শুভ জন্মদিন আনন্দের ফেরিওয়ালা

অনেকে তার সম্পর্কে বলেন , নিজের ক্যালিবারের তুলনায় ক্যারিয়ারে প্রাপ্তিটা রোনালদিনহোর একটু কমই । আবার অনেকে বলেন, দুটো সিজন বার্সার হয়ে যেমন খেলেছেনে … অমন খেলা জীবনে এক সিজন খেলতে পারলেই পুরো জেনারেশন ধন্যি হয়ে মনে রাখে । তবে আমার দিক থেকে আমি বলবো , তিনি  এমন একজন … যিনি মাঠে এমন এমন সব কাজ বল নিয়ে করতে পারতেন যা ঘাঘু প্লে স্টেশনের প্লেয়ারও করার সাহস করেন না ।  আজ সেই ফুটবল লিজেন্ডের জন্মদিন ! তিনি রোনালদিনহো ! বার্সেলোনার রোনালদিনহো … ব্রাজিলের রোনালদিনহো … গাউচো রোনালদিনহো ।

 

শৈশব
শৈশব

শুরুর গল্পটা অনেক ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ডের সাথে মিলে যায় । শুন্য থেকে রাস্তায় শুরু … আর উঠতে উঠতে একসময় উঠে গিয়েছেন চূড়ায় । ইয়ুথ ক্যারিয়ার শুরু করেছেন গ্রেমিওতে । পেশাদার সিনিয়র ক্যারিয়ারের শুরুটাও সেখানেই । তারপরে পিএসজির হাতে ধরে ইউরোপীয় ফুটবলের বিশাল আঙিনায় পা রাখেন ২০০১ সালে । তারপরে স্বপ্নের মতো ২০০২ বিশ্বকাপ । আর ২০০৩ সালে ক্যারিয়ারের সবচাইতে বড় ব্রেকথ্রু ! আগমন ঘটলো দুনিয়ার সবচাইতে তারকাবহুল ফুটবল লিগ স্প্যানিশ লা লিগায় ।

এমন আনন্দ নিয়ে খেলতে পারে কয়জন ?
এমন আনন্দ নিয়ে খেলতে পারে কয়জন ?

 

বার্সেলোনা ক্যারিয়ারে ১৪৫ ম্যাচে ৭০ গোলের খটোমটো পরিসংখ্যান আসলে ঠিকভাবে তার গ্রেটনেসটা আউটলাইন করতে পারবে না । পারবে না ২০০৫ সালে জেতা ব্যালন ডি অরও । ২০০৫-০৬ মৌসুমে বার্সাকে জিতিয়েছেন ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর টানা দুটো মৌসুম তারকাবহুল রিয়াল মাদ্রিদকে রেখেছেন লালিগার শিরোপা বঞ্চিত । তবে দিনশেষে শিরোপা বা ব্যালন ডি অর কোন কিছুর জন্যেই মানুষ তাকে মনে রাখবে না । মানুষ একজন রোনালদিনহোকে মনে রাখবে বিনোদনদায়ী ফুটবলের ফেরিওয়ালা হিসেবে । রোনালদিনহোর হাসিমাখা ঐ ছবিটায় মানুষের স্মৃতিপটে থাকবে যে হাসিটা শুধু আসতে পারে খেলাটার প্রতি ভালোবাসা অনেক ভিতর থেকে আসলে । ফুটবলটাকে পেট চালানোর হাতিয়ার হিসেবে নিলে দিনহোর মতো খেলা যায় না … নিতে হয় উপভোগের বস্তু হিসেবে ।

মাঝে মাঝে জ্বলে উঠা ... তবে আগের দিনহোকে আর পাওয়া যায় নি
মাঝে মাঝে জ্বলে উঠা … তবে আগের দিনহোকে আর পাওয়া যায় নি

 

২০০২ এর বিশ্বকাপে যেভাবে উত্থান … সেভাবে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ক্যারিয়ায়রের গ্রাফটা নামা শুরু । একটু হয়তো সকাল সকালই ! বার্সা থেকে এসি মিলান হয়ে ফিরলেন ব্রাজিলে । ফ্ল্যামেঙ্গোতে । তারপর এটলেটিকো মিনেইরোতে । ২০০৫ এর দিনহোকে পৃথিবী আর দেখে নি । নিভে যাওয়া প্রদীপের মত মাঝে মাঝে আলো ছড়িয়েছেন … তবে সেগুলো দিনহোর নামের পাশে গর্ব করে বলার মতো নয় । একটু একটু আশা ছড়িয়েও জ্বলে নি ২০১০ আর ২০১৪ বিশ্বকাপের প্রদীপ । হুটহাট মাঝে মাঝে একটা দুটো ম্যাচ সুযোগ পেয়ে ভক্তদের আনন্দ দিয়েছেন … কিন্তু মাস্টারস্ট্রোকের শেষ অংশটাও যেনো দিয়ে এসেছিলেন কাতালোনিয়ার জন্যেই । ক্যারিয়ারের শেষ সময়টায় দিনহো এখন মেক্সিকান ক্লাব কোয়ারতেরোতে ।

 

কোয়ারতেরোই হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ ক্লাব
কোয়ারতেরোই হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ ক্লাব

 

দিনহোর ক্লাসের ফুটবল আর্টিস্টদের পৃথিবী রোজ দেখতে পায় না । এরা আসে প্রকৃতির ইচ্ছেয় , শেষও হয়তো হয়ে যায় প্রকৃতির ইচ্ছেয় । রোনালদিনহোর বেলায়ও হয়তো তা-ই হয়েছে । একটু না হয় সকাল সকাল … ক্ষতি কি ?

Happy Birthday Ronaldinho !!!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

13 − 11 =