লিভারপুল থেকে বিদায়!

একই কথা। বারবার।

একই ফল। বারবার।

গত চব্বিশ বছর ধরে অনতিক্রমণীয় এই চক্রের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে লিভারপুল। মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড খসিয়ে খেলোয়াড় কিনলেও লিগ শিরোপা থেকে যাচ্ছে অধরা। ট্রফির আশায় ক্লাব থেকে চলে যাচ্ছে পারফর্মাররা, তাদের জায়গা পূরণ করা হচ্ছে নতুন খেলোয়াড়দের দিয়ে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই যেই নতুন খেলোয়ড়েরা হয় আনকোরা, কিংবা ফ্লপ। ব্যতিক্রম ছিলনা গত বছরও। প্রায় ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ড নতুন খেলোয়াড়দের পেছনে খরচ করলেও লাভের গুড় আর খাওয়া হয়নি, ট্রফির স্বাদ আর পাওয়া হয়নি। ছাঁটাই হতে হতে বেঁচে গেছেন কোচ ব্রেন্ডান রজার্স।

ফলাফল – আবারও নতুন করে স্কোয়াডের ফর্মুলা খোঁজার চেষ্টা, আবারও কিছু খেলোয়াড়ের যাওয়া-আসা। দেখে নেওয়া যাক এই মৌসুমে ক্লাব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন কে কে বা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কার কার –

=> স্টিভেন জেরার্ড

প্রায় ১৭ বছর একটা ক্লাবের ফুসফুস হয়ে থাকার পর, ১৭ বছর ধরে লিভারপুলের ভার নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াবার পর ক্লাব ছেড়েছেন লিভারপুলের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় – স্টিভেন জেরার্ড। আটলান্টিকের ওপারে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সীর হয়ে পরের মৌসুম থেকে তিনি যখন মাঠ মাতাবেন, অ্যাটলান্টিকের এপারে লিভারপুল অবশ্যই অনুভব করবে তাঁর অপূরণীয় শূণ্যতা।

image-11-for-steven-gerrard-s-liverpool-fc-career-in-pictures-gallery-289943270

=> গ্লেন জনসন

গত ছয়বছর ধরে ডিফেন্সের ডানদিকে লিভারপুলের অন্যতম ভরসার নাম এই গ্লেন জনসন – ক্লাব নতুন চুক্তি অফার না করায় ক্লাব ছেড়েছেন তিনিও। তাঁকে নেওয়ার দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছে তাঁর সাবেক ক্লাব ওয়েস্টহ্যাম, এদিকে তিনি নিজে তুর্কি ক্লাব বেসিকতাসে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

hi-res-16858dbe9aee6983a9bc2b45b146f468_crop_north

=> ব্র্যাড জোন্স

গোলরক্ষক সিমোন মিনিওলেইয়ের ব্যাকআপ, যিনি কিনা কখনই লিভারপুলের মত ক্লাবকে রিপ্রেজেন্ট করার মত অত ভালো ছিলেন না। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে লিভারপুলের ব্যাকআপ গোলরক্ষকগুলো কখনই সেরকম আহামরি কিছু ছিলেন না ; জের্জি দুদেক ও পেপে রেইনা ছাড়া। স্কট কারসন, ক্রিস কার্কল্যান্ড, দোনি, ডিয়েগো ক্যাভালিয়েরি, চার্লস ইতাঁদজে – এই লিস্টেরই আরেক নাম এই ব্র্যাড জোন্স। ক্লাব ছেড়েছেন তিনিও। ওয়েস্টব্রমে যোগ দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

jones_1488823a

=> ফ্যাবিও বোরিনি

ইতালিয়ান এই তরুণ স্ট্রাইকার ছিলেন ব্রেন্ডান রজার্সের সর্বপ্রথম সাইনিং। ১০.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে রোমা থেকে আসা এই স্ট্রাইকার কখনই নিজের জায়গা পোক্ত করতে পারেননি দলে। ফলাফল, এক মৌসুম স্যান্ডারল্যান্ডে ধারে ছিলেন, গত মৌসুমে নিজের জেদে থেকে গেছেন লিভারপুলে, লাজিওর ভালো অফার থাকা সত্বেও। অবস্থার পরিবর্তন হয়নি কোন। এই মৌসুমেও তিনি একই পরিস্থিতিতে, এবার আর জেদে কাজ হবেনা ; বোধহয় তিনিও বুঝেছেন, ক্লাব ছাড়ছেন তিনিও। যেতে পারেন সাম্পদোরিয়া, ইন্টার মিলান বা বোলোনিয়াতে।

LIVERPOOL, ENGLAND - Thursday, August 9, 2012: Liverpool's Fabio Borini celebrates scoring the opening goal against FC Gomel on his home debut during the UEFA Europa League Third Qualifying Round 2nd Leg match at Anfield. (Pic by David Rawcliffe/Propaganda)

=> হোসে এনরিকে

লিভারপুলের হয়ে নিজের প্রথম মৌসুমে ছিলেন ফ্যান কর্তৃক নির্বাচিত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়। তারপর থেকে হোসে এনরিকের কাহিনী শুধুই অবনতির। ইনজুরিতে পড়তে পড়তে আর সেলফি তুলতে তুলতে কখন যে লিভারপুলের মূল একাদশ থেকে অচ্ছুৎ হয়ে গেছেন মনেহয় নিজেও বলতে পারবেন না। একাদশে তাঁর জায়গা নিয়ে নিয়েছেন আলবার্তো মোরেনো, জন ফ্ল্যানাগানের মত তরুণেরা, এমনকি গ্লেন জনসনও খেলেছেন লেফটব্যাকে! এই মৌসুমে এনরিকে চলে গেলে তাই আশ্চর্যের থাকবে না কিছুই।

Jose-Enrique

=> সেবাস্তিয়েন কোয়াতেস

উরুগুইয়ান এই সেন্টারব্যাক ছিলেন ২০১১ কোপা আমেরিকার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। কিন্তু লিভারপুল ক্যারিয়ারটা তাঁর জন্য অতটা ফুলে ফুলে সজ্জিত ছিল না। বারবার ধারে খেলতে গেছেন ন্যাসিওনালে, স্যান্ডারল্যান্ডে। গত মৌসুমে ধারে স্যান্ডারল্যান্ডে খুব ভালো খেলার পর এই মৌসুমে স্যান্ডারল্যান্ড পাকাপাকিভাবে চাচ্ছে তাঁকে। তাই চলে যেতে পারেন তিনিও।

hi-res-150281200_crop_north

=> ইয়াগো আসপাস

দুই বছর আগে স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকার যখন লিভারপুলে আসলেন তাঁকে বলা হচ্ছিল গরীবের লুইস সুয়ারেজ। ঐ পর্যন্তই। লিভারপুলে টিকতে না পেরে এই মৌসুমে আবার চলে গেছেন সাবেক ক্লাব সেল্টা ভিগোতে, ৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে।

aspas1

=> লুইস আলবার্তো

লুইস আলবার্তো সুয়ারেজের নামের সাথে মিল আছে তাঁর নামের। ঐটুকুই। ক্লাবে প্রথম মৌসুমে আসপাসের সাথে এসে কিছু করতে পারেন নি, ধারে মালাগাতে খেলতে গেছেন দ্বিতীয় মৌসুমে। এবার পাকাপাকিভাবে ক্লাব ছাড়ার অপেক্ষায়।

Luis-Alberto_3035100

=> লুকাস লেইভা

আটবছর আগে ক্লাবে এসেছিলেন অ্যাটাকিং মিড হিসেবে। কালের বিবর্তনে হয়ে গেছেন পুরোদস্তুর ডেস্ট্রয়ার মিডফিল্ডার, লিভারপুলের একমাত্র সো কলড ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। কখনই সেরকম বিশ্বজয়ী কোন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ছিলেন না রয় কিন, প্যাট্রিক ভিয়েরাদের মত, কিন্তু যেহেতু স্কোয়াডে তিনিই ডিফেন্সিভ মিড ছিলেন, তাই তাঁকে দিয়ে কাজ চালাতে হত এতকাল। এবার ক্লাব ছাড়তে পারেন এই লুকাসও। কারণ তাঁর থেকে ভালো কোন ডিফেন্সিভ মিড না আনলে ক্লাবের ফলাফলেরও বিশেষ কোন উন্নতি হবে না।

lucas-leiva

=> টিয়াগো ইলোরি

২০১৩ তে স্পোর্টিং লিসবন থেকে দলে আসা এই সেন্টারব্যাক দলে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি, ঐ মৌসুমেই ধারে খেলতে গেছিলেন গ্রানাডাতে, আর সর্বশেষ মৌসুমে বোর্দোতে। লিভারপুলে থাকার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে।

tiago-ilori-liverpool_3010266

=> রাহিম স্টার্লিং

লিভারপুল ক্লাব ছেড়ে স্টার্লিংয়ের চলে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটা বিড আসলেই লিভারপুল তাঁকে ছেড়ে দেবে। ম্যানচেস্টার সিটি মোটামুটি ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিড দিয়েছে একটা। তাই আগামী মৌসুমে স্টার্লিংকে আকাশী কিটে দেখার সম্ভাবনাই প্রবলতর।

28ca75cce01c74f372d9bf057dadb895_crop_north

=> রিকি ল্যাম্বার্ট

গত মৌসুমেই সাউদাম্পটন থেকে আসা এই লিভারপুল ভক্ত স্ট্রাইকারের প্রথম মৌসুমটা রূপকথার মত হয়নি, ফলে ক্লাব থেকে চলে যেতে পারেন তিনিও। চাচ্ছে বোর্নমাথ, অ্যাস্টন ভিলার মত ক্লাব।

Liverpool-v-Middlesbrough-Capital-One-Cup-Third-Round

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

6 + 4 =