শুভ জন্মদিন, স্যার গারফিল্ড সোবার্স!

ক্রিকেট মানব সম্প্রদায়ের খেলা। তবে একজন অতিমানবও এই খেলাটা খেলেছেন!
না, অতি মানব হয়ে তিনি জন্মাননি। এই খেলা খেলেই হয়ে উঠেছেন অতি মানব। স্রেফ ব্যাটসম্যান হিসেবেই থাকবেন সর্বকালের সেরাদের ছোট্ট তালিকায়। ৯৩ টেস্টে ৫৭.৭৮ গড়ে ৮০৩২ রান। ২১ বছর বয়সে করেছিলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি, এখনও যা সবচেয়ে কম বয়সে ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড। তাঁর ৩৬৫ টেস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ৩৬ বছর ধরে। এসব পরিসংখ্যানে মেলে খানিকটা প্রমাণ। তবে পরিসংখ্যানেরও আসলে সাধ্য নেই তাঁর ব্যাটসম্যানশীপকে বোঝানোর। বল জিনিসটা যে শুধু পেটানোর জন্যই, সেটা তিনি সেই পঞ্চাশ-ষাটের দশকেই দেখিয়েছেন। ১৯৭১ সালে রেস্ট অব দ্যা ওয়ার্ল্ডের হয়ে তাঁর ২৫৪ রানের ইনিংস দেখে অভিভুত হয়েছিলেন স্বয়ং ব্র্যাডম্যান। রাহুল দ্রাবিড় একবার বলেছিলেন, ‘অফ সাইডে ঈশ্বরের পরই সৌরভ গাঙ্গুলি।’ আসলে ইশ্বর ও সৌরভের মাঝে আছেন আরেকজন। তিনি হলেন ইনি। বল হাতে নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট। বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের পাশাপাশি করতে পারতেন চায়নাম্যানও। আবার মিডিয়াম পেস করলে সুইং ও চাতুর্যে নাকাল করে ছাড়তেন ব্যাটসম্যানদের। ফিল্ডিংয়ে ১০৯ ক্যাচ। স্লিপে ছিলেন অসাধারণ, তবে মাঠের যে কোনো জায়গাতেই দুর্দান্ত। স্রেফ অধিনায়কত্বটা ‘সাধারণ’ কাতারে ছিল বলেই তিনি অতিমানব। নেতৃত্বটাও ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ের মতো হলে তাঁকে বলতে হতো সাক্ষাৎ ঈশ্বর, স্বয়ং ক্রিকেট দেবতা।

998407_10201335301521538_1822643827_n
দুহাতেই একটি বাড়তি একটি করে আঙুল নিয়ে জন্মেছিলেন, জন্মের পরপরই যা কেটে ফেলা হয়। তবে স্রষ্টা অকৃপণ হাতে প্রতিভার যে ভান্ডার তাঁকে দিয়েছিলেন, তা কি আর কেড়ে নেওয়া যায়! গলফ, ফুটবল ও বাস্কেটবলও খেলেছেন বারবাডোজের হয়ে। আর ক্রিকেটে তো দেখিয়েছেন, এক খেলার ভেতরেও কত কিছু করা যায়। স্যার ডন ব্র্যাডম্যান যেমন সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান, সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হিসেবেও তেমনি অবিসংবাদিত এই একজনই। জীবনে কখনো ইন্টারভিউ নেওয়া হয়ত হবে না (শুনেছি তিনি বদমেজাজী, ইন্টারভিউ নিতে যাওয়াও বিপজ্জনক!)। তবে স্রেফ একবার চোখের দেখা দেখতে পেলেও বর্তে যাব। আপাতত, ৭৯তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

শুভ জন্মদিন, স্যার গারফিল্ড সোবার্স!

লেখকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস অবলম্বনে…

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × three =