শোধবোধ

শামিন্দা ইরাঙ্গার একটা বাউন্সার। দুর্দান্ত, স্নর্টার যাকে বলে। জিমি অ্যান্ডারসনের করার ছিল সামান্যই। শর্ট লেগে হেরাথের ক্যাচ। শ্রীলঙ্কানরা যখন বাঁধনহারা উৎসবে মেতেছেন, জিমি তখন উইকটেই বসে পড়েছেন রাজ্যের হতাশায়।

দুটি বল। স্রেফ আর দুটি বল সামলাতে হতো। তাহলেই জন্ম হতো রূপকথার এক ড্রয়ের। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে অ্যান্ডারসন যখন উইকেটে গেলেন, ম্যাচের বাকি দু ঘন্টা। শেষ জুটির বীরত্বে ড্রয়ের ইতিহাস জিমির আগেও আছে। এবারও চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় লেগে গেলেন। একপাশে মঈন আলির বীরোচিত সেঞ্চুরি। আরেকপাশে জিমির ব্লক আর বল ছাড়া। ২০ ওভার কেটে গেল। কাটল না আর দুটি বল। ৫৪ বলে অপরাজিত ০ জিমি। ৫৫তম বলে ওই আউট। ইংল্যান্ডের মাটিতে শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক জয়। প্রেজেটেন্টেশনে মাইক আথারটনের সামনে কেঁদেই ফেললেন জিমি। হেডিংলিতে, ২ বছর আগে।

সেই হেডিংলি। পুষে রাখা যন্ত্রণাগুলি বুঝি এতদিনে রূপ নিয়েছিল জেদ আর প্রতিজ্ঞায়। সেই আগুণে পুড়ে থাক হলো লঙ্কানরা। জয়া-সাঙ্গাউত্তর লঙ্কান ব্যাটিংয়ের মান অবশ্যই আগের মত নয়। তবে জিমির স্কিল তো তাতে মিথ্যে হয়ে যাচ্ছে না! ৪৫ রানে ১০ উইকেট যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই দারুণ কিছু। এই প্রথম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোনো ইংলিশ পেসারের ১০ উইকেট এটিই প্রথম।

সেবার সিরিজ সেরা হয়ে কেঁদেছিলেন, এবার ম্যাচ সেরাও নয়। তবু মুখে বিশ্বজয়ের হাসি। জয় এমনই মহার্ঘ্য!

শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, জিমির বোঝাপড়া ছিল হেডিংলির সঙ্গেও। ঐতিহ্যগত ভাবে সুইং বোলিংয়ের অন্যতম চারণভুমি। এখানেই কিনা তার রেকর্ড ভীষণ বিবর্ণ! ৭ টেস্টে ছিল ১৯ উইকেট, সেরা ৯১ রানে ৩ উইকেট। সুইং বোলিংয়ের সুনিপুণ এক শিল্পীর জন্য বেশ বিব্রতকর! এবার মেটালেন চুকালেন সব হিসাব।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × two =