কি অবস্থা সাকিবের আঙ্গুলের?

কি অবস্থা সাকিবের আঙ্গুলের?

তো আমরা আঙুলের খোঁচায় কী-বোর্ডে ঝড় তুলে সাকিব কে তুলোধুনো করছি। সাকিবের আঙুলের খোঁজ নেই একটু, নাকি?

এই যে ফ্লোরিডায় দুটি ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ, সাকিব ম্যান অব দা সিরিজ হলেন, ম্যাচ দুটি সাকিব খেলেছেন ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে। বাঁহাতের কনিষ্ঠায় প্রচণ্ড ব্যথা। সেই যে জানুয়ারীতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আঙুলে চোট পেলেন, সেই ব্যথা পরে ফিরে এসেছে আবার…

অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে একবার ইনজেকশন দিয়ে এসেছেন। তাতে কিছুদিন ব্যথা কম ছিল। পরে আবার বেড়েছে। ব্যথা নিয়েই খেলছেন। অসহনীয় হয়ে উঠলে কর্টিজন ইনজেকশন নিয়ে খেলছেন…

ব্যথা নিয়ে খেলার কি দরকার?

”আপনারা” বলেন, টাকার জন্য। টাকার জন্য খেলে সাকিব। আমরা বলি, দেশের জন্য। দেশের জন্য খেলছে…।

আপনাদের কথা বাদ দিলাম। আমাদের কথাও গোণায় ধরার দরকার নাই। দল কি বলে? দল বলে, সাকিবকে দলের দরকার। বড্ড বেশি দরকার। তাই ব্যথা নিয়েও খেলতে হচ্ছে তাকে…

সমাধান কি?

অপারেশন। আজ হোক বা কাল, অপারেশন লাগবেই। আঙুলের জয়েন্টের হাড় দুটি ঘষা খাচ্ছে। তাই সে আঙুল শতভাগ কাজে লাগাতে পারছে না। ব্যাটিংয়েই সমস্যা বেশি হচ্ছে। হাড় চেছে দিতে হবে…

অপারেশন করালেই হয়…!

হয় না। কারণ ওই যে, আপনি-আমি যতোই তাকে শূলে চড়াই, দলের যে তাকে দরকার! অপারেশন করালে মাঠে ফিরতে সময় লাগতে পারে মাস দুয়েক। সামনে দুই মাস ফাঁকা সময় কোথায়? আগামী মাসে এশিয়া কাপ। পরের মাসে আসবে জিম্বাবুয়ে। তার পরের মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়ার দুই সপ্তাহ পরই বিপিএল জানুয়ারিতে…

বিপিএল খেলা বাদ দিতে বলবেন তো? ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই নিউ জিল্যান্ড সফর। শেষ হবে মার্চের মাঝামাঝি। মে মাসের শুরুতে আয়ারল্যান্ড ট্যুর। মে মাসের শেষে বিশ্বকাপ…! নিউ জিল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ড সফরের মাঝে করা যায়। কিন্তু টাইমলি রিকভার করতে না পারলে? বিশ্বকাপের আগে অনেক ঝুঁকি হয়ে যাবে…

এখন উপায়?

সাকিব দেশে ফিরলে তাকে নিয়ে বসে, বিসিবির ডাক্তার-ফিজিও ও টিম ম্যানেজমেন্ট মিলে সুবিধাজনক সময় খুঁজে বের করা হবে। তবে আপাতত অপারেশন না করার সম্ভাবনাই প্রবল। আপাতত ব্যথা নিয়ে ইনজেকশন দিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে হবে। যদি একদমই অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে…

ও হ্যাঁ, অপারেশন করলেও সমস্যাটা শতভাগ ঠিক হবে না। হাড় যে চেছে দেওয়া হবে, সময়ে আবার তা বাড়তে পারে। তবে শতভাগ ঠিক হওয়া আপাতত জরুরী নয়। ৬০-৭০ ভাগেও কাজ চলে যাবে…

তো, আমরা আঙুল দিয়ে কী-বোর্ডে সাকিবকে উচিত শিক্ষা দিয়ে দেশ উদ্ধার করতে থাকি… সাকিব আঙুলে ব্যথা নিয়েও ক্রিকেট মাঠে দেশকে উদ্ধার করতে থাকুক… তার পরও আমরাই বড় দেশপ্রেমী। সাকিব টাকাপ্রেমী…

সাকিব ভাঙা আঙুল নিয়ে, ব্যথা সয়ে, দলকে জিতিয়ে, দেশের নাম উজ্জ্বল করে, ম্যান অব দা সিরিজ হয়ে আসবেন। এরপর আমরা তাকে উত্যক্ত করে একটা দুর্বল মুহূর্তের ভিডিও দিয়ে তার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করব… তার পরও সে দায়িত্বশীল না, আমরা দায়িত্বশীল। তার আচরণ খারাপ, আমাদের ভালো…

আমাদের সবার বাসায় আয়না আছে। আয়না দেখে চুল ঠিক করি, ক্রিম মাখি, চেহারা দেখি। আয়নায় নিজেদের ভেতরটা দেখি না। দেখলে জানতাম, আমরা অদ্ভূত রকমের ভণ্ড..!

(ম্যান অব দা সিরিজ হলে কিংবা দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হলেই দর্শকের দিকে তেড়ে যাওয়া বা বাজে ইঙ্গিত জায়েজ হয় না। তবে কোন পরিস্থিতি, কোন প্রেক্ষাপটে, কিভাবে কখনও কখনও মানবীয় ভুল হয়ে যায়, তা আগের পোস্টে, সাকিবনামা-১-এ আমার মতো করে ব্যাখ্যা করেছি)

আরও পড়ুন –

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × 4 =