সর্বসেরা ফ্রান্স, সর্বজয়ী ফ্রান্স!

শ্রেষ্ঠ ফ্রান্স, শীর্ষ ফ্রান্স, সেরা ফ্রান্স!

তারুণ্যর জয়গান রাশিয়ার বিশাল বুকে, শ্রেষ্ঠত্বের শ্লোগান প্যারিসের লাস্যময়ী বুকে । এক যুগ আগের সেই বার্লিন বেদনা মুছে গেল মস্কো মঞ্চের শ্রেষ্ঠত্বে । জিদান, পিরলোদের হাহাকার মোচন এম্বাপ্পি, গ্রিজম্যানদের নব পিষ্ঠে চেপে । তবে সবচেয়ে বড় মোচন বোধহয় ঐ দেশমেরই । খলনায়ক থেকে এই মুহুর্তে ফ্রান্সের জাতীয় নায়ক । জাগালো, ম্যাথিউসদের লিজেন্ডারি নামের পাশে এখন শ্রদ্ধা আর বিস্ময়াভিভূত ভাবে উচ্চারিত হবে দিদিয়ের দেশমের নাম । উচ্চারিত হবে ১৯ ছোঁয়া এম্বাপ্পির নামও । এবং সেটি কিনা খোদ কিংবদন্তি পেলের পাশেই । টিন এজ পেলের পর আজ অব্দি কেউ যে ছিলোনা মহাযজ্ঞের ফাইনালে গোল করার । গোল করার এই উৎসবে সবার আগে ফটোফ্রেমে বাঁধাই হয়ে থাকবেন হুগো লরিসও । ইকার ক্যাসিয়াস সেবার দস্তানা হাতে এসেছিল, এসেছিল অধিনায়ক স্বারক পরে । ফিরেছিল হাতে অদ্ভুত জৌলুসী ঐ সোনালী ট্রফি নিয়ে ।

আর ক্রোয়েশিয়া?
সবকথার রুপকথা হয়ে রইল ক্রোয়াটদের এই অদ্ভুত যাত্রা! কে জানতো, মদ্রিচরা খেলবে রাশিয়ার শেষ ম্যাচ? ক্রোয়াটদের অদম্য যাত্রা থামলো অন্তিমে । স্বপ্নটা লন্ডভন্ড লুঝনিকিতে । দেশে ফিরে বীরম্বর অভ্যর্থনায় হয়ত পাবে মদ্রিচরা । প্রলেপ কি পাবে অভেদ্য হয়ে ওঠা সুবাসিচ? তাতে কি ভাঙ্গা স্বপ্নের ক্ষতে প্রলেপ মিলবে চক্রবক্রদের? হয়ত মিলবে আস্তে আস্তে সময়ের বেয়ে চলায় । কিন্তু একটি নাম হয়ত সেই প্রলেপে কখনোই বিধৌত হবেনা । মারিও মানজুকিচ!
ক্রোয়াটরা যারা লম্বা পা শক্ত খুলিতে চড়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বপ্ন বেধেছিল সেই সুপার মারিওই নিজের কাছে নিজে হয়ে থাকলো এক বিশ্রী প্রতিচ্ছবি ।

সুন্দর ফুটবলের ঐতিহ্য, মহাতারকা, বিশ্বব্যাপী উন্মাদনা এসব ছাড়া আর কিছুই মিলছেনা বিবর্ন লাতিনদের । বিশ্বায়নের ছোঁয়া ফুটবলেও । সে ছোঁয়াকে এড়াতে কিংবা সরাতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়েরা ।

ইউরোপিয়ানরা যে নতুন কালের শুরু করেছে তা নিজেদের মহাদেশে কেড়ে ফিরিয়ে নিতে লাতিনদের হয়ত যুগের সাথেই তাল মিলিয়ে খেলতে হবে যন্ত্রের ফুটবল, শরীরের ফুটবল । নয়ত গত বিশ বছরের এক ব্রাজিল সাফল্য নিয়েই আগামী ২০ বছরও কাটাতে হতে পারে । যেখানে অমুক মহাতারকা, তমুক সৌন্দর্যের দল জপে দপ করে নিভিয়ে যেতে হবে । পাশে দাঁত কেলিয়ে যন্ত্রের ইউরোপীয়রা শুধু আলোই ছড়াবে ।

উলিরেচ, কারিয়ুস কিংবা ক্যাবেয়ারোদের সাথে মিলিয়োনা হুগো লরিসকে । তারা তিনজনই ফিরেছিল খালি হাতে । আর লরিস ফিরছে বিজয়ীর বেশে ।
ফিরছে বিরল এক ক্লাবে নাম লিখিয়ে । গোলকিপার, অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে চুমু আঁকলো এই বর্ষীয়ান । লরিসে আজ তোমরা খোঁজো উলিরেচ, কারিয়ুস, ক্যাবেয়ারোদের আর আমার মনে পড়ে যায় একদার ইকার ক্যাসিয়াসের কথা!

ঘটা করে রুপকথা লিখেছিলেন সেবার সর্বজয়ী গোলকিপার অধিনায়ক সেইন্ট ইকার!

ক্রোয়াটদের কিংবা মানজুকিচের প্রতিচ্ছবি যাই তৈরি হোক না কেন, ভালবাসার শহর প্যারিস যে এবার সাজবে নতুন এক ছবিতে । বার্লিন আর প্যারিসের সেই দুঃখগাথা ভুলে আইফেল টাওয়ার এবার সদর্পে চিৎকার দিয়ে বলবে- আমরা পেরেছি অবশেষে! তোমরা ফিরছো বিজয়ীর বেশে!
এসো বুড়ো লরিস-জিরুদের দায়িত্বে মোড়ানো তরুনেরা । এসো! এসো! এসো!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × four =