শরিফের ঝলক

২-৩ জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সঙ্গে একদমই তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দল। অনুশীলন হয় দায়সারা। ক্রিকেটাররা পায় না পর্যাপ্ত খাবার, ভালো থাকার জায়গা। লিগের সবচেয়ে ছোট বাজেটের দল, তার পরও ক্রিকেটাররা পায়নি টাকা। সেই সিসিএসই জন্ম দিল এবারের ঢাকা লিগের অন্যতম অঘটন!

ম্যাচটি জিতলেই এককভাবে শীর্ষে উঠে যেত ভিক্টোরিয়া। তাদেরকেই হারিয়ে ছিল তলানির দল সিসিএস। কোনো রকমে হারানো নয়, দাপট দেখিয়ে বড় ব্যবধানের জয়। রাজিন সালেহর নেতৃত্বে এক ঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারের দল, সাইফ-সালমান-পিনাক-নাসুম-সাঈদ-শাওন গাজীদের অভিনন্দন। আশা করি, অন্তত প্রথম ভাগের ৩০ শতাংশ টাকা এবার অন্তত ছেলেগুলি পাবে!

৫ ওভারে চাই ২৫ রান, হাতে ৭ উইকেট। দারুণ এক সেঞ্চুরি করে উইকেটে আছেন একজন। এই ম্যাচ চাইলেও হারা যায় না। কিন্তু ব্রাদার্সের এই অসম্ভবকেও সম্ভব করে হেরেছে কালাবাগান ক্রীড়া চক্র। ১৫ রানে হারিয়েছে শেষ ৭ উইকেট!

ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তার কথা বলা যায়। কিন্তু আসলে যেটা হয়েছে, সেটা টোটাল সেন্সলেস ক্রিকেট। যদি এমন হতো যে কোনো ফাস্ট বোলার বিধ্বংসী এক স্পেলে গুড়িয়ে দিয়েছে বা তুখোড় কোনো স্পিনার জাদুকরি ঘূর্ণিতে জিতিয়েছে, তাহলে খুশি হওয়ার উপকরণ মিলত অবশ্যই। সেটা হয়নি। আসিফ হাসান, কোথাকার কোন মিলিন্দ কুমার, আর সাদেকুরের নির্বিষ স্পিনে কলাবাগানের একের পর এক ব্যাটসম্যান আত্মহত্যা করে প্রতিপক্ষকে জয় উপহার দিয়ে এসেছে। রান আউট, বেরিয়ে এসে স্টাম্পড, এমনকি রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে। মেহরাব, তানভীর, শরিফুল্লাহর মত ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞদের একজনও এই কাজটুকু করতে পারল না।

এই দলটি এর আগে দোলেশ্বরের বিপক্ষে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৭ বলে ৯ রান করতে পারেনি। ইউ গট টু ফিল ফর ম্যাশ। সে আর মাসাকাদজাই যা যতটুকু টেনেছে দলকে। একটি ফিফটি করতে পারেনি সাদমান, ৭ ইনিংসে ৬ বার ৩০ পেরিয়ে একটেও ফিফটি করতে পারেনি তাসামুল। এখন রেলিগেশন ফাইট দিতে হচ্ছে।

চিরতরুণ মোহাম্মদ শরিফের হ্যাটট্রিক দিনের অন্যতম হাইলাইট। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসা-ডেডিকেশন, এখনও তাঁর অ্যাপ্রোচ-অ্যাটিটিউড যে কোনো তরুণ ক্রিকেটারের জন্য হতে পারে আদর্শ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × three =