লিভারপুল-রিয়াল মাদ্রিদ : কি হয়েছিল এদের মধ্যকার শেষ ফাইনালে?

এখন যে প্রতিযোগিতাকে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগ বলে জানি, ১৯৯৩ সালের আগ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতাকে সবাই ইউরোপিয়ান কাপ বলেই জানত। এই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেই আজ রাতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ আর লিভারপুল। ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই ক্লাব প্রতিযোগিতার সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদ, ১২ বার শিরোপা জয় করেছে তারা। আর ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী শিরোপা জয় করেছে এই লিভারপুল, ৫ বার এই ট্রফির স্বাদ পাওয়া হয়েছে তাদের।

তবে ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ এই আসরের ফাইনালে এটাই কিন্তু এই দুই সফল দলের সর্বপ্রথম দেখা নয়! ১৯৮১ সালে প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেস এ ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই পরাশক্তি। কি হয়েছিল সেই ম্যাচের ফলাফল? আসুন দেখে নেওয়া যাক!

১৯৮১ সালের সেই ফাইনালের আগে রিয়াল মাদ্রিদ আরও আটবার এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলেছিল, যার মধ্যে জিতেছিল ছয়বার, আর হেরেছিল দুইবার। ওদিকে ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালের পর এটা ছিল ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে লিভারপুলের তৃতীয় উপস্থিতি। আগের দুইবারই ফাইনালে জিতেছিল তারা।

gollachhut.com

সেবার লিগে লিভারপুল পঞ্চম হয়ে মৌসুম শেষ করেছিল। তাই পরের বছরের ইউরোপিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়ার জন্য লিভারপুলকে ফাইনালটা জিততেই হত। আর ওদিকে রিয়াল সোসিয়েদাদের পিছে থেকে মৌসুম শেষ করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, যার ফলে পরের মৌসুমের ইউয়েফা কাপে এমনিতেই জায়গা করে নিয়েছিল তারা, তবে পরের মৌসুমের ইউরোপিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়ার জন্য এই প্রতিযোগিতাটা জেতাই লাগত তাদের। দুই দলেরই ইঞ্জুরি সমস্যা ছিল ফাইনালের আগে, লিভারপুলের দুই মূল খেলোয়াড় অ্যালান কেনেডি আর কেনি ডালগ্লিশ ইনজুরিতে পড়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন। রিয়াল চিন্তিত ছিল তাদের ইংলিশ স্ট্রাইকার লরি কানিংহ্যামকে নিয়ে। যদিও পরে এই তিনজনের প্রত্যেকেই ফাইনাল খেলেছিলেন। দেখে নেওয়া যাক কে কে খেলেছিলেন এই দুই দলের হয়ে!

লিভারপুল

  • গোলরক্ষক – রে ক্লেমেন্স
  • রাইটব্যাক – ফিল নিল
  • লেফটব্যাক – অ্যালান কেনেডি
  • সেন্টারব্যাক – ফিল থম্পসন
  • সেন্টারব্যাক – অ্যালান হ্যানসেন
  • লেফট মিডফিল্ড – রে কেনেডি
  • রাইট মিডফিল্ড – স্যামি লি
  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ড – টেরি ম্যাকডারমট
  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ড – গ্রায়েম সউনেস
  • স্ট্রাইকার – ডেভিড জনসন
  • স্ট্রাইকার – কেনি ডালগ্লিশ

রিয়াল মাদ্রিদ

  • গোলরক্ষক – অগাস্টিন রড্রিগেজ
  • রাইটব্যাক – রাফায়েল গার্সিয়া কোর্তেস
  • সেন্টারব্যাক – আন্তোনিও গার্সিয়া নাভায়াস
  • সেন্টারব্যাক – অ্যান্দ্রেস সাবিদো
  • লেফটব্যাক – হোসে আন্তোনিও কামাচো
  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ড – ভিসেন্তে দেল বস্ক
  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ড – উলি স্টিয়েলিক
  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ড – অ্যানহেল দে লস সান্তোস
  • স্ট্রাইকার – সান্তিলানা
  • রাইট উইঙ্গার – হুয়ানিতো
  • লেফট উইঙ্গার – লরি কানিংহ্যাম

দুই দলের ফর্মেশন ছিল দুই ধরণের। লিভারপুল যেখানে চিরাচরিত ৪-৪-২ ফর্মেশনে মাঠে নেমেছিল, সেখানে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে নিজেদের সাজিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমে খেলার গতি লিভারপুল নিয়ন্ত্রণ করলেও আস্তে আস্তে রিয়াল মাদ্রিদ নিয়ন্ত্রণটা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। হুয়ানিতো, কামাচো বেশ যন্ত্রণা দিচ্ছিলেন সেদিন লিভারপুল ডিফেন্সকে। কিন্তু ইংলিশ স্ট্রাইকার লরি কানিংহ্যাম সেদিন লিভারপুলের বিপক্ষে ভালো খেলতে পারেননি, এক পিছে কারণ ছিল তিনি সদ্য ইনজুরি ফেরত, আর তাঁকে বেশ কড়া মার্কিংয়ে রেখেছিল লিভারপুল। আর ওদিকে বেশ কটা সুযোগ পাওয়ার পরেও গোল করতে ব্যর্থ হন লিভারপুলের স্ট্রাইকার কেনি ডালগ্লিশ ও মিডফিল্ডার টেরি ম্যাকডারমট।

চূড়ান্ত ট্যাকটিকাল লড়াইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিল সেদিন লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদ, কেউ কাউকে পরাস্ত করতে পারছিল না। অবশেষে ৮১ মিনিটে লেফট মিডফিল্ডার রে কেনেডির একটা থ্রো ইন থেকে বল পেয়ে রিয়াল রাইটব্যাক রাফায়েল গার্সিয়া কোর্তেস কে পরাস্ত করে বল নিয়ে বিপজ্জনক সীমায় ঢুকে যান লিভারপুল লেফটব্যাক অ্যালান কেনেডি। রিয়াল গোলরক্ষক অগাস্টিন রড্রিগেজকে পরাস্ত করে ম্যাচের প্রথম ও একমাত্র গোল করেন অ্যালান কেনেডি। সেই এক গোলের উপর ভর করেই নিজেদের ইতিহাসের তৃতীয় ইউরোপিয়ান কাপ ঘরে তোলে লিভারপুল, আর একমাত্র ব্রিটিশ ম্যানেজার হিসেবে তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের রেকর্ড গড়েন লিভারপুল ম্যানেজার বব পাইসলি!

https://www.youtube.com/watch?v=2Y5XH1zEaio&t=134s

আজকে কি লিভারপুল আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবে? না ইতিহাস নতুন করে রচনা করবে সর্বজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ?

gollachhut.com

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 1 =