সাকিবের দুর্ব্যবহারের নেপথ্যে…

কয়েকটা নরম্যাল ছবি তোলা হয়ে গেছে একজনের। তার পর সে বলবে, “ভাই একটা সেলফি…।”

সেলফি তোলা হলে বলবে, “ঝাপসা হইছে, আরেকটা…।”

“একটু হাসেন…”… “একটু এই দিকে তাকান”… “একটু কাঁধে হাত রাখবেন?”… “একটু কাঁধে হাত রাখি…” । চলতেই থাকে এসব। কখনও আবার ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে সরাসরি কাঁধে হাত রেখে বা জড়িয়ে ধরে সেলফি… এমনকি হাত ধরে টানটানিও হয়…।

কিংবা হয়ত ওই ক্রিকেটার দাঁড়িয়ে আছে বা কথা বলছে কারও সঙ্গে, কিছু না বলেই ভিডিও করা শুরু করে দেয়…

একটা-দুইটা না, এরকম অসংখ্য ঘটনা আমার, আমাদের চোখের সামনে দেখেছি। মাশরাফি হোক বা মিরাজ, ইমরুল বা রুবেল, কিংবা দলে একদমই নতুন আসা ছেলেটা, এমন কেউ নেই যাদের এরকম অভিজ্ঞতা হয়নি। ওরা ম্যাচ খেলে এলো নাকি খেলতে যাচ্ছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনিং করে ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে আছে নাকি ট্রেনিংয়ে যাচ্ছে, টায়ার্ডনেস কিংবা অন্যান্য পারিপার্শ্বিকতা, এসবের ধারও ধারে না কথাকথিত ভক্তদের অনেকে। আবারও বলছি, নিজে চোখে অনেক অনেক দেখেছি কমনসেন্স কতটা আনকমন…

অনেকেই বলতে পারেন, ভক্তরাই তারকা বানায়। তারকাদের উচিত সংযমী হওয়া, সহ্য করা…। বলা খুব সহজ, কিন্তু দিনের পর দিন সহ্য করা কঠিন…। কখনও কখনও এতটাই বিরক্ত করে, সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়…

বলবেন, সাকিবের জায়গা থেকে সাকিব ঠিক করেনি। তো আমার-আপনার জায়গা থেকে আমরা কতটা ঠিক কয়বার করি? সেলিব্রেটিদের দায়িত্ব আছে, ভক্তদের, আমজনতার দায়িত্ব নাই? আপনি তার কাছে জীবনে একবার গেছেন, একবার বিরক্ত করছেন। কিন্তু সাকিবদের তো আপনার মতো আরও অনেক আপনাকে দিনের পর দিন সহ্য করতে হয়। কখনও কখনও মেজাজ হারানো অস্বাভাবিক না… ওরা মানুষ। ভুল হয়। চাবি মাইরা ছাইড়া দেওয়া রোবট ওরা না।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে অসংখ্য লোক আছে, সাকিব দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো কথা বা কাজ করলেও তার মধ্যে ভুল বের করবে। এই ভিডিও দেখে তো আকাশের চাঁদ হাতে পাবে তারা। তাদেরকে কিছু বলার নাই। কিন্তু যারা বোধসম্পন্ন, তারা নিশ্চয়ই হিউম্যান এরর বুঝবেন!
………………….

সাকিবের ভিডিও নিয়ে ঘটনাস্থলে থাকা Sheikh Minhaj Hossain– এর কথা নিচে…

“সাকিব এক দর্শকের সাথে খুব রাগ করছেন, এমন একটা ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। ওখানে ক্যাপশন হচ্ছে যে, একজন লোক সাকিবকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ব্যাপারে প্রশ্ন করায় সাকিব তেড়ে গেছেন!

প্রথমে বলে নেই, যত যাই হোক, সাকিবের ওভাবে তেড়ে আসা ঠিক হয়নি। আমি সাকিবের তেড়ে আসা সমর্থন করছি না। দেশের আইকন হিসেবে তাঁর আরেকটু সচেতন থাকা উচিত। কিন্তু আসলে প্রশ্নটা মোটেও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ব্যাপারে ছিল না। ওই লোক সাকিবের কাছে বারেবার অটোগ্রাফ চাইছিল। সাকিব প্রথমে একটা সেলফি তুলেছে। এরপর আবার ভিডিও করতে চায়। সাকিব তখন ম্যাচ শেষে টায়ার্ড। সাকিব পারবে না বলে সামনে চলে যায়। লোকটা পিছন থেকে “ভাব মারায়” বলে বাজ ভাষা ব্যবহার করে। সাকিব তখন চেতে ফেরত আসে!

ওখানে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন ছিল না।

আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন। আমি তখনই হোটেলে ঢুকেছি। আশেপাশের সব মানুষ একই কথা বলছিলো। সবাই আরও ওই ছেলেটার উপর ক্ষ্যাপা ছিল। ছেলেটা কেন বেশি বিরক্ত করছিলো, এবং সাকিবকে পিছন থেকে অশালীন মন্তব্য করলো? এখন ফেসবুকে দেখি মানুষ ক্যাপশন দিয়েছে যে, ওটা “নিরাপদ সড়ক চাই” এর ব্যাপারে ছিল। অথচ গতকাল ওইসময় এ ব্যাপারে কোন কথাও হয় নাই!”

আরিফুল ইসলাম রনি’র স্ট্যাটাস থেকে…

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten + fourteen =