সাকিব আল হাসান, আমাদের ক্ষমা করবেন।

প্রিয় সাকিব,
সেই ২০০৬ সাল থেকে আপনি বাংলাদেশকে নিজের সবটুকু দিয়ে যাচ্ছেন তিলে তিলে। একসময় আমরা ভাবতাম আজকে কোনরূপ ২০০ ছুঁতে পারলেই হবে, আপনি আমাদেরকে দেখালেন যেদিন আপনি দাঁড়িয়ে যান সেদিন দু’শ কোন ব্যাপারই না, আপনি আমাদের বোঝালেন স্বপ্নটা একটু বড় করা দরকার এবার, আমরা বুঝলাম। আমরা টিভি সেটের সামনে আজকে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে ভেবে বসতে শিখলাম। আমাদের স্পিনের একমাত্র ভরসা কিংবদন্তী মোহাম্মদ রফিক যখন ক্যারিয়ারের শেষের দিকে আমরা অপেক্ষায় ছিলাম একজন রফিকের, আপনি আমাদের ভরসা দিলেন ‘সাকিব ত আছে’, আমরা আবার আশায় বুক বাঁধলাম। সাকিব আল হাসান, আমরা কখনোই ভাবতাম না আমাদের একজন হবে বিশ্বসেরা, আপনি এখানেও আমাদের ভুল প্রমাণ করলেন।২০০৯ সালে আপনি জ্যাক ক্যালিসের মত বাঘা বাঘা অলরাউন্ডারদের টপকে হয়ে গেলেন বিশ্বসেরা। আমাদের গর্ব করার মত একটা কারণ দিলেন আপনি। বাংগালীদের মিনোজ বলা উজবুকদের মুখেও আপনি প্রশংসিত হয়েছেন বহুবার।
২০০৭ বিশ্বকাপে আপনাকে অন্তর্ভুক্ত করার পর আমাদের দলটা প্রথমবারের মত পা রাখে সেকেন্ড রাউন্ডে। সেই বিশ্বকাপে ইন্ডিয়ার বিপক্ষে মুশি, তামিমের পাশাপাশি আপনার সেই অর্ধশত রানের ইনিংসটি না হলে তাদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়টা হয়ত আমরা পেতাম না। আপনি একজন সাকিব আমাদের জিতিয়েছেন, জিতিয়ে গেছেন, যাচ্ছেন। আচ্ছা আপনার কি মনে আছে একই বছর সেপ্টেম্বরে টি২০ বিশ্বকাপে আমরা ওয়েস্টইন্ডিজকে হারিয়ে সেকেন্ড রাউন্ডে গেছিলাম? আপনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩ উইকেটের বেশি পেয়েছিলেন আপনি। যদি এস্পিসিফাই করে বলি তবে সেই ম্যাচে বোলিং ফিগারটা ছিল ৩৪ রানের বিনিময়ে ৪উইকেট। হয়ত মনে নেই আপনার, থাকবেই বা কিভাবে! এর পরে ত বহুবার আপনি আমাদের জিতিয়েছেন, গর্বিত করেছেন। প্রিয় সাকিব, আমরাও ভুলে গেছি। ২০০৮ সালে সাউথ আফ্ররিকার সাথে টেস্ট সিরিজে মাখায়া এন্তিনির সাথে যৌথভাবে লিডিং উইকেট টেকার হওয়া, একই বছর শ্রী-লংকার মত দলের বিপক্ষে ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হওয়া সহ আরো কত অরজন আপনার! ২০০০ সালের পর থেকে একই টেস্টে সেঞ্চুরি আর পাঁচ উইকেট নেয়ার ঘটনা যেখানে মাত্র পাঁচবার সেখানে দুবারই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন আপনিই। আমরা সব ভুলে গেছি।
ক্রিকেটে আমাদেরকে বেস্ট সাপোর্টার বলা হয় কিন্তু আমরা আসলে বড্ড বেশি স্বার্থপর সাপোর্টার। আমরা শুধু আপনার অর্জনটুকু দেখছি, এর পিছে আপনার ঝরে যাওা ঘামের একটি বিন্দুও উপলব্ধি করি নি কখনই। যদি করতাম তবে কখনই আমরা আপনার কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলতাম না, কখনই আপনার সহধর্মীণীকে নিয়ে কুমন্তব্য করতাম না। বাংলাদেশের যখন সাকিবকে প্রয়োজন ছিল তখন আপনি সাকিব আল হাসান ছিলেন। আপনার যখন বাংলাদেশের একটু সমর্থন দরকার হয়েছে আমরা আপনাকে শুধুই ক্রিটিসাইজ করেছি তাও কুরুচিপূর্ণ ভাবে। আমরা বড্ড বেশি স্বার্থপর।
প্রিয় সাকিব ,আমাদের ক্ষমা করবেন।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 + fourteen =