শেবাগের সেই কথা – এখনো কি মনে রাখা উচিত?

অর্ডিনারি নিয়ে যারা বিতর্ক করছেন…শেবাগ ক্যারিয়ার জুড়ে এত এত কিছু উপহার দিয়েছেন যে আজকের এই দিনে এই বিতর্কটা আশা করিনি।
যাই হোক, এটা নিয়ে আমার একটা দীর্ঘ লেখা ছিল। যে প্রশ্নের সূত্রে শেবাগের ওই মন্তব্য, সেটি আমারই করা ছিল, বেশ কবার লিখেছি ওটা নিয়ে। ২০
১০ সালে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুম। পরদিন শুরু টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ধোনি ইনজ্যুরড হওয়ায় শেবাগ ছিল ক্যাপ্টেন। উত্তর দিয়েছিল, ‘ওয়ানডেতে মাঝেমধ্যে ওরা প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারে। তবে টেস্টের বাংলাদেশ অর্ডিনারি।’ পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম অর্ডিনারি কোনটি, ‘ব্যাটিং না বোলিং?’, শেবাগের উত্তর, ‘ডাজন্ট ম্যাটার।’ মানে, কোনোটাতেই কিছু আয়–আসে না।…এই তো!

বলতে পারেন, ক্রিকেটীয় শিষ্টাচারে এভাবে বলা ঠিক না। হয়ত না। ময়না পাখির মত মুখস্থ বুলি শোনাতে পারত, ‘বাংলাদেশকে আমরা সম্মান দিচ্ছি’, অমুক-তমুক। কিন্তু এই সব কথা এখন এত ক্লিশে হয়ে গেছে, এত মেকি যে বিরক্তি লাগে। শেবাগের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্যই তো এখানে। তার ব্যাটিং আনকমপ্লিকেটেড, তার কথাও। যা মনে আসে, বলবে। নিজের মত চলবে!

 কিন্তু ঠিক একই কারণে আমি তামিমকে স্যালুট করেছিলাম, যে তামিম ব্রায়ান ভিটরিকে অর্ডিনারি বলেছিল। ওই সিরিজে ভিটরি আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তাকে নিয়ে এভাবে বলতে গাটস লাগে। ওটা ছিল দারুণ এক মাইন্ড গেম। কাজে লাগুক বা না লাগুক, পরের কথা!

গ্লেন ম্যাকগ্রা প্রায়ই প্রতি সিরিজের আগে প্রতিপক্ষে সেরা ব্যাটসম্যানকে টাগেট করত। সেই ব্যাটসম্যানকে প্রকাশ্যে হুমকি দিত। এখন এটাকে আপনি অপমান বলবেন? ডেনিস লিলি যখন শেফিল্ড শিল্ডে খেলত, তার জাতীয় দলর ক্যাপ্টেন ইয়ান চ্যাপেলের মাথা উড়িয়ে দিতে চাইত। একটুও ছাড় নয়। ক্রিকেটের মজাই তো এসবে! যুগ যুগ ধরে এসব চলে আসছে। রসকসহীন আধুনিক ক্রিকেটেই খালি এসব হয় না। আমাদের মানসিকতাও ভোঁতা হয়ে গেছে। এজন্যই শেবাগের মত একজনকে আমরা নিতে পারি না।

শেবাগ অবশ্যই ক্রিকেটের মজার জন্য এই কথাটি বলেনি। তার যা মনে হয়েছিল সেটাই বলেছে এবং খুবই সত্য বলেছিল। এখন যেটা বললাম, ক্রিকেটীয় ভদ্রতায় সেটা নিয়ে আপনি প্রশ্ন তুলতে পারেন। অনেকের কাছেই এটাকে আবার মনে হয়েছে দারুণ। দৃষ্টি ভঙ্গির এই পার্থক্যটা থাকতেই পারে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, শেবাগ বাজে বলেছিল। কিন্তু তার মানে এই না যে এটা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে! শেবাগ মহাভারত অশুদ্ধ করে দেয়নি! এতটা সিরিয়াস তো নয়ই যে শেবাগের বিদায়ের দিনে ক্যারিয়ার জুড়ে তার এত এত কীর্তির পাশে এটাও বলতে হবে! এসবে আসলেই ক্রিকেট জাতি হিসেবে আমাদের ম্যাচিউরিটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

sixteen − 13 =