শুধু মাঠের ১০০ ওভার নয় !

উপমহাদেশ ! যেখানে ক্রিকেট মানে শুধু একটা খেলা নয় , যেখানে ক্রিকেট মানে শুধু মাঠের খেলা নয় , ক্রিকেটের মানে এখানে আরো অনেক বড় । একটা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শুধু ভারতের ১১ জন আর পাকিস্তানের ১১ জনের মাঠের খেলা না , আরো অনেক কিছু ।

বাংলাদেশ আর ভারতের রাইভালরির স্ট্যাটিস্টিক্স দেখে নিরপেক্ষ ক্রিকেট প্রেমিক হয়তো জিভে জল আনবেন না । সবে মিলিয়ে ২৮ ম্যাচে ২৪ টাতেই জয় ভারতের , ৩টায় বাংলাদেশের আর ১টা মাত্র ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে । তবে জেত্রা ৩টা ম্যাচের দুইটা ম্যাচে একবার বাংলাদেশ ভারতকে বের করে দেয় অনেক আশার ক্যারিবীয় বিশ্বকাপ থেকে , আরেকটায় ২০১২ এর এশিয়া কাপ থেকে ।

 

ইয়াহু
ত্রিনিদাদের এই দিনটি আলাদা

২০০৭ সালে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেই ১২০ কোটি লোকের সমর্থন পাওয়া ভারতের কোটি টাকার টিভি বিজ্ঞাপন আর অত আয়োজনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাদের দেশে পাঠিয়ে দিয়ে উপমহাদেশের ক্রিকেট রাইভালরিতে  নতুন আগুন জ্বেলে দেয় পৃথিবীর সবচাইতে প্যাশনেট ক্রিকেট নেশন বাংলাদেশ । এত এত সমর্থন পাওয়া আর ক্রিকেটে গাঁটের এত এত টাকা খরচা করা একটা দলকে বাড়ি পাঠিয়ে যেনো অন্য কাউকে পাঠানোর চেয়ে অনেক বেশি তৃপ্তি পাওয়া যায় ।  আগুনটা আরো বাড়ে চার বছর পরে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর উপমহাদেশে ফিরলে… আর তাতে শুরুর ম্যাচটা যদি হয়  চার বছরের আগের হিসাবনিকাশ মেটানোর , তাহলে এক্সাইটমেন্টের ফুলকি আকাশে উড়া থেকে থামাবে কে ?

সাথে আছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের বিস্তার । ২০০৭ এর দগদগে জ্বালাটা ভারতীয়দের জন্যে আরো ব্যাথাতুর করার জন্যে মাঝের সময়টায় ঘটে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বাংলাদেশিদের চলতে থাকা ঠাট্টা-বিদ্রূপ । থামাতে কেউ পারেও নি । ৪ বছরের আগের কথাটা ভাবুন ! বাংলাদেশ-ভারত উদ্বোধনী ম্যাচটার আগে ঠিক কতোদিন  আপনার ২য় কোন কাজে মন বসে নি ? ম্যাচের রেজাল্ট যা-ই হোক , ম্যাচের আগের হাইপের কথাটা ভাবুন । ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কি এরচাইতেও বড় হয় ? আমার জানা নেই । অনেক কারণেই কেন জানি ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের একটা বড় অংশের ভাবনাটা এমনই , “উগান্ডার সাথে হার মেনে নেওয়া যাবে , কিন্তু ভারতের সাথে হার ? সেটা সবসময়ই বড্ড বেশি পোড়ায় । ”

গ্যালারিতে আসে এমন প্ল্যাকার্ডও
গ্যালারিতে আসে এমন প্ল্যাকার্ডও

অবশ্যি এই রাইভালরি যে একদিনে এখানে এসেছে ব্যাপারটা তা নয় । ওপাশের ক্রিকেট মহলে নভোজত সিং সিধু বা শেবাগের মত লোকেরা থাকায় রাইভালরি বাড়ে … সীমান্তের নির্মমতা তো ভারতের পতাকাকে উপরে রেখেই হয় ! এত লাশের কথা ভুলে কি খেলতে নামা যায় ? ভারতের ক্রিকেট দলটাও মাঠে খেলতে নামে ভারতের পতাকাটাকে সবার উপরে রেখেই । ২০১১ এর হারের পরে আমাদের এপাশ থেকে একটু যেনো ঝিমিয়েই পড়ি আমরা । কিন্তু আমাদের টাইগারেরা তা হতে দেবে কেনো ?

ইয়াহু
এশিয়া কাপে আরেকবার ভারতকে হারায় বাংলাদেশ

২০১২ এর এশিয়া কাপে আবারো সেই স্বাদ পায় বাংলাদেশ । সেই অমৃত ! হামবড়া ভারতীয়দের টুর্নামেন্টছাড়া করার স্বাদ । এবার টুর্নামেন্টের নাম এশিয়া কাপ । তারপরে একবার এশিয়া কাপে ওদের কাছে আমরা হেরেছিও । তবে দগদগে ঘা এর মাত্রাটা ওদের বড়ই হবার কথা । কারণটা জানেন ? ২০১২ তে বাংলাদেশের সাথে হারটাই ভারতকে ছিঁটকে দেয় এশিয়া কাপ থেকে ।  ২০১৪ তে আমরা হেরেছি বটে … কিন্তু শুধুমাত্র ঐ ম্যাচটাই আমাদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেয় নি । তাই ঐ হারটা নিয়ে আফসোসটা কম । ২০০৭ বিশ্বকাপে ৪ দলের গ্রুপে ভারতের জন্যে তার আগে একবার ভাগ্যনির্ধারক হয়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশ ম্যাচ ।

একটা তথ্য ভিতরটা খুব পোড়ায় । ১৯৮৮ সালে ভারতের  প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ । ১৯৯০ সালে খেলে ২য়টি । এতে পোড়ানোর কি আছে ? পোড়ানোর ব্যাপারটা হলো দুটো ম্যাচেই ম্যান অফ দি ম্যাচের নাম নভোজত সিং সিধু ।

আমাদের ক্রিকেটের হিস্ট্রিটা অতোটা লম্বা না । শচীন বা গাভাস্কারের মতো লিজেন্ড হয়তো পাই নি … কিন্তু আমাদের  মাশরাফি মুর্তজা আছে । যার ৮ বছর আগে বলা  “ধরে দিবানি” এখনো পুরো জেনারেশনকে উত্তাল করে তোলে … সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তার কভার ফটোতে ভরে যায় । কিছু কিছু ম্যাচের আগে দুই দলের শক্তিমত্তার হিসাব করতে যাওয়া বোকামি । লড়াইটাকে আসলে জমিয়ে দেয় দুই দেশের মানুষের আবেগ । সেখানটায় ১২০ কোটি লোকের কাছে ১৬ কোটি লোক হারবে না কোনভাবেই ! বরং দলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার হিসাব করলে জিতে যাবো আমরাই ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 − 6 =