লুকাস সিলভা এবং রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডে সাম্বার ছন্দ

লুকাস সিলভা বোর্গেস। ভবিষ্যৎ ফুটবল বিশ্ব শাসন করতে পারবে এমন কিছু সেরা তরুন খেলোয়াড়ের একটা তালিকা করতে বললে তাঁর নাম সেখানে নিশ্চিতভাবেই আসবে। জন্ম ব্রাজিলে; খেলেন সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। বয়স সবে ২১ হলেও পায়ে সেই চিরাচরিত ব্রাজিলিয়ান ছন্দের ছাপ। মাঠে খেলার নিয়ন্ত্রন নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারেন, ৩০-৪০ মিটার দূর পর্যন্ত দুর্দান্ত সব পাস তো আছেই সাথে আবার যোগ করুন যেকোন জায়গা থেকে শুটিং এর দক্ষতা। এককথায় পারফেক্ট সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার যাকে যেকোন দলই লুফে নিতে চাইবে। নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর হিসেবে ইতোমধ্যে ব্রাজিল অনূর্ধ্ব ২১ দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে গেছেন। খেলতেন ব্রাজিলিয়ান সিরি আ লিগের দল ক্রুজেইরোর হয়ে। ২০১৪ সালে দলকে লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন। জায়গা পেয়েছেন লিগের সেরা একাদশে এবং একই সাথে মনোনীত হয়েছেন লিগের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারও।

সাবেক ক্লাব ক্রুজেইরোর হয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটছেন লুকাস সিলভা
সাবেক ক্লাব ক্রুজেইরোর হয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটছেন লুকাস সিলভা

মূলত এতকিছু করাতেই তাঁর উপর চোখ পড়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের। গত বছর থেকেই গুঞ্জন চলছিল যে রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে কিনবে। অবশেষে সমস্ত গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে জানুয়ারির ২৪ তারিখে ১৪ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে সাড়ে পাঁচ বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেন লুকাস সিলভা।

রিয়াল মাদ্রিদে যোগদান করার পর সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি মাথায় আসে তা হল দলে তিনি কি ভুমিকা পালন করবেন? রিয়াল মাদ্রিদে ইতোমধ্যে তাঁর পজিশনে খেলার জন্য টনি ক্রুস, স্যামি খেদিরা, লুকা মদ্রিচ, আসিয়ের ইয়ারামেন্দি, আলভারো মেদ্রানরা আছেন। তাহলে কেন এই সাইনিং? এই সাইনিং মূলত করা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। স্যামি খেদিরা খুব সম্ভবত রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়বেন। লুকা মদ্রিচ এই মৌসুমে ৩০ এ পা রাখবেন। আলভারো মেদ্রান এখনও বেশ তরুন আর আসিয়ের ইয়ারামেন্দির উপর ভরসা করাটা অ্যানচেলত্তির জন্য প্রতিনিয়তই কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ব্রাজিলের জার্সিতে লুকাস সিলভা
ব্রাজিলের জার্সিতে লুকাস সিলভা

ইয়ারামেন্দিকে গত বছর ৩২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে ক্রয় করা হলেও নিজের নামের প্রতি তিনি সুবিচার করতে পারেননি। আর তাছাড়া রিয়াল মাদ্রিদ দলে কাগজে কলমে কোন দক্ষ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারও নেই। লুকা মদ্রিচ ডিফেন্স থেকে অ্যাটাক করতে বেশী পছন্দ করেন। অন্যদিকে ক্রুস বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও ঠিক গত মৌসুমেও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তিনি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন। আর রিয়াল মাদ্রিদে এখন মাঝমাঠে পারফর্মার বলতে শুধুই মদ্রিচ আর ক্রুস। বাকিরা তেমন কিছু করে দেখাতে পারছেন না। আবার লুকা মদ্রিচ ইঞ্জুরিতে পড়াতে দলের মিডফিল্ডে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। আর তাই মদ্রিচের অনুপস্থিতিতে ক্রুস কোন বিশ্রাম ছাড়াই যে হারে মাদ্রিদের হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলে যাচ্ছেন, আসন্ন দিনগুলোতে যে এর জন্য তিনিও ইঞ্জুরিতে পড়ে যাবেন না তার নিশ্চয়তা কি? তো এতসব চিন্তা থেকেই রিয়াল মাদ্রিদে একজন ন্যাচারাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের খুব দরকার হয়ে পড়েছিল। আর তারই অংশ হিসেবে মাদ্রিদে পা রাখলেন লুকাস সিলভা। তিনি মাদ্রিদে আসাতে এখন ক্রুসও কিছুটা বিশ্রাম পাবেন। আবার লুকাস সিলভা পিওর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললে ক্রুস কিছুটা অ্যাটাকেও উঠতে পারবেন। এককথায় দলের মাঝমাঠে বেশ দারুণ একটা ভারসাম্য আসবে।

26jan2015---lucas-silva-beija-o-simbolo-do-real-madrid-ao-ser-apresentado-para-torcedores-no-estadio-santiago-bernabeu-1422280949385_1920x1080
পারবেন তিনি রিয়ালের হয়ে আলো ছড়াতে?

তবে গত ১০ বছরে তাঁর মত আরও ১৭ জন দুর্দান্ত প্রতিভাসম্পন্ন মিডফিল্ডার রিয়াল মাদ্রিদে পা রেখেছিলেন যাদের মধ্যে শুধুমাত্র জাবি আলন্সো, মদ্রিচ আর ক্রুস ছাড়া আর কেউই তাঁদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ফার্নান্দো গ্যাগো, লাসানা দিয়ারা, নুরি শাহিন, এমারসন, গ্রেভসেন, পাবলো গারসিয়া, গ্রানেরো, জাভি গারসিয়া, এসিয়েন আর হালের আসিয়ের ইয়ারামেন্দি। তবে লুকাস সিলভা কি পারবেন নিজেকে প্রমাণ করতে?

তাঁর সাবেক ক্লাব ক্রুজেরিওর কোচ মার্সেলো অলিভিয়েরা কিন্তু বেশ আশাবাদী। তাঁর মতে কার্লো অ্যানচেলত্তি নাকি রিয়াল মাদ্রিদে একটা হীরার টুকরা হাতে পেয়েছেন! এখন তাহলে দেখাই যাক এই হীরার টুকরা মাদ্রিদে নিজের স্বাক্ষরতা রেখে যেতে পারেন কিনা। বাকিটা শুধু সময়ই বলে দিবে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 − four =