শুভ জন্মদিন জেনারেল

দুঙ্গা,
আপনাকে ২য় বার নিয়োগ দেবার সময় দুনিয়ার যেই অল্প কয়েকজন লোক আপনাকে সমর্থন দিয়েছিলো, তার মধ্যে আমি একজন । কারণ ছিলো ৩টা ।
প্রথমত, আপনি জয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলেন এবং হারতে ঘৃণা করেন । দলের সেই জার্মানি বিপর্যয়ের পরে ফ্রেশ স্টার্টের জন্য এমন কাউকে বড্ড দরকার ছিলো ।
আর দ্বিতীয়ত, আপনি আপনার খেলোয়াড়ি জীবনে নন ফেবারিট ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের স্বাদ দিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। সে হিসেবে আপনিই আমাদের আরেকটা নন ফেবারিট জেনারেশনকে বিশ্বকাপের স্বাদ এনে দেওয়ার জন্যে যোগ্য নেতৃত্ব ছিলেন বলে বিশ্বাস করি ।
আর সবশেষে, আপনি পোড় খাওয়া লোক হওয়াতে আপনারই জানার কথা দলগুলো আসলে কেন বড় আসরে ফেইল করে । সেগুলোর উর্ধ্বে এসে আপনারই দলকে সবচাইতে ভালো লিড করতে পারার কথা ।

তারপরে আস্তে আস্তে আপনার বিপক্ষের লোক বাড়তে থাকলো । থিয়াগো সিলভাকে বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে এলিয়াসকে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হবার পরেও দলে পিক করা- একের পর এক ডিসিশন নেবার পরেও অনেক সেন্সিবল লোক এগুলোর সমালোচনা কমই করতে পেরেছে … কারণ প্রত্যেকটা কোচের কাজের নিজস্ব ধরন আছে । নিজস্ব পছন্দ আছে । খুশি না হতে পারলেও নীরবে আমাদের দলকে সাপোর্ট দেওয়া ছাড়া কিছুই করার ছিলো না । কিন্তু আপনি শুধু নামিয়েছেন। দলের মানসিকতাকে নামিয়েছেন, ল্যাটিন বাছাইয়ের টেবিলে নামিয়েছেন, সব চেয়ে বড় কথা ব্রাজিলকে মিনোস বানিয়ে দিচ্ছিলেন।

আগের টার্মের দুঙ্গা সিলেকশনে এবারের মতই একরোখা ছিলেন, নিজের ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিলেন। তবে সবচেয়ে বড় পার্থক্যের জায়গাটা হলো সাফল্য। দুনিয়া সফলের কেনা গোলাম। আপনার কোপা জয়, কনফেড জয়, র‍্যাংকিং এর চূড়ায় উঠা সবকিছু আপনাকে শক্ত ভিতের উপরে যত আস্তে আস্তে দাঁড় করিয়েছে, দুনিয়ার সবচেয়ে সফল জাতীয় দলের কোচ হওয়াতে একটা বড় হার তত দ্রুত নামিয়েছে।

জেনারেল দুঙ্গা টার্মটা বলতে তাই শুধু মনে রাখতে চাই দলের উপর দারুন প্রভাব থাকা এক ক্যাপ্টেনের কথা যিনি ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ না জেতা দলটাকে ভাগ্যের ছোঁয়া আর প্রয়োগবাদীতা মিলিয়ে এনে দিয়েছিলেন ১৯৯৪ সালের বহু আরাধ্য বিশ্বমুকুট। যার হাত ধরে ব্রাজিলের একদশকের রাজত্ব আবার শুরু!

শুভ জন্মদিন জেনারেল….

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 2 =