লেওন গোরেতজকা : বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডে জার্মান তারুণ্য

লেওন গোরেতজকা : বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডে জার্মান তারুণ্য

জার্মান কোন মিডফিল্ডার ভালো খেললেই তাঁর ক্যারিয়ারের কোন না কোন অংশে তাঁকে পাওয়ার জন্য বায়ার্ন মিউনিখ চেষ্টা করবেই, ভালো যেকোন জার্মান মিডফিল্ডার কখনো না কখনো বায়ার্নে খেলবেই – এটাই যেন নিয়তি! সেই ধারার ব্যতিক্রম ঘটলোনা প্রতিভাবান জার্মান তরুণ মিডফিল্ডার লেওন গোরেতজকা এর ক্ষেত্রেও। শালকে ০৪ এর এই প্রতিশ্রুতিশীল মিডফিল্ডার গত দুই এক মৌসুম ধরেই ভালো খেলে নিজেকে পরিচিত করে তুলছেন ফুটবল বিশ্বের কাছে। তারই ফলশ্রুতিতে সামনের মৌসুম থেকে বায়ার্নে খেলতে যাচ্ছেন গোরেতজকা।

শালকের সাথে চুক্তি শেষ হবার আর মাত্র ছয়মাস বাকী গোরেতজকা এর। যে খেলোয়াড়েরই চুক্তির আর মাত্র ছয়মাস বাকী থাকে, সে চাইলেই চুক্তি শেষ হবার পর পরবর্তীতে কোন ক্লাবে যোগ দিবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে অন্যান্য আগ্রহী ক্লাবের সাথে কথা বলে। গোরেতজকা এর ক্ষেত্রেও এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি। জার্মান এই মিডফিল্ডারকে দলে পেতে উঠেপড়ে লেগেছিল লিভারপুল, আর্সেনাল, বার্সেলোণার মত ক্লাবও – বিশেষ করে লিভারপুল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোরেতজকা কে পাওয়ার লড়াইয়ে জিতলো বায়ার্নই। যেকোন তরুন জার্মান ফুটবলারেরই ইচ্ছা থাকে ক্যারিয়ারের কোন একটা অংশে বায়ার্ন মিউনিখে খেলার। গোরেতজকার ও তাই ছিল। তাই বায়ার্নের সাথে চার বছরের চুক্তি করেছেন তিনি, যে চুক্তির মেয়াদ শুরু হবে আগামী ১ জুলাই থেকে।

২২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার এর মধ্যেই শালকের হয়ে খেলে ফেলেছেন শতাধিক ম্যাচ। ১০১ বুন্দেসলিগা ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন তিনি শালকের হয়ে। এর মধ্যে এই মৌসুমেই শালকের হয়ে গোল করেছেন ৪টা, ২০১৭ সালে জার্মানির হয়ে গোল করেছেন ছয়টার মত। তাঁর একের পর এক ভালো পারফরম্যান্সের জোরেই তাঁকে অনেক সময়েই বলা হয়ে থাকে “পরবর্তী মাইকেল বালাক”। কিন্তু আসলেই কি গোরেতজকা পরবর্তী মাইকেল বালাক হতে পারবেন? বায়ার্ন মিডফিল্ডে কি যোগ করতে পারবেন তিনি?

তারায় ঠাসা বায়ার্ন মিউনিখ মিডফিল্ডে এর মধ্যেই আছেন চিলিয়ান সুপারস্টার আর্তুরো ভিদাল, স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জাভি মার্টিনেজ ও থিয়াগো আলকানতারা, ফরাসী মিডফিল্ডার কোরেন্তিন তোলিসো, জার্মান মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়ান রুডি, কলম্বিয়ান সুপারস্টার মিডফিল্ডার হামেস রড্রিগেজ। এই মিডফিল্ডারদের ভিড়ে গোরেতজকা এর কি আদৌ জায়গা হবে?

লেওন গোরেতজকা কে মূলত একজন বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার বলা যেতে পারে, যে মিডফিল্ডার মাঝমাঠ থেকে প্রায়ই প্রতিপক্ষের ডিবক্সে উঠে যান গোল করার জন্য, কিংবা নিজের ডি-বক্সে প্রয়োজনমত নেমে যেতে পারেন প্রতিপক্ষের আক্রমণকে নস্যাৎ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। ডি-বক্সে প্রায়ই উঠে গিয়ে গোল করার স্বভাব আছে তাঁর, আবার মাঝমাঠে বসে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আস্তে আস্তে নিজে আক্রমণ রচনাও করেন তিনি, একটা আদর্শ বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডারের মত। যে গুণাবলি আমরা আগে শুনে এসেছি লোথার ম্যাথাউসের ছিল, কিংবা ইয়োহান নিসকেন্সের ছিল। যে গুণাবলি স্টিভেন জেরার্ড বা মাইকেল বালাকের ছিল। কিংবা এখন বায়ার্নেরই আর্তুরো ভিদাল, ম্যানচেস্টার সিটির ইয়ায়া ত্যুরে ও ইলকায় গুন্ডোগান, রোমার রাজ্জা নাইঙ্গোলান কিংবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পল পগবার রয়েছে।

গোরেতজকার সবচেয়ে বড় গুণ বোধহয় তাঁর বিভিন্ন পজিশনে খেলতে পারার ক্ষমতাটা। ৪-৩-৩ ফর্মেশানে মিডফিল্ডের তিন পজিশানের যেকোনটায় খেলতে পারেন তিনি অনায়াসে। খেলতে পারেন ৪-২-৩-১ ফর্মেশানে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার কিংবা সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও। দূর থেকে শুট করে গোল করে পারার ক্ষমতা, ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা হবার কারণে সেটপিসে হেড করে গোল করার ক্ষমতা তাঁর আছে যথেষ্ট। শালকে তে খেলার সময় তিনি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, রাইট উইঙ্গার – সব পজিশনেই খেলেছেন। কারণ গোরেতজকার স্টাইলটাই এরকম, একজন আদর্শ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের চেয়ে ট্যাকটিক্যালি বেশী নিখুঁত, প্রায় একজন আদর্শ “নাম্বার টেন” বা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের মত। তাঁর খেলার কোন খুত থেকে থাকলে সেটা হল তাঁর ক্রস না করতে পারাটা। উইঙ্গার হিসেবে কাজ চালানো খেলা দিতে পারলেও তাঁকে প্রথাগত উইঙ্গার হিসেবে একেবারেই খেলানো যায় না, কারণ তাঁর ক্রসিং বেশ খারাপ।

২০১৪ থেকে ২০১৫ এর মধ্যে মোটামুটি ৪৬টা ম্যাচ তিনি খেলতে পারেননি শালকের হয়ে, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে। এই সমস্যাগুলো সমাধানকল্পে তিনি তাঁর পুরো খাদ্যতালিকাতেই পরিবর্তন এনেছিলেন! বন্ধ করে দিয়েছিলেন শূকরের মাংস, গরুর দুধ, বাদাম – ইত্যাদি খাওয়া! ফলও পেয়েছিলেন হাতেনাতে, যার প্রভাব আমরা এখন সবাই-ই দেখছি, জার্মান মিডফিল্ডের এখন অন্যতম ভরসা তিনি।

গোরেতজকার বায়ার্নে আসা মানে দল থেকে এবার আস্তে আস্তে জায়গা হারাতে পারেন আর্তুরো ভিদাল। ভিদালের পরিবর্ত হিসেবে দলে এসে সেরকম পারফর্ম করতে পারবেন তো গোরেতজকা? সময়ই দেবে তার উত্তর!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 + fifteen =