শেবাগ-কথন

মুনির চৌধুরী বলেছিলেন, মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। কারণে অকারনে বদলায়, সকালে বিকালে বদলায়। শেবাগ তার পুরো ক্যারিয়ারে খেলার ধরণ বদলায়নি। ফুটওয়ার্ক কোনোদিনও ঠিক ছিলো না। সেটা ঠিক করার চেষ্টা পর্যন্ত করেনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অফ সাইডে ফোর্থ-ফিফথ স্ট্যাম্পের উপর গুড লেন্থ বলে দুর্বলতা ছিলো। সেটার জন্যেও পা’র মুভমেন্ট চেঞ্জ করেনি। একারণে জন রাইট একবার আউট হয়ে ফেরার পর ড্রেসিং রুমে শেবাগের কলার চেপে ধরেছিলেন বলেও শুনেছি। শেবাগের নিজের কথাতেই লিখি, ‘I also want to thank everyone for all the cricketing advice given to me over the years and apologise for not accepting most of it! I had a reason for not following it; I did it my way.’ এটা পড়ার পর ভেবেছি শচীনের অটোবায়োগ্রাফি ‘Playing it my way’ নামটা শেবাগের সাথেই বেশি যেত। আমাদের নামে বিতর্কিত কথা বলে গণ শত্রু হয়ে গেছে। কিন্তু টেস্ট-ওয়ানডে দু’টো তেই আট হাজার প্লাস রান এবং টেস্টে প্রায় ৫০ গড়ধারী একজনকে গ্রেট প্লেয়ার বলা যায়। কিছু স্ট্যাট লিখি-

১) সবসময়ই ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বিখ্যাত ছিলো। শেবাগ যাদের সাথে বেশিরভাগ খেলেছেন, শচীন-রাহুল-সৌরভ-লক্ষণ, এই চারজনের টেস্ট রানই তো ৪৫ হাজারের বেশি। গাভাস্কার-আজাহাররা তো ছিলেনই। কিন্তু ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটা টেস্ট স্কোরই শেবাগের। ৩১৯, ৩০৯ এবং ২৯৩। সর্বোচ্চ ছয়টার মাঝে শেবাগের আরেকটাও আছে। মাঝের ২৮১ লক্ষণের, ২৭০ রাহুলের। ওয়ানডের হাইয়েস্ট স্কোরটাও শেবাগেরই ছিলো। ২১৯। এখন রোহিত সেটা নিজের করে নিয়েছেন। সবগুলো বড় স্কোরেই ‘৯’ আছে। এমনকি এভারেজ ৪৯.৩৪ এও ৯ আছে।

২) সব ব্যাটসম্যানরা ওপেন করতে নেমে আগে সেটেল হয়। পিচ, মুভমেন্ট বোঝার চেষ্টা করে। শেবাগ উল্টোরথে
হেঁটেছে সব সময়। ইনিংসের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে শুরু করেছে ৫৩ বার! যেটা বিশ্বরেকর্ড তো বটেই। ওয়ানডেতে এবং টেস্টে ২৫ বার করে। টি টুয়েন্টিতে ৩ বার।

৩) ইতিহাসের একমাত্র ব্যাটসম্যান যে ছক্কা মেরে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পৌছেছে। একমাত্র ব্যাটসম্যান যে ১০০+ প্লাস স্ট্রাইক রেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছে।

৪) একমাত্র ব্যাটসম্যান যে ওয়ানডের প্রথম ওভারে পরপর তিন বলে তিন ছক্কা মেরেছে।

৫) শেবাগের টেস্ট স্ট্রাইক রেট ৮২.৮৩। বিশ্বের ২৮৫ জন ব্যাটসম্যান যারা টেস্ট ক্রিকেটে ২০০০ প্লাস রান করা তাদের কারও স্ট্রাইক রেট ৮০ প্লাস না। গিলক্রিস্ট, জয়সুরিয়া, ভিভ রিচার্ডস, গেইল, ভিলিয়ার্সদেরও না।

৬) টানা ১১ টা সেঞ্চুরি দেড়শ রান প্লাসে গিয়ে থেমেছেন। টেস্টের ফাস্টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি ন্যাথান অ্যাস্টলের, ১৫৩ বলের। কিন্তু টপ ফাইভ ফাস্টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরির তিনটাই শেবাগের। ১৮২, ১৮৬ এবং ১৯৪ রানের। চতুর্থটা ব্রেন্ডান ম্যাকালামের, ১৮৬ বলের। ফাস্টেস্ট দশ ডাবল সেঞ্চুরির ৫ টাই শেবাগের।

৭) একমাত্র ক্রিকেটার যে টেস্টে দু’টো ডাবল সেঞ্চুরি এবং ৫ উইকেট নিয়েছে।

৮) ইন্ডিয়ার টেস্টে সর্বোচ্চ স্কোর ৭২৬/৯। সেখানে শেবাগের অবদান ২৯৩। ইন্ডিয়ার ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ স্কোর ৪১৮/৫। সেখানে শেবাগের অবদান ছিলো ২১৯। টি-টুয়েন্টিতে ইন্ডিয়ার সর্বোচ্চ স্কোর ২১৮/৪। সেখানে শেবাগের অবদান ছিলো ৬৮।

শেবাগের অবসরের পর ধোনি টুইট করেছে, ‘Didn’t see Viv Richards bat in person but I can proudly say I’ve witnessed Virender Sehwag tearing apart the best bowling attacks’. প্রসঙ্গে শেবাগের আরেকটা পুরানো উক্তি শেয়ার করি, ‘Why I need to only hit in gaps between the players on the ground; what about the gaps over the head?

অবসরটাও নিলেন জন্মদিনের দিন। অনেকটা তার আপার কাটের মত করে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 + 19 =