শুভ জন্মদিন, কিথ বয়েস!

ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের দর্শন তাঁকে দিয়ে খুব ভালো বোঝানো যায়— অনুনমেয়, খ্যাপাটে, রোমাঞ্চকর, আনন্দদায়ী! ক্যালিপসো সুর তিনি হৃদয়ে ধারণ করতেন।

ছিলেন আগ্রাসী ফাস্ট বোলার, গুড়িয়ে দিতে চাইতেন ব্যাটসম্যানদের। সেই চেষ্টায় ‘নো’ বল করে বসতেন অনেক সময়ই। আগ্রাসনের সঙ্গে তবু আপোষ করেননি। লোয়ার অর্ডার ব্যাট হাতে নেমে চাইতেন পিটিয়ে বোলারদের ছাতু বানাতে। অসাধারণ ছিল ফিল্ডিং। সেই ৬০-৭০-এর দশকেই ফিল্ডিংটাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তার ফ্ল্যাট, তীব্র গতির থ্রো কে অনেকেই বলতেন রকেট লাঞ্চার। সেই সময় ইংলিশ কাউন্টি খেলা এবং দেখা অনেকেরই বিশ্বাস, এত জোরে থ্রো করতে তারা আর কাউকে দেখেননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিসংখ্যান দেখলে মনে হবে সাদামাটা এক ক্রিকেটার। ২১ টেস্টে ৬০ উইকেট, ৫ উইকেট ২ বার। ৩০ ইনিংসে ৬৫৭ রান, ৪ ফিফটি, সেঞ্চুরি নেই। শেষের আগের টেস্টে অ্যাডিলেডে করা অপরাজিত ৯৫-ই ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ। ৮ ওয়ানডেতে ফিফটি নেই, ১৩ উইকেট।

কাউন্টিতে অবশ্য অনেক সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার। প্রায় এক যুগ খেলেছেন এসেক্সে। ১৯৭৫ সালে চেমসফোর্ডে লিস্টারশায়ারের দারুণ বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ৫৮ মিনিটে সেঞ্চুরি আর ম্যাচে ১২ উইকেট ক্যারিয়ার হাইলাইট। তবে তার খেলার ধরণটাই এমন যে, একদিনের ক্রিকেটের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে গিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি প্রায় কিংবদন্তী, ১০০০ রান করা ও ১০০ উইকেট প্রথম ক্রিকেটার। আছে স্মরণীয় সব পারফরম্যান্স।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বিবর্ণ রেকর্ডের মাঝেও আছে মনে রাখার মত কিছু পারফরম্যান্স। ১৯৭৩ সালে ইংল্যান্ডে ৩ টেস্টে ১৯ উইকেট নিয়ে উইজডেন ট্রফি ফিরিয়ে এনেছিলেন ক্যারিবিয়ানে। ওভালে নিয়েছিলেন ১১ উইকেট, লর্ডসে ৮টি। ১৯৭৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্লাইভ লয়েডের সেঞ্চুরিটির কথাই সবার মনে পড়ে। কিন্তু ৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলার পর ৪ উইকেট নিয়ে শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা ছিল এই লোকটিরও।

তবে এসব পরিসংখ্যানে তাঁকে বাধা যাবে না এতটুকুও। বিনোদনের ফেরিওয়ালা ছিলেন। ক্রিকেট খেলতে নিজে উপভোগ করতেন প্রচণ্ড, নিজের খেলা নিয়ে সেই আনন্দ বিলিয়ে দিতেন সবার মাঝে। ছিলেন দারুণ দর্শকপ্রিয় ক্রিকেটার।

পিছু লেগে থাকা হাঁটুর চোটে ক্যারিয়ারের ইতি টানতে হয়েছে চাওয়ার অনেক আগে। ১৯৭৭ সালে চোখের জলে বিদায় নিয়েছিলেন প্রিয় এসেক্স কাউন্টি থেকে। দেশে ফিরে ক্রিকেট-উত্তর জীবনটা কেটেছে খুব কঠিন ভাবে। হ্যারিকেন উড়িয়ে নিয়ে গেল তার বাড়ি, পারিবারিক জীবনে ছিল অশান্তি । আর অতিরিক্ত পানাসক্তি তো ছিলই। পরে বারবাডোজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে ছোটখাটো একটা চাকরি ছিল সহায়। মারাও গেছেন সেখানেই।

আজ হঠাৎ তাঁকে নিয়ে লেখার কারণ, আজকের দিনটাই আশ্চর্য এক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন তাঁর। যে রেকর্ডে তাঁর নিজের ভূমিকা ছিল না একটুকুও!

সংখ্যা-রেকর্ড-পরিসংখ্যান, এসবব ক্রিকেটের সঙ্গে এতটাই মিশে আছে যে জন্ম-মৃত্যুর মত ব্যাপারও ক্রিকেটে রেকর্ড। সবচেয়ে কম বয়সে বা বেশি বয়সে মারা যাওয়া ক্রিকেটার, জীবিত সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটার….এসব অনেক কিছু। এই তালিকায় একটা জায়গায় এই তিনি একদম একা!

আজ ১১ অক্টোবর। ১৯৪৩ সালের ১১ অক্টোবর বারবাডোজে তাঁর জন্ম, ১৯৯৬ সালের ১১ অক্টোবর বারবাডোজে মৃত্যু। জন্ম আর মৃত্যু একই দিনে নেই ইতিহাসের আর কোনো ক্রিকেটারের!

শুভ জন্মদিন, কিথ বয়েস!
ভালো থাকবেন, বিনোদনদায়ী!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × five =