সমস্যা অনেক!

আরেকটি বড় পরাজয়। গত ম্যাচের থেকে ১ গোল কমে, তবে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে, এবং নিজেদের মাঠে।

বিডি

তাই গত ম্যাচ নিয়ে তেমন কোন হতাশা না থাকলেও এই ম্যাচ নিয়ে অনেকের‍ই হতাশা থাকতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে, আগের ম্যাচের তুলনায় এবার বাংলাদেশের পারফরমেন্স অনেক বেশি ভালো। এমনকি হাফ টাইমের পরে বাংলাদেশ ৩-২ গোলে এগিয়ে থাকতে পারত।

কিন্তু পারল না কেন? বরাবরের মতই প্রধান সমস্যা খেলোয়ারদের নারভাসনেস। মামুনুলের কর্নার থেকে ইয়াসিনের মিসহেডার, ডিফেন্ডারদের অসাধারণ দক্ষতায় কাটানোর পর জুয়েলের মিস, জামালের ডিফেন্সচেরা পাস পাওয়ার পর গোলকিপারকে একা পেয়েও জুয়েলের মিস, এইসব মিস গোলে পরিণত হলে ম্যাচ অন্যরকম হতে পারত।

দর্শকদের উপস্থিতি হার ও ছিল হতাশাজনক
দর্শকদের উপস্থিতি হার ও ছিল হতাশাজনক

স্বয়ং ম্যানেজার নিজে এই প্রসঙ্গে ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘বক্সে গিয়ে গোল করা একজন ফুটবলারের বড় গুণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এনামুল, এমিলি, জুয়েলদের মতো ছেলেদের সেটা নেই। যা আছে এই দেশে খেলা কালো ফুটবলারদের। এ জন্যই আমি ওদের দলে নিতে চেয়েছিলাম।’

গোলের সামনে নার্ভাসনেস না শুধু, বরং পিচের প্রতিটা প্রান্তেই খেলোয়ারদের কম্পোজারের অভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। যা পজেশন ফুটবলের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। বাঙালি খেলোয়াররা নিজেদের প্রান্তেই ওয়ান-টু করে গিয়েছেন, ডিফেন্স টু এটাকিং ট্রেনজিশন ঠিকমত করতেই পারেননি। দেখা গেছে বিশাল সময় ধরে তাঁরা নিজেদের প্রান্তে ওয়ান টু ওয়ান করে গিয়েছেন। তখন জর্ডানের ফরওয়ারডদের হালকা প্রেসিং এ নার্ভাস হয়ে বল সুন্দরমত তাঁদের পায়ে তুলে দিয়েছেন।

আর সেন্ট্রাল মিডফিল্ড সামলানো কি জামাল ভূঁইয়ার একার কাজ? কাগজে কলমে ৪৩৩ ফরমেশন খেলালেও মাঠে সেটার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন নেই। এই ফরমেশনের উদ্ভাবনই হয়েছে মিডফিল্ড ডমিনেশনের জন্য, তাহলে জামালের একারই কেন মিডফিল্ড সামলাতে হবে? ওপেন লেটার লেখা মামুনুল সারা ম্যাচে কই ছিলেন?

কতকাল ধরে এমিলির উপর আমাদের নির্ভর করতে হবে? ২ উয়িং দিয়ে সুন্দর কিছু আক্রমণ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এমিলির ধীরগতির জন্য। ডিফেন্স থেকে এমিলির দিকে করা কিছু লং বল জর্ডানের বিশালদেহী সেন্টার ব্যাকরা খুব সহজে এমিলির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন। এমিলির জায়গায় যদি একজন আফ্রিকান বিশাল বপুর দ্রুত স্ত্রাইকার থাকতেন, তাহলে কি হত? আর কতকাল আমরা আমাদের “দেশপ্রেম” দুচবো?

এই যে ৪ টা গোল আমরা খেলাম, প্রত্যেকটা তো আমরা প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়েছি। শুরুর পেনাল্টি গোল টার কথায় ধরলাম উদাহরণপ্রসঙ্গে। ওই রকম একটা হ্যান্ডবল কিভাবে মিশু করলেন?

সমস্যা অনেক। শুধু ফেডারেশন-ফ্যান-খেলোয়াররা একে অপরকে দোষ দিলে হবে না।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten − 6 =