানায় !

দলের ১০০ রানে দিলশান আউট হবার পরে সাঙ্গাকারা নেমে জুটি বাঁধলেন থিরিমান্নের সাথে । তারপরে জাস্ট একটাই স্টোরি । সাঙ্গাকারা প্রথমে একপাশ থেকে থিরিমান্নের শটগুলো দেখলেন । দেখে অন্যরকম তৃপ্তি লাগার কথা সাঙ্গার ! থিরিমান্নে যে খেলেন অনেকটা তার মতোই ! তারপরে ২৭-২৮ ওভার পেরোতেই শুরু করলেন দারুন সব শট !

ইংলিশ পেসারদের মধ্যে পুরো ১০ ওভার করেছেন কেবল ব্রড ! তাতে খরচা ৬৭ রান । ৮ ওভার করে করলেন জিমি এন্ডারসন আর ক্রিস ওকস ! তারাও কম যান না ! ৪৮ রান আর ৫৪ রান !

ইয়াহু
বিফলে রুটের শতক

ম্যাচে কিন্তু হান্ড্রেড এই দুটোই না ! সেঞ্চুরি করেছিলেন রুটও ! তা না হলে দলের আর কোনো ফিফটি না থাকলেও রানটা ৩০০ পেরোলো কি করে ? কিন্তু বরাবরের মতোই ১০৮ বলে ১২১ রানের ইনিংসও রুটকে রেখেছে আলোচনার বাইরে ! দিনশেষে পরাজিতের নাম কেউ যে মনে রাখে না !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two + eighteen =