সময়টা টেস্ট রোমাঞ্চের

একদিকে চল্লিশে চালসে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বিস্মিত করেই চলেছেন পাকি অধিনায়ক মিসবাহ, আছে ইয়াসির শাহ এর ঘূর্ণিতে নাকাল ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের সামনে স্যালুট আর বুক ডন দিয়ে পাকিস্তানি উদযাপন, ইংলিশেরম অহমে ঘা দেওয়ার মতোই এবং ক্যাপ্টেন কুক তা বলতেও ভোলেননি, বলেছিলেন ফিরবে তার দল- রাজসিকভাবে। ফিরেছেও! পরের টেস্টে ইংলিশ কন্ডিশনের সহায়তায় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ইংলিশ পেসারদের সামনে আর পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান! টেস্টের সৌন্দর্য এখানেই, ভুল করলেও ফিরে আসার সুযোগ থাকে।

ওদিকে শ্রীলঙ্কায় চলছে ঘূর্ণিজাদুর লড়াই। অসিদের পরামর্শক হয়েছেন স্বয়ং মুরালি! তাতে ফলও মিলেছে বেশ। তবে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে লঙ্কান সিংহরা, পাল্টা ঘূর্ণিতে অসিদের নাকাল করেছেন হেরাথ আর অভিষেকেই বিস্ময় ছড়িয়েছেন চায়নাম্যান সান্দাকান। সাথে আছে বৃষ্টি। ও হ্যা, কুশলের অসাধারণ পাল্টা আক্রমনেই তো মেরুদণ্ড খাড়া করে দাঁড়িয়েছে লঙ্কানরা, তার ভয়শূন্য চিত্তের ব্যাটিং অসিদের হতবাক করেছে, তার সেঞ্চুরি তার দেশকে দেখাচ্ছে জয়ের স্বপ্ন! এবং এ লেখা আপনারা যখন পড়ছেন, তখন ১৭ বছর পর অসি বধের মহাকাব্য লিখেছে লঙ্কান সিংহরা এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন হেরাথ, তবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া অসাধারণ ১৭৬ রানের জন্য ম্যাচ সেরা হয়েছেন কুশল। হার না মানা মানসিকতার অসিরা চেষ্টা কম করেনি, ও’কিফ আর পিটার নেভিলের ১৭৮ বলে ৪ রানের জুটিকে বলতে হয় টেস্ট ক্রিকেটের দৃঢ় লড়াইয়ের মানসিকতার বিজ্ঞাপন। বিশেষ করে যখন জানবেন যে, ও’কিফ হ্যামস্ট্রিং চোটের জন্য দৌড়াতেই পারছিলেন না, তবুও যে অসাধারণ ধৈর্য তিনি দেখিয়েছেন, এটা টেস্টের সৌন্দর্যের আরেকটি অংশ।

স্যর ভিভের স্টেডিয়ামে তার দলের বিপক্ষেই অসাধারণ কীর্তি করেছেন বিরাট। টেস্টকে টি টুয়েন্টি বানিয়ে বোলারদের নাকের জল চোখের জল এক করে কুশলের মতোই একেবারে মাতিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর অস্বিনের ঘূর্ণিতে নাকাল ক্যারিবিয়রা পেয়েছে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা।

এত কিছু দেখে একটা কথাই মনে হয়, বাংলাদেশ কেন নেই এই রোমাঞ্চে? আমরা কেন এত কম টেস্ট খেলি? জিম্বাবুয়েও তো খেলছে কিউইদের সাথে। আমরা কেন বসে থাকবো? এভাবে বসে থাকলে যে টেস্টে উন্নতি হবেনা, সেটা বোঝার আর কত দেরি, পাঞ্জেরি?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 − three =