সাকিবের আউট হবার ধরন এবং…

সম্প্রতি সাকিবের আউট হবার ধরণ নিয়ে চলছে সমালোচনা। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, কবে ভালো বলে আউট হয়েছেন, সেটা তিনি নিজেও জানেন না! নিউজিল্যান্ডের প্রতিকূল কন্ডিশনে ডাবল সেঞ্চুরি করে যেখানে তার থাকার কথা ছিল সবার নয়নের মণি হয়ে, সেখানে তিনি হয়ে গেছেন যেন চোখের বালি। কিন্তু কেন?

কারণ হচ্ছে তার ডিসমিসালের ধরণ। কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার আউট এর ধরণ দেখেছেন? কিংবা আরও একটু পিছনে যদি যাই, ইংলিশদের বিপক্ষে এক টেস্টে মইন আলীকে কিভাবে নিচে নেমে খেলতে গিয়ে অহেতুক গিফট দিয়ে এসেছেন, সেটা মনে আছে?

সাকিবের অভিষেকের সময় থেকে তাকে অনুসরণ করি আমি।তিনি এদেশের ক্রিকেটে একটি নতুন যুগের প্রতীক এবং একজন অনুসরণ যোগ্য আইকন, এটা অবশ্যই মানতে হবে। ২০০৭ বিশ্বকাপে তার ভারতের বিপক্ষে করা ফিফটি কিংবা শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার সেই ৫৭ বলে ৯২ রানের ইনিংস, যেটাকে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ইনিংস বলা হয়, সেগুলো একটু খেয়াল করলে দেখবেন, সাকিব লেগ সাইডের তুলনায় অফ সাইডে অনেক বেশি খেলতে পছন্দ করেন। ঠিক এখানেই বিপত্তি। অফ সাইডে আমি যদি ৯ জন ফিল্ডার ও রাখি, তাতেও কিন্তু আইন ভাঙ্গা হয় না। কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এবং দ্বিতীয় টেস্টে কেন উইলিয়ামসনের ক্ষুরধার মস্তিস্ক এই ফাঁদেই ফেলেছে সাকিবকে। দুই বারই সাকিব আউট হয়েছে কাট বা এই ধরনের শট খেলতে গিয়ে। আর এমনিতেই তার ধৈর্য একটু কম। তার প্রমাণ মইন আলীর বলে অহেতুক নিচে নেমে খেলতে গিয়ে উইকেট উপহার দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে আসা।

এভাবে তার মতো একজন বিশ্বসেরাকে বার বার শেষ হতে দেখেই হয়তো বিরক্ত সবাই। আশার কথা হচ্ছে, তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন ব্যাপারটা। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন তিনি।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 − 6 =