সংখ্যায় সংখ্যায় নিরানব্বইটি টেস্ট

আগামীকাল শ্রীলংকার বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া ২য় টেস্টের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ খেলতে যাচ্ছে সেই কাঙ্ক্ষিত শততম টেস্ট। টেস্ট স্ট্যাটাসের ১৬ বছর ৪ মাস ৬ দিন পর খেলতে যাচ্ছি আমরা শততম টেস্ট। মনে হতে পারে অনেকের চেয়ে পরেই আমরা খেলতে যাচ্ছি ১০০তম টেস্ট। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যে, সবচাইতে কম সময়ে ১০০ টেস্ট খেলতে যাচ্ছি আমরাই। এতদিন যাদের হাতে এই রেকর্ড ছিল সেই শ্রীলঙ্কার লেগেছিল ১৮ বছরের বেশি। আগে তো আর ক্রিকেট এতটাও কমার্শিয়ালি খেলা হতোনা তাই সবারই সময় লেগেছিল অনেক। কম সময়ে শততম টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হলেও ফলাফলের দিক থেকে পুরো লবডঙ্কা অবস্থা আমাদের। ৯৯ টেস্টে জয় ৮টি, হার ৭৬টি, ড্র ১৫টি। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ০.১১ যা সবচেয়ে কম টেস্ট খেলা দেশগুলোর মধ্যে। এই ৯৯ টেস্টে ৮৫ জন খেলোয়াড় এর সুযোগ হয়েছে টেস্ট খেলার যা রেকর্ডের দিক থেকে আছে ২ নম্বরে। এবার চোখ দেয়া যাক ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ডগুলোর দিকে-
সর্বোচ্চ দলীয় রানঃ ৬৩৮ (প্রতিপক্ষঃ শ্রীলংকা)
সর্বনিম্ন দলীয় রানঃ ৬২ (প্রতিপক্ষঃ শ্রীলংকা)
বৃহত্তম জয় (রানের হিসেবে)ঃ ২২৬ রান (প্রতিপক্ষঃ জিম্বাবুয়ে)
বৃহত্তম জয় (উইকেটের হিসেবে)ঃ ৪ উইকেট (প্রতিপক্ষঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
ক্ষুদ্রতম জয় (রানের হিসেবে)ঃ ৯৫ রান (প্রতিপক্ষঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
ক্ষুদ্রতম জয় (উইকেটের হিসেবে)ঃ ৩ উইকেট (প্রতিপক্ষঃ জিম্বাবুয়ে)

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানঃ ২১৭ (সাকিব আল হাসান)
সবচেয়ে বেশি রানঃ ৩৫৪৬* (তামিম ইকবাল)
সেরা ব্যাটিং গড়ঃ ৪৬.৮৮ (মমিনুল হক)
সেরা স্ট্রাইক রেটঃ ৬৭.২০ (মাশরাফি বিন মরতুজা)
সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিঃ ৮* (তামিম ইকবাল)
সবচেয়ে বেশি হাফ সেঞ্চুরিঃ ২৪ (হাবিবুল বাশার সুমন)
সবচেয়ে বেশি ডাকঃ ১৬ বার (মোহাম্মদ আশরাফুল)
এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি রানঃ ৩৭৯ (হাবিবুল বাশার সুমন)
এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটঃ ২৫২.৯৪ (আবদুর রাজ্জাক)

১ম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ৩১২ (তামিম ও ইমরুল)
২য় উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ২৩২ (শামসুর রহমান ও ইমরুল)
৩য় উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ১৫৭ (তামিম ও মমিনুল)
৪র্থ  উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ১৬৭ (নাঈম ও সাকিব)
৫ম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ৩৫৯ (সাকিব ও মুশফিক)
৬ষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ১৯১ (আশরাফুল ও মুশফিক)
৭ম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ১৪৫ (সাকিব ও রিয়াদ)
৮ম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ১১৩ (মুশফিক ও নাঈম)
৯ম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ১৮৪ (রিয়াদ ও আবুল হাসান)
১০ম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিঃ ৬৯ (রফিক ও শাহাদাত)

সবচেয়ে বেশি উইকেটঃ ১৭০ উইকেট (সাকিব আল হাসান)
সেরা বোলিং ফিগার (ইনিংসে)ঃ ৮/৩৯ (তাইজুল ইসলাম)
সেরা বোলিং ফিগার (ম্যাচে)ঃ ১২/১৫৯ (মেহেদি হাসান মিরাজ)
সবচেয়ে বেশি ৫ উইকেট প্রাপ্তিঃ ১৪ বার (সাকিব আল হাসান)
সেরা বোলিং গড়ঃ ১৭.০০ (রকিবুল হাসান)
সেরা ইকোনোমিঃ ২.৩৬ (জিয়াউর রহমান)
এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত রানঃ ৩৯ (প্রতিপক্ষঃ ভারত)
বাজে বোলিং গড়ঃ ৭৭.৯৩ (রুবেল হোসেন)

সবচেয়ে বেশি ডিসমিশালঃ ৯৫* (মুশফিকুর রহিম)
সবচেয়ে বেশি ডিসমিশাল (ইনিংসে)ঃ ৫ (মুশফিকুর রহিম)
সবচেয়ে বেশি ডিসমিশাল (ম্যাচে)ঃ ৭ (খালেদ মাসুদ পাইলট)
সবচেয়ে বেশি ডিসমিশাল (সিরিজে)ঃ ১১ (মুশফিকুর রহিম)

সবচেয়ে বেশি ম্যাচঃ ৬১ (মোহাম্মদ আশরাফুল)
অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচঃ ২৯* (মুশফিকুর রহিম)

এগুলো ছাড়াও এখন পর্যন্ত ২৫ বার ম্যাচ সেরার পুরষ্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ বার পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। ৩ বার করে পেয়েছেন আশরাফুল ও মুশফিক। ৯৯ টেস্ট খেলে প্রতিপক্ষের ১০৪৩টি উইকেট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ দল যার মধ্যে স্পিনাররা নিয়েছে ৬২১ উইকেট আর সিমাররা নিয়েছে ৪২২ উইকেট। এই ৯৯ টেস্টে আমাদের সেঞ্চুরি হয়েছে সর্বমোট ৪৬টি আর ৫ উইকেট নিয়েছি ৪৫ বার।

সব মিলিয়ে রেকর্ডের পাল্লাটা খুব একটা হালকা নয় মোটেই কিন্তু এবার আসলে সময় হয়েছে দলের ফলাফলের গ্রাফটা ঊর্ধ্বমুখী করার। শততম টেস্টে এসেও আমাদের এখন সিরিজ বাঁচানোর জন্য নামতে হচ্ছে। এখনো প্রায় প্রতি সিরিজেই অভিষেক ঘটানো হয় একজন খেলোয়াড়ের। মাঠের লড়াইয়ে আছে প্রোফেশনালিজম, কমিটমেন্ট ও টেম্পারমেন্টের অভাব। এইগুলি যত দ্রুত সম্ভব ঠিক করা দরকার আমাদের খেলোয়াড়ের এবং ম্যানেজমেন্টের। আশা করি এই শততম টেস্ট থেকেই নতুন এক বাংলাদেশকে দেখব আমরা সবাই। জয় দিয়েই শুরু হোক নতুন এই পথচলা আমাদের, স্মরণীয় হয়ে থাকুক শততম টেস্ট।

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × one =