শুভ জন্মদিন পেপে

কেপলার ল্যাভেরান লিমা ফেরেইরা !

বেশ শখ করেই বাবা নামটা রেখেছিলেন । তবে সময় গড়াতে এত বড় কেতাবী নামে খোদ বাবাই ক্লান্ত হয়ে উঠলেন । তাই ছেলের ফুটবল গুরুর সাথে তাল মিলিয়ে ডাকা শুরু করলেন পেপে । আর এই নামেই বিশ্বজোড়া পরিচিত পেয়ে গেলেন সেই ব্রাজিলিয়ান ছেলেটি । বেশ আয়োজন করেই ফুটবলে এলেন । হাতেখড়ি হলো জন্মভূমির ক্লাব কারেন্হিয়ান্স এ্যালাগোয়ানোতে । ১২ বছরে হাতেখড়ি হওয়া কিশোর পেপে কারেন্থিয়াস ছাড়লেন ২০০১ সালে যৌবনে পা দিয়ে । সাথে ছাড়লেন জন্মভূমি ব্রাজিলও । পর্তুগীজ ক্লাব ম্যারিতিমোর হাতে ধরে তার শুরু হলো জীবন ও ফুটবলের এক নতুন অধ্যায় । মাদেইরার এই ক্লাবটির ইয়ূথ পর্যায়ে এক বছরে খেলার পরই উন্নীত হোন মুল দলে । সেখানে ডিফেন্সের প্রায় সবখানেই তাকে খেলিয়েছিলেন তত্‍কালীন কোচ অ্যান্তোলি বাইসোভেটস । এমনকি ডিফেন্সিভ মিডেও খেলেছেন তিনি ।

২০০২-০৩ প্রাক-মৌসুমে স্পোর্টিং সিপির সাথে ট্রেনিংয়ের অনুমতি মেলে তার । আর সেখানেই তার স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা হয় । কিন্তু পরবর্তীতে দুই ক্লাবের মধ্যে আর্থিক বোঝাপড়া এক না হলে ভেস্তে যায় সে সম্ভাবনা । ম্যারিতিমোতে ফিরে সেবার ভাল এক মৌসুম পারলেন । দল কোয়ালিফাই করলো পরবর্তী ইউরোপা লীগে । ৩০ ম্যাচ খেলে সেবার পেপে একটি গোলও করেছিলেন । ২০০৪ সালের গ্রীস্মে এবার পেপের ঠিকানা হয় এফসি পোর্তোতে । এক মিলিয়ন ইউরো ও সাথে তিনজন ফুটবলারের বিনিময়ে পোর্তোতে আসেন তিনি । পোর্তোতে অবশ্য তাকে বেঞ্চ থেকেই শুরু করতে হয় । তবে পরিবর্তিত কোচ সিও আদ্রিয়ান্সের অধীনে খুব দ্রুতই নিজের জায়গা তৈরি করে নেন । পর্তুগীজ ঘরোয়া লীগে নিজেকে অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার করে গড়ে তুলতে থাকেন । দলগত সাফল্যেও আসে দুহাত ভরে । টানা দুই মৌসুম জেতেন পর্তুগীজ কাপ ।

সাফল্যের দুয়ার যেন তখন থেকেই উন্মুক্ত । ২০০৭ সালের ১০ জুলাই স্পেনে পাড়ি জমান স্পেনের রাজধানীতে । স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ৫ বছরের চুক্তিতে তাকে দলে ভেড়ায় ৩০ মিলিয়ন ইউরোতে । এরপর থেকে এখানেই থিঁতু হোন এই ডিফেণ্ডার । ২০০৬ সালে ব্রাজিল কোচ দুংগার সম্ভাব্য ডাক পাওয়া তালিকায় ছিলেন । তবে সদ্য পর্তুগীজ নাগরিকত্ব পাওয়া পেপে বেছে নেন পর্তুগালকেই ।
২০০৭ এর আগস্টে ইউরো বাছাই পর্বে পর্তুগাল দলে ডাক পান তিনি । তবে ইঞ্জুরিতে আর খেলা হয়নি । এর মাস চারেক পর ফিনল্যাণ্ড ম্যাচে অভিষিক্ত ম্যাচ খেলা হয় তার । এরপরে গল্পটা চলছে এখনো । গত বছরই জিতেছেন দেশের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা উয়েফা ইউরো কাপ ।
দীর্ঘদিনের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদেও তার অর্জন কম নয় । দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, দুটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, দুটি কোপা দেল রে, দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ, দুটি লা লীগা ও একটি উয়েফা সুপার কাপ জিতেছেন ।
গত মৌসুমেই জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগসহ চারটি ক্লাব শিরোপা।

তবে এই মৌসুমই হয়ত মাদ্রিদে তার শেষ অধ্যায় । দল চুক্তি নবায়ণ না করায় চীনে পাড়ি জমাতে পারেন তিনি । সেই দিনটি হয়ত তার জন্য বেদনা বিধুর হবে । তবে আজকের দিনটি অন্তত তার জন্য শুভময় সুখকরই । আজকের এই দিবসেই পৃথিবীতে এসেছিলেন । শুভ জন্মদিন পেপে ! শুভ জন্মদিন ফেলে আসা দিনের ব্যাড বয় !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × three =