শুভ জন্মদিন প্লাতিনি!

কালো মানিক পেলে বেশি ভালো খেলতেন, নাকি ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা.??
 
মিশেল প্লাতিনি কতটা এগিয়ে জিনেদিন জিদানের
চাইতে, অথবা কতটা পিছিয়ে..??
 
১৯৭০ সালের ব্রাজিল বেশি ভালো নাকি
১৯৫৪ সালের হাংগেরী..??
 
স্বপ্নের দল হিসেবে ক্রুইফের বার্সেলোনা নাকি সাচ্চির মিলান, কোনটা এগিয়ে..??
 
ভিন্ন সময়ের ভিন্ন প্রজন্মের খেলোয়াড় বা দলগুলোর মাজে তুলনা করা যে, শুধু কঠিন নয়, বরং বলা যায় এটি প্রায় অসম্ভব।
.
কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের কে তুলনা করার জন্য না। প্রতিটা দল, প্রতিটা খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ সময় ও তাদের নিজ নিজ আসনে সেরা। এটা স্বাভাবিক, সমর্থকেরা তুলনা করে, প্রাত্তন খেলোয়াড় বা ধারাভাষ্যকারেরা।
 
একজন সমর্থক হিসেবে যদি জিজ্ঞেস করা হয়,সর্ব কালের সেরা ফুটবল দল অথবা ক্লাব কোনটি.?
 
উত্তরে সে হেসেই তার পছন্দের দল বা ক্লাবের নাম বলবে, কিন্তু যখন জিজ্ঞাস করা হবে, পছন্দের টিমের একজন প্রাত্তন
খেলোয়াড়ের অর্জন কিংবা তার
ইতিহাস বলতে। তখন হইতো ভুরু কুঁচকাতে পারে অনেকে।
 
যদি আপনাকে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার কে??
 
আপনি হয়তো হেসে বলবেন কে আবার,
জিনেদিন জিদান।
 
কিন্তু আপনি জানেন কি আধুনিক ফ্রান্স ফুটবলের স্থাপতি কে??
 
হয়তো আমার প্রশ্ন শুনে আমতা আমতা করবেন।
এটাই স্বাভাবিক।
.
চলুন জিনেদিন জিদানের কাছ থেকে শুনি,
 
“আমি যখন ছোট বেলায় খেলতাম তখন নিজেকে আমি একটি নামে পরিচয় দিতাম মাঠে। আর আমার বাকী আইডলের নাম গুলো বন্ধুদের দিয়ে দিতাম। আর একটি নাম আমি নিজের আমার জন্য রেখে দিতাম, ঐ একটি নাম হলেন মিশেল প্লাতিনি।
 
 
২০১২ সালে BBC কে প্লাতিনির টিমমেট ফার্নানদেস বলেন,
 
” এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন যে ফুটবলের মাঠে একজন লিডার প্রয়োজন ,প্লাতিনি তেমনই একজন ছিলেন ৷ যখন কেউ প্লাতিনির মতো প্লেয়াদের সাথে খেলে তখন দলের সবাই এমনিতেই ভালো খেলে ৷ তাদের মধ্যে থেকে সেরাটা বের হয়ে আসে ৷ তাঁর তুলনা হতে পারত শুধু ম্যারাডোনার সঙ্গে।কিন্তু সেটা আর হলো কই! এত দিন প্রশ্ন ছিল, ‘পেলে বড় না ম্যারাডোনা?’
 
এখন সবার কৌতূহল, ‘মেসি কী ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে যাবেন?’
 
পেলে, ম্যারাডোনার মাঝে মিশেল
প্লাতিনি নামটা আগে আসেনি,ভবিষ্যতেও আসবে না! স্রেফ
দুর্ভাগ্য। হ্যাঁ, দুর্ভাগ্য নয়তো কি? ৮৬-এর বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা
অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে স্পটলাইটটা টেনে নিলেন অথচ প্লাতিনি মোমের আলোটুকুও পেলেন না… একে নিছক দুর্ভাগ্য ছাড়া কী
বলা যায়! অথচ আগের চার বছরের পারফরম্যান্স দেখুন, বিশ্বকাপ
কাঁপানোর সম্ভাবনায় ফ্রান্সের মিডফিল্ডার যে তখন ম্যারাডোনার
চেয়েও এগিয়ে ছিলেন এ কথা আপনিও মানবেন। একা কোনো আসর মাত করার সাধ্য যে তাঁর আছে প্লাতিনি সেটা প্রমাণ করেছিলেন ম্যারাডোনারও আগে
 
অকলেয়ার বলেন
 
১৯৮৬ বিশ্বকাপকে অনেকেই বলে ম্যারাডোনার মাস কিন্তু আমি বলি যখন থেকে আসরের খেলা শুরু হল প্লাতিনি অনেক ভালো
খেলেছিলো এবং প্রতিটা ম্যাচে ম্যারাডোনার চেয়ে ভাল খেলেছিলেন
 
অকলেয়ার বলেন,
 
” মানুষ ম্যারাডোনার কথা বলেন কিন্তু এটাও দেখা উচিত ম্যারাডোনার পাশে ভালদানোর মতো প্লেয়ার ছিলো ৷ অকলেয়ারের কথা ফেলে দেয়ার মতো না কারন ম্যারাডোনা শুধু কোয়াটার এবং
সেমিতে তার কারিশমা দেখিয়েছিলে ৷ কিন্তু ভালদানো পুরো আসর জুড়ে ম্যারাডোনার চেয়ে ভাল খেলেছিলেন করেছিলেন ৪ গোল ৷ ফাইনালেও ম্যারাডোনাকে খুজে পাওয়া যায় নি ৷ তিনি বলেন
ভালদানোর মতো প্লেয়ার ছিলো যে না থাকলে ম্যারাডোনা
ম্যারাডোনা হতে পারত না কিন্তু প্লাতিনি যখন খেলত তার পাশে
সাহায্য করার মতো কেউ ছিলো না ৷ যার কারনে দল বারবার ব্যর্থ হত ৷
 
৮৪-তে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ফ্রান্স আন্তর্জাতিক
ফুটবলে প্রথম বড় কোনো সাফল্যের দেখা পেয়েছিল তাঁর কৃতিত্বেই। ভাবুন একবার, একজন মিডফিল্ডার ৫ ম্যাচে দুটো হ্যাটট্রিকসহ
করেছেন ৯ গোল!
 
ফ্রান্স তো ট্রফি জিতলোই, দেশকে এমন উপহার দেওয়ার উপযু্ক্ত
স্বীকৃতি হিসেবে প্লাতিনিও পেলেন আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ফর্ম এবং পারফরম্যান্সে ফরাসি প্লে-
মেকারকে ওই সময়ের বিশ্বসেরা মনে করার পক্ষে দাঁড়াচ্ছে আরো কিছু রেকর্ড।
 
৮৩ থেকে ৮৫ টানা তিন বছর ইউরোপের বর্ষসেরা এবং ওয়ার্ল্ড সকারের বিবেচনায় পরপর দুই বছর (৮৪, ৮৫) বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়েছিলেন প্লাতিনি। বুঝতেই পারছেন ৮৬-র আসরে আর্জেন্টিনার কাছে ম্যারাডোনা যা ফ্রান্সের কাছে প্লাতিনি তার চেয়ে কম কিছু ছিলেন না।
 
কিন্তু ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতম ওই সময়টাতেই পড়লেন
ইনজুরিতে। তাই নিজের শেষ বিশ্বকাপেও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারলেন না, পড়ে রইলেন ম্যারাডোনার চেয়ে হাজার ক্রোশ
পেছনে! ৮৬ বিশ্বকাপে মাঠে দেখা গেল প্লাতিনির ছায়া, ম্যারাডোনা ম্যাজিকের পাশে ছায়ার উপস্থিতি কী করে দৃষ্টিগোচর হয়! দুর্ভাগ্য প্লাতিনির পিছু নিয়েছিল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। নইলে ১৬ বছর
বয়সে ক্লাব ফুটবলে নাম লেখানোর ট্রায়ালেই কজন ইনজুরিতে পড়ে?
 
দ্বিতীয় দফায় গিয়েও কি কেউ ট্রেনিং সেশনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে?
৭২ থেকে ৮২ পর্যন্ত ফরাসি লিগ, তারপর জুভেন্টাসের হয়ে (৮২ থেকে ৮৭) ইতালিয়ান সিরিএর পাশাপাশি ফ্রান্স দলে (৭৬ থেকে ৮৭) খেলার সময়টাতে কমপক্ষে ৭-৮ বার ইনজুরির জন্য মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তাতে ভক্তদের আফসোসই শুধু
বেড়েছে।
 
এমন ঘনঘন ইনজুরিতে না পড়লে সিরিএ- তে তাঁকে তিন বার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েই থেমে থাকতে হতো না; জুভেন্টাসকে দুই বার ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (৮৪, ৮৬) এবং একবার করে ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ (৮৪), ইউরোপিয়ান সুপার কাপ (৮৪), ইউরোপিয়ান কাপ (৮৫) ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ (৮৫)-এর সঙ্গে আরো কিছু ট্রফি হয়তো উপহার দিতে পারতেন ভক্তদের মন থেকে এ আক্ষেপ কোনো দিন যাবে না। ফ্রান্সকে একটি বার বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি প্লাতিনির ক্যারিয়ারের এই অপূর্ণতাও চিরকাল কষ্ট দেবে তাদের।
 
অথচ ৭৮ থেকে ৮৬ পর্যন্ত তিনটি বিশ্বকাপেই ফ্রান্স ছিল, ছিলেন
প্লাতিনিও। শেষের দুই বার সেমিফাইনাল অবধি তুলেছিলেন ফ্রান্সকে। দুই বারই ফাইনাল খেলা হয়নি জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ায়। ৮৬-তে যখন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে তখনই মাঠে নামতে হলো ইনজেকশন নিয়ে।
 
তার পরও ইতালি (গ্রুপ পর্ব, ২-০) আর ব্রাজিলের (কোয়ার্টার ফাইনাল, ১-১, তার পর টাইব্রেকারে ৪-৩) বিপক্ষে জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন একটি করেগোল করে। ব্রাজিলের বিপক্ষে সমতা ফেরানো সেই গোলটিই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোল। ৭২ ম্যাচের ক্যারিয়ারের ৪১তম ওই গোলের সুবাদে ২১ বছর ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন উয়েফা প্রেসিডেন্ট মিশেল ফ্রাঙ্কোইস প্লাতিনি। মিডফিল্ডার হয়েও এত বছর দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা থাকার সৌভাগ্য অনেকেরই হয়নি, এমনকি ডিয়েগো ম্যারাডোনারও নয়!
 
এখন অনেক প্লেয়ারই নিজেকে সর্বকালের সেরা ভাবে কিন্তু প্লাতিনি কি ভাবত? ?? ২০০৮ সালে প্লাতিনি FourFourTwo ম্যাগাজিনে
বলেন আমি কখনো এটা বলি না যে আমি সর্বকালের সেরা প্লেয়ার তবে আমি এক সময় বিশ্বের সেরা প্লেয়ার ছিলাম ৷
 
ফ্রান্স ফুটবলের সাংবাদিক ফিলিপে অকলেয়ার বলেন,” ফ্রান্স ফুটবলে যখনই কিছু পরিবর্তন বা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দেয় বা দিতো হোক সেটার খেলার মাঠে বা বাহিরে প্লাতিনি থাকতেন সেটার মধ্যমনি হয়ে ৷ তাকে ঘিরেই সব কিছু হত ৷
 
ফ্রাংক লিবোইউফ যিনি ৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি বলেন,
 
” আমি যদিবিভিন্ন লিজেন্ড প্লেয়ারদের তালিকা করি সর্বপ্রথমে আমি রাখব পেলেকে আর দ্বিতীয় অবস্থানে আমি রাখব প্লাতিনিকে ৷ তিনিই ছিলেন সত্যিকারের এক হিরো যে কিনা ফ্রান্স ফুটবলের স্থপতি ৷ আমার কাছে তিনিই ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা প্লেয়ার ছিলেন
 
অকলেয়ার বলেন,,
 
যেকোন ভাবে প্লাতিনি হয়ে গেছেন এক ট্র্যাজিক হিরোতে হয়ত তুমি কখনো প্লাতিনির নাম শুনো নাই তুমি শুনেছো জিদানের নাম যা খুবই হতাশা জনক ৷ আমি সবসময় প্লাতিনিকে ফ্রান্স ফুটবল ইতিহাসেরা সবচেয়ে উপরের সিংহাসনেই বসাব যদিও তিনি বিশ্বকাপ জিততে পারে নি ।
 
সব শেষে একটা কথা দিয়ে আমার লিখাটা সমাপ্ত করছি,
“মিশেল প্লাতিনি সেইসব নক্ষত্রের একজন, যারা কখনোই নিভে যায় না”।
 
শুভ জন্মদিন লিজেন্ড♥️

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × 5 =