শুধু নামেই “ঐতিহাসিক” না হোক ভারত সফর

নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম ভারতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, অন্যান্য সব দেশে খেলে ফেললেও প্রতিবেশি দাদাদের সাথে এটাই প্রথম। স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটমহলে ঘুরেফিরে “ঐতিহাসিক সিরিজ” কথাটা বেশ শোনা যাচ্ছে। সিরিজে একটিমাত্র টেস্ট খেলবে টাইগাররা। ভারতে প্রথম সিরিজ হিসেবে ঐতিহাসিক হলেও ফলাফলের দিক থেকেও সিরিজটি ঐতিহাসিক করার সুযোগ টাইগারদের সামনে। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের বদলা, কিংবা গত টি২০ বিশ্বকাপে ১ রানের আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ এই সিরিজটা।
সাধারণত ভারতের মাটিতে খেলতে আসা যেকোন দলই পিচ এবং কন্ডিশন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড পাঁচ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের চারটিতেই পরাজিত হয়েছে, যার মধ্যে দু’টি ছিল ইনিংস পরাজয়ে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড প্রায় প্রতিটি দলই ভারত সফরে এসে ভরাডুবির শিকার হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য পিচ কন্ডিশন কিছুটা অনুকূলেই বলা যায়।
ব্যাটিং বান্ধব ও স্পিন সহায়ক পিচই সচরাচর দেখা যায় ভারতে। স্পিন ডিপার্টমেন্টে সাকিব-তাইজুলের সাথে আছে তরুন তুর্কি মেহেদি হাসান মিরাজ। সাথে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পার্টটাইম অফস্পিনটাও দরকারী হবে এই সিরিজে। কিংবা আমাদের স্পিন অ্যাটাকের কথা ভেবে হালকা পেস সহায়ক পিচ করতে পারে তারা। সেক্ষেত্রে আমাদের অনভিজ্ঞ পেস অ্যাটাক হয়তো কিছুটা ভোগান্তির ব্যাপার হবে। তাসকিন, কামরুল রাব্বি, শুভাশিষ রয়ের সাথে এই সিরিজে থাকবেন শফিউল ইসলাম। সাথে মোহাম্মদ শহীদ বা মুস্তাফিজুর রহমানের কেউ একজন থাকলে হয়তো পেস ডিপার্টমেন্ট খানিকটা শক্তিশালী হতো। তবে ট্রাম্পকার্ড অবশ্যই স্পিনাররাই হবে এই সিরিজে।
ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞ তামিম, সাকিব, রিয়াদ, মুশফিক, মমিনুলদের পাশাপাশি নতুন সাব্বির লিটনদের নিজেদের ভুমিকা পালন করা লাগবে। ভারতের স্পিন অ্যাটাক সামাল দিতে পারলে খুব বেশি অসুবিধা হবেনা আশা করা যায়। একমাত্র টেস্ট ম্যাচে পার্থক্য করে দিতে পারে দুই দলের ব্যাটিং পার্ফরমেন্সই। আশা করা যায় ব্যাটসম্যানদের থেকে প্রত্যাশামত পার্ফরমেন্স পাওয়া যাবে ,ব্যাটসম্যানরাও মুখিয়ে থাকবে অবশ্যই। গত টি২০ বিশ্বকাপে ২ রান নিতে না পারার আক্ষেপ মেটানোর সুযোগে নিশ্চিতভাবেই তেঁতে থাকবেন মুশফিক কিংবা রিয়াদ।
ব্যাটিং বোলিংয়ের পাশাপাশি খুব গুরুত্বপুর্ন হবে ফিল্ডিং এই সিরিজে। সাম্প্রতিক চান্স মিসের মহড়া এই সিরিজেও চললে অনেকটাই পিছিয়ে পড়া লাগবে, সাথে হাফ চান্সগুলো নেয়া বা গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে আরো ভালো করা দরকার।

সম্প্রতি দাদাদের সাথে ক্রিকেটীয় সুসম্পর্ক দৃশ্যত খুব একটা দেখা যায়না। তার উপর দুই দেশের দর্শকদের মধ্যে সাপেনেউলে সম্পর্ক ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক গনমাধ্যমে প্রায়ই চোখে পড়ে, বিশেষ করে বিভিন্ন ট্রলপেজগুলায়। সবকিছুর জবাব দেয়ার মোক্ষম সুযোগ এই সিরিজ। যদিও টেস্টে টাইগারদের র্যাং কিং কিংবা ফলাফল দুটোই খুবই হতাশাজনক, তবুও সাম্প্রতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় কিংবা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্টের পার্ফরমেন্স অবশ্যই অনুপ্রেরনা যোগাবে টাইগারদের।
সকল সমালোচনার জবাব দেয়া হোক মাঠেই। ভারত সফর শুধু নামে না, ফলাফলেও ঐতিহাসিক হোক।
উল্লেখ্য, আগামী ৯ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত হবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্টটি। সিরিজ সামনে রেখে আজ দেশ ছেড়েছে টাইগাররা।

শুভকামনা টাইগারদের জন্য।

দৌড়া বাঘ আইলো

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 − 8 =